নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ

নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ
নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ
 
দুর্নীতির মামলায় নিম্ন আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ড হওয়ায় রায়ের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সামনে দুই দলের এই কর্মসূচি পালিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে নিউইয়র্ক পুলিশ অবস্থান নেয়। 
 
খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ আহ্বান করে। এই বিক্ষোভ থেকে কনস্যুলেটে হামলার আশঙ্কায় একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন সেখানে শান্তি সমাবেশ শুরু করে। এ নিয়ে তৈরি হয় উত্তেজনা। কনস্যুলেট অফিসের সামনে রাস্তার দুই পাশে উভয়দলের নেতা-কর্মীদের পরস্পরবিরোধী স্লোগান দিলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
 
আওয়ামী লীগের সমাবেশ থেকে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিএনপির কর্মীদের হামলার ঘটনার নিন্দা, প্রতিবাদ ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।
 
আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আদালতের রায় যারা মানতে চায় না তারা গণতন্ত্রের শত্রু। এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। যারা হাইকমিশনে হামলা করে তারা বাংলাদেশের শত্রু। ওরা জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, কোষাধ্যক্ষ আবুল মনসুর খান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম, সম্পাদকম-লীর সদস্য মিসবাহ আহমেদ, ফরিদ আলম, উপদেষ্টা মাসুদুল হাসান, নির্বাহী সদস্য শাহানারা রহমান, আজিজুর রহমান সাবু, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাখাওয়াত বিশ্বাস প্রমুখ।
অন্যদিকে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
 
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি গিয়াস আহমেদ বলেন, বাংলাদেশকে হায়েনামুক্ত করতে দেশ ও প্রবাসে একযোগে আন্দোলনের বিকল্প নেই।
 
সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা যারা চুরি করছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দূরের কথা, নামটি পর্যন্ত উচ্চারিত হচ্ছে না। এমন সরকারের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়।
 
সংগঠনটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোলায়মান ভূইয়া বলেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত প্রবাসে আন্দোলন চলবে।
 
তারেক পরিষদ আন্তর্জাতিক কমিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন বাদল বলেন, মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ কখনোই একদলীয় স্বৈরশাসন মেনে নেবে না।
 
সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসীম ভূইয়া, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ বাতিন, যুক্তরাষ্ট্র যুবদল সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী, বিএনপি নেতা মিল্টন ভূইয়া, জানাস নেতা গোলাম ফারুক শাহীন, পারভেজ সাজ্জাদ, রফিকুল ইসলাম ডালিম, ফারুক হোসেন মজুমদার, কাজী আজম, রাফেল তালুকদার, এম এ সবুর, আবু সাঈদ আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম জনি, জাহাঙ্গির সোহরাওয়ার্দি প্রমুখ।
 ইত্তেফাক/এমআই

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!