নিজ ছেলের মাদকাসক্তি দূর করতে ব্যর্থ প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান!

 

 

বদলে যাও, বদলে দাও এবং মাদক বিরোধী আন্দোলনের নামে সারাদেশ চষে বেড়িয়েছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। মাদকের বিরুদ্ধে বলেছেন সতর্কতার কথা, মাদক নির্মূলের কথা। অথচ সেই মতিউর রহমানের একমাত্র ছেলে মাহমুদুর রহমান শাসা মাদকে আসক্ত। মাদকের নীল ছোবলে উন্মাতাল জীবনে অভ্যস্থ শাসার বেপরোয়া চলাফেরায় স্বয়ং মতিউর রহমানও ভীষণ বিরক্ত ও বিব্রত।

ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মতিউর রহমান শাসার বেসামাল ও বেহিসেবি জীবন যাপনে অতিষ্ঠ। সন্তানকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের চেষ্টা-তদবির করেছেন মতিউর রহমান। কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হন তিনি। সর্বশেষ বিদেশে ব্যয়বহুল মাদক নিরাময় কেন্দ্রে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করেও সুফল পাননি মতিউর রহমান। শাসা সব ছাড়লেও মাদক ছাড়বেন না। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের অবস্থা যেন সাপে বর। নিজের ঘর ছেড়ে অন্যের ঘর ঠিক করতে ব্যস্ত। যেখানে তার সন্তান মাদকাসক্ত।

মদ্যপানের বিষয়টি স্বীকার করে শাসার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী বলেন, মদ খাওয়াকে আপনি মাদকাসক্তি বলতে পারেন না। তাছাড়া আমাদের শাসা স্যার তো গাঁজা, ফেনসিডিল খান না। তিনি উন্নতমানের দামী মদ খান। যা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। এছাড়া স্যার তো সব জায়গায় গিয়ে খান না। এরাম, হোটেল জাকারিয়া ইন্টারন্যাশনালসহ ভাল ভাল জায়গায় গিয়ে ড্রিংক্স করেন।

জানা যায়, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের ছেলে শাসা ঢাকা সাকুরা বারে নিয়মিত মদ পান করেন। পরিচয় গোপন করে সাকুরা বারের কর্মরত ওয়েটার আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে শাসার মদ খাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে পুলিশের লোক মনে করে বলেন, শাসা স্যার মদ খেলেও খুবই ভালো মনের মানুষ। একসঙ্গে ১০-১২ পেগ মদ খায়। কিন্তু দেখে বোঝারই উপায় নেই তিনি মদ খেয়েছেন। একদম স্বাভাবিক থাকেন, শুধু চোখ দুটো গাঢ় লাল হয়ে যায়। মদ খাওয়া অপরাধের বিষয় নয়। এটা তো বিলাসিতা। যাদের পয়সা আছে তারাই তো দামী মদ খেতে পারে। শাসা স্যার তো মদ খেয়ে সিটি করপোরেশনের ভাঙা ড্রেনে পড়ে থাকেন না যে আপনারা তাকে নিয়ে এতো হইচই করছেন। উনাকে ধরে নিয়ে যাবেন না। উনি আমাদের অনেক বেশি টিপস দেন। তিনি মদখোর হলেও দানশীল।

এদিকে ছেলেকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে অ্যানেক্স কমিউনিকেশন লিমিটেড নামক বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করে দিয়েছিলেন মতিউর রহমান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অ্যানেক্সের সাবেক একজন কর্মকর্তা জানান অ্যানেক্স তৈরি করে দিয়ে মতিউর তখন বলেছিলেন, বিজ্ঞাপনী সংস্থা তৈরি করে দিলাম। এবার প্রথম আলোকে ব্যবহার করে ধান্দাপানি করো। মাল-মদ খাওয়া বাদ দিয়ে পয়সা ইনকাম করা শুরু করো। তোমার নেশা করার কথা সবাই জানে। তোমার অপকর্মের কারণে আমি সমাজে মুখ দেখাতে পারি না। বখাটেপনা বাদ দিয়ে লাইনে আস। আমি কামাবো প্রথম আলো দিয়ে আর তুমি কামাই করবা প্রথম আলোর নাম ভাঙ্গিয়ে অ্যানেক্স দিয়ে।

জানা গেছে, প্রথম আলোর প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে শাসা দেশের অনেক বড় বড় ইভেন্টের কাজ পেয়েছেন। প্রথম আলোর অনেক বিজ্ঞাপনই অ্যানেক্সের মাধ্যমে আসা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার মালিক বলেন, শাসা অ্যানেক্সের মাধ্যমে রীতিমতো মাস্তানি শুরু করেন। বড় বড় ইভেন্টগুলো ধরছেন। শাসার ভয়ে অনেকেই অ্যানেক্সকে কাজ দিতে বাধ্য হচ্ছে। ব্যবসায়িক কারণে মনোমালিন্য হলেই শাসা প্রথম আলোর ভয় দেখান।

এভাবে মতিউর রহমান তার ছেলের মাধ্যমে ‘গাছেরও খাই তলারও কুড়াই’ পদ্ধতিতে কোটি টাকা কামিয়ে নিলেও ছেলের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একেবারেই অখুশি।

মতিউর রহমানের ঘনিষ্ট এক বন্ধুর মারফত জানা গেছে, শাসার বন্ধু-বান্ধবদের অধিকাংশই মাদকাসক্ত। মতিউর রহমান এসব সম্পর্কে অবগত। অথচ কিছুই করতে পারছেন না মতিউর রহমান। ছেলের কারণে হতাশ হয়ে প্রায়ই বন্ধুদের সামনে হাউমাউ করে কান্না করেন মতিউর রহমান।

উৎসঃ   banglanewspost

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!