পর্দার আড়ালে নির্বাচন নিয়ে সমঝোতা হচ্ছে !

 

ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) চলতি বছরের অক্টোবরে এই নির্বাচনের তফসিল দেয়ার কথা জানিয়েছে।

ইসির ঘোষণার পরই এই নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন আর কৌতূহল শুরু হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নাকি বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন, কারা আসছে বিরোধী দলে- এসব প্রশ্নের উত্তর সরাসরি পাওয়া না গেলেও ইতোমধ্যে নির্বাচন নিয়ে পর্দার আড়ালে সমঝোতার আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্রের দাবি, এ আলোচনার নেপথ্যের নায়কেরা সমঝোতার স্পষ্ট আভাস পেয়েই সক্রিয় হয়েছেন। যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরাসরি এ ধরনের কোনো তৎপরতার কথা স্বীকার করছে না।

সূত্র মতে, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে আনতে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ্য আলোচনার পাশাপাশি ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকেও অপ্রকাশ্যে আলোচনা চলছে। পর্দার আড়ালে রাজনৈতিক আলোচনায় সমঝোতা হলে প্যারোলে বা স্বাভাবিকভাবে মুক্তি পেতে পারেন খালেদা জিয়া।

তবে ওই মুক্তিতে থাকবে একগুচ্ছ শর্ত; এর মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ না নেয়াসহ বেশকিছু স্পর্শকাতর শর্তও থাকবে। তবে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নিতে পারা বা না পারার বিষয়টি আদালতের ঘাড়েই থাকবে।

একটি সূত্র বলছে, এ নিয়ে ইতোমধ্যে বিএনপির অর্ধডজন নেতা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। আলোচনা সমঝোতার পর্যায়ে গেলে খালেদা জিয়ার মুক্তির মধ্য দিয়ে এর কার্যকারিতা শুরু হবে।

গত ২ মে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও কিছুটা নমনীয় মনে হয়েছে। সেদিন বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ আসলে তিনি তাকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ সম্বোধন করেন।

এর পরের দিন ৩ মে সচিবালয়ে বিএনপির একাংশকে নির্বাচনে আনতে সরকার ভেতরে ভেতরে চেষ্টা করছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিষয়টি নির্বাচন আসলে বলা যাবে।’

কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে সরকার ও দলের শীর্ষনেতাদের এমন বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পর্দার অন্তরালে আলোচনার অগ্রগতিকে ইঙ্গিত করছেন।

অবশ্য গত বুধবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এমন আভাস দেন।

তিনি বলেন, ‘তফসিলের আগেই সরকারকে সমঝোতায় আসতে হবে। বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করা, কোনো ডায়ালগ ওপেন না করা, দেশের মানুষের যে ওপিনিয়ন সেটি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সরকার দেশকে অন্ধকার গহ্বরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’

এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যে সমস্যা আছে, সেই সমস্যার সমাধান করেন। সংকটের সমাধান করেন। তারপর নির্বাচনে যান।’

পর্দার অন্তরালে আলোচনা বা সমঝোতার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য সরাসরি অস্বীকার করেন।

তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। খালেদা জিয়ার ‍মুক্তির বিষয়টি আদালতের। আর বিএনপির নির্বাচনে আসা না আসার বিষয়টিও তাদের একান্ত দলীয়।’

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বিএনপি ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনভুক্ত ৪১টি দল আছে। নির্বাচনের জন্য বিএনপি অনিবার্য নয়। তারা নির্বাচনে আসবে কিনা, সেটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। তাদের সঙ্গে আমাদের সমঝোতার প্রশ্নই আসে না।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা বা আলাপ-আলোচনা নির্বাচন কমিশন করতে পারে। এটা তাদের এখতিয়ার। এটা আমাদের দায়িত্ব না। এ বিষয়ে আমাদের কোনো পদক্ষেপ নেই। কারণ, নির্বাচন তো নির্বাচন কমিশন করবে, সরকার বা সরকারি দল করবে না।’

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বরাবরই বলে আসছে, তারা সব দলের অংশগ্রহণের একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। এ বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও বেশ লক্ষ্য করা গেছে।

বিএনপিকে ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না বলেও জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

মূলত কি হতে পারে বা কি হতে যাচ্ছে? জানার জন্য আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। তবে এরই মধ্যে খালেদা জিয়া ‍মুক্তি পেলে অনেক কৌতূহল কিছুটা হলেও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

উৎসঃ   পরিবর্তন

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!