নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিণতি সম্পর্কে তদন্ত করুন:হিউম্যান রাইটস ওয়াচের চিঠি

নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিণতি সম্পর্কে তদন্ত করুন:হিউম্যান রাইটস ওয়াচের চিঠি

বাংলাদেশে গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় আছেন তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া উচিত বাংলাদেশ সরকারের। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদেরও মুক্তি দেয়ার ক্ষেত্রে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। সামনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুমের ঘটনা বৃদ্ধি পেতে পারে, যেমনটি ঘটেছিল ২০১৪ সালের নির্বাচনে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লেখা এক চিঠিতে এসব কথা লিখেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস। এতে তিনি বলেছেন, বর্তমানে প্রচলিত গোপন আটক (সিক্রেট ডিটেনশনস) ও জোরপূর্বক গুমের সংস্কৃতি বন্ধে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।

চিঠিটির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে আইন, বিচার ও পার্লামেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার দিদার আহমেদ, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদসহ আরো কয়েকজনকে চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে। এ চিঠির বিষয়ে ‘বাংলাদেশ: ইনভেস্টিগেট ফেট অব ডিজঅ্যাপেয়ার্ড’ শীর্ষক একটি বিবৃতিও দিয়েছে সংগঠনটি। এতে বলা হয়েছে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিণতির বিষয়ে তদন্ত করুন। নিউ ইয়র্ক থেকে ২৭ শে জানুয়ারি প্রকাশ করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুম ও চাপ প্রয়োগের বিষয়টি উদ্বেগের মূল কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন গুমের ঘটনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০১৭ সালেই শুধু কমপক্ষে ৮০ জনকে গোপনে আটকে রাখা ও জোরপূর্বক গুম করে দেয়ার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সাতজনকে পরে তথাকথিত গানফাইট অথবা ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজ ওইসব ব্যক্তির মধ্যে কমপক্ষে ১৭ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, বাংলাদেশে ভয়াবহ এক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে গোপনে আটকে রাখা ও গুম। বাংলাদেশিরা মনে করেন যে কোনো রকম সমালোচনা ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে প্রশাসনের লোকদের নজরে পড়তে পারেন তারা। ব্রাড এডামস আরো বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ক্ষমতার তৃতীয় মেয়াদের শেষ প্রান্তের কাছাকাছি। তাই যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জন নিখোঁজের বিষয়ে উত্তর খুঁজছে তাদেরকে সহায়তা করার জন্য তার উচিত ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা, যাতে ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করা এই সমস্যার সমাধান করা যায়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তার বিবৃতিতে লিখেছে, যেসব মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন তার কিছু কিছু দৃশ্যত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিরোধীদলীয় বেশ কিছু সদস্য ও তাদের আত্মীয়-স্বজন এখনো নিখোঁজ। এর মধ্যে রযেছেন সিরাজুল ইসলাম সুমন, আদনান চৌধুরী, মীর আহমেদ বিন কাসেম ও আবদুল্লাহিল আমান আজমি। বাংলাদেশের বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সালাউদ্দিন আহমেদ নিখোঁজ হওয়ার তিন মাস পর তাকে পাওয়া যায় ভারতে। বিএনপির সাবেক নেতা ও যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে আটকের ছয় মাস পরে গোপন বন্দিশিবির থেকে মুক্তি দেয়া হয়। এ বিষয়ে সরকার কোনো ব্যাখ্যাও দেয়নি। ২০১৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে জাতিসংঘের ‘ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সেল পিরিয়ডিক রিভিউ’তে এ ইস্যুটি তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও নতুন নতুন নিখোঁজ বা গুমের ঘটনা অব্যাহত আছে। এ ক্ষেত্রে সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, দু’একটি ঘটনা ছাড়া, তার প্রতি সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!