পর্তুগালে প্রবাসী নাগরিক শান্তি-ঐক্য পরিষদের প্রতিবাদ ও সাংবাদিক সম্মেলন

রনি মোহাম্মদ (পর্তুগাল থেকে)_২৯শে এপ্রিল ২০১৮ বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবনের আয়োজনে ‘বাংলা নববর্ষ উৎসব’ সফল সুন্দরভাবে আয়োজিত হয়। প্রায় ৪শতাধিক বিদেশী ও পর্তুগালে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি উদযাপিত হয়। সফল, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠানের প্রসংশা ও সুনাম যখন প্রবাসী বাংলাদেশ ও বিদেশী অতিথীদের মুখে মুখে ঠিক সেই সময়ে দূতাবাসের বিরুদ্ধে কিছু ব্যাক্তি তাদের ব্যাক্তিগত অসন্তুষ্টির জের ধরে বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজিত ‘বাংলা নববর্ষ ও বাংলাদেশ উৎসব’ সম্পর্কে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, বিক্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে মিথ্যা অপ্রিতিকর খবর ছড়াতে থাকে। সেই সাথে লন্ডন ভিওিক বেসরকারি একটি টেলিভিশনেও কোন প্রকার যাচাই বাচাই না করে প্রচার করে। যার ফলে পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটির মানুষের মাঝে নানা বিভ্রান্তির জন্ম দেয় এবং পর্তুগালের সচেতন নাগরিকরা সোচ্চার হয়ে উঠেন। দূতাবাসের বিরুদ্ধে আনিত এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে অনেকেই এর প্রতিবাদ জানান। পর্তুগালস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মিথ্যা প্রোপাগান্ড ছড়ানো এবং শান্তিকামী পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ৩ মে পর্তুগালের স্থানীয় সময় রাত দশটায় লিসবনের রাধুঁনী রেস্টুরেন্টে ‘প্রবাসী নাগরিক শান্তি-ঐক্য পরিষদ’ লিসবনের ব্যানারে পর্তুগালের বাংলাদেশী কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষদের নিয়ে এক প্রতিবাদ সভা ও সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবাসী ব্যাবসায়ী ও কমিউনিটি প্রবীণ ব্যক্তিত্ব হুমায়ুন কবির জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে মো.শাহাদাত হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি নেতা আবুল কালাম আজাদ, এম.এ খালেক, কাজী এমদাদ মিয়া, নজরুল ইসলাম সুমন, ফয়েজ আহমেদ প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে হুমায়ুন কবির জাহাঙ্গীর বলেন, মিথ্যা বানোয়াট তথ্য সংবাদ উপস্হাপন করে সদ্য বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উদযাপন অনুষ্ঠানকে কালিমা লেপন এবং বাংলাদেশ দূতাবাস পর্তুগাল ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি কারী ষড়যন্ত্রকারীদের বানোয়াট বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা প্রার্থনা এবং সঠিক ও সত্য তুলে ধরার দাবি জানান। দক্ষ একজন কূটনীতিককে নিয়ে যে শিষ্টাচার বর্হিভূত মিথ্যা তথ্য দিয়ে পর্তুগালস্থ সব প্রবাসী বাংলাদেশীর মাথা নীচু করেছেন এজন্য তাকে অবশ্যই তার মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করে দূতাবাস এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, কমিউনিটি নেতা কামরুল হাসান টুকু, আব্দুর রাজ্জাক, মুজিবর মোল্লা, মোঃ লিটন, ইকবাল আলী ভুঁইয়া, মো আবু হেনা, শহীদুল্লাহ, ইকবাল চৌধুরী, তবারক হোসেন তপু, মো আখতারুজ্জামান, মামুন, মাহবুব আলম, ইসমাইল হোসেন সবুজ, মো ফুয়াদ, মাইন উদ্দিন, মাষ্টার, রাসেল, জোবায়ের, ইমরান, মাহফুজুর রহমান, রাসেল, প্রমূখ। সর্বশেষ প্রবাসী নাগরিক শান্তি-ঐক্য পরিষদের আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবনের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত প্রবাসী ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে একটি লিখিত বার্তা পাঠান। রাষ্ট্রদূতের লিখিত সেই বার্তাটি পড়ে শোনান সভার সভাপতি হুমায়ুন কবির জাহাঙ্গীর। রাষ্ট্রদূতের বার্তার কিছু অংশ নীচে তুলে ধরা হলো। প্রিয় প্রবাসী ভাই ও বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম/ আদাব। বিগত ২৯ এপ্রিল চার শতাধিক বিদেশী অতিথি ও দু’শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপস্থিতিতে ওরিয়েণ্ট মিউজিয়ামে (Museo do Oriente) ‘বাংলাদেশ উৎসব’ উদযাপিত হয়। এ উৎসবে আমাদের প্রাণের জন্মভূমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সোনার বাংলাদেশ’ এর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ঐতিহ্য, দেশীয় খাবার ও গৌরবময় ইতিহাস পর্তুগাল সহ বিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরা হয় । এ আনন্দ উৎসবে সপরিবারে পর্তুগালের রাজনৈতিক নেতৃবর্গ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ (Ambassadors), পর্তুগালের সাবেক রাষ্ট্রদূতগণ, উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা, কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবর্গ, সুশীল সমাজের সদস্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশীরা উপস্থিত ছিলেন। পর্তুগাল পার্লামেন্টের বিরোধী দলের প্রধান জনাব দুয়ার্ত পাসেকো-র সপরিবারে উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আপনাদের সার্বিক সহযোগিতার ফলে এ উৎসব সফলভাবে উদযাপন করা সম্ভব হয়েছে। আমি এ সফল উৎসব আয়োজনের জন্য আপনাদেরকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন। একই সঙ্গে এ উৎসব সফলভাবে উদযাপনে আপনাদের সহযোগিতার জন্য আমার ও আমার দূতাবাসের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দূতাবাসের এ অনুষ্ঠানকে সফল করার মাধ্যমে আপনারা আমার বিশ্বাসকে আবারো প্রমাণ করেছেন যে, ‘আপনারা প্রত্যেকেই পর্তুগালে বাংলাদেশের এক এক জন রাষ্ট্রদূত’। আপনাদের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে এমন আরো বড় অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, শান্তির প্রতীক দেশ হিসেবে তুলে ধরতে পারব, ইনশাআল্লাহ। সম্প্রতি বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজিত বাংলাদেশ উৎসব সম্পর্কে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট ভিড়িওবার্তা ও বাংলা টিভিতে প্রচারিত সংবাদের প্রেক্ষিতে ফেইসবুক, ম্যাসেন্জার, টিভি ও সংবাদ মাধ্যমে যেসকল বাংলাদেশীগণ সত্য তুলে ধরেছেন তাদেরকে আমার এবং আমার দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ উৎসব নিয়ে `আমার এবং আমার দূতাবাস সম্পর্কে যে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে সে সম্পর্কে আমার বক্তব্য গতকাল বাংলা টিভিতে প্রচারিত হয়েছে। সেটিই আমার অফিসিয়াল বক্তব্য। আপনাদের সকলের সুখী ও দীর্ঘজীবন কামনা করছি। মোঃ রুহুল আলম সিদ্দিকী। পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!