মাওলানা নিজামীর ছেলেকে বাদ দিয়ে ডা. বাসেতকে প্রার্থী ঘোষণা

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা

জামায়াতে ইসলামীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসনে আকস্মিক প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি। এ আসনে জামায়াতের সাবেক আমির  মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেনের পরিবর্তে বেড়া উপজেলা জামায়াতের আমির ডা. বাসেত খানকে নতুন প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল সোমবার সকালে পাবনার দারুল আমান ট্রাস্ট প্রাঙ্গণে উত্তরাঞ্চলীয় জামায়াতের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা এ কে এম জহুরুল ইসলাম এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পাবনা-৫ (সদর) আসনে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে কোন্দল দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়টি এখন আর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পাবনার সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে।
যুদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহানের ছেলে ব্যবসায়ী নেছার আহমেদ নান্নু এরই মধ্যে নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। তবে দলে তাঁর কোনো পদ বা দায়িত্ব নেই।
নেছার আহমেদ নান্নু এনটিভি অনলাইনকে বলেন, জামায়াত মনোনয়ন না দিলেও তিনি পাবনা সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন।
জামায়াতের দলীয় সূত্র জানায়, পাবনার নয়টি উপজেলায় জামায়াতের এক হাজার ৫৮৪ জন তৃণমূলের ভোটারের গোপন ভোটে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ড পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া আংশিক) আসনে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়ার আংশিক) আসনে সুজানগর উপজেলা জামায়াতের আমির কে এম হেসাব উদ্দিন, পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে ফরিদপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাপিনুর ইসলাম, পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল এবং পাবনা-৫ (সদর) আসনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।
কিন্তু নিজামী পরিবারের অনিচ্ছা এবং বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে সমস্যা হতে পারে বলে ধারণা করে পরিবারের পক্ষ থেকে নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে জামায়াত নেতাদের জানানো হয়।
ফলে গতকাল সোমবার সকালে পাবনার দারুল আমান ট্রাস্ট প্রাঙ্গণে উত্তরাঞ্চলীয় জামায়াতের আমির অধ্যাপক শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভায় পাবনা-১ আসনে নিজামীর ছেলের পরিবর্তে বেড়া উপজেলা জামায়াতের আমিরকে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া অন্য সব আসনে পূর্বঘোষিতরা বহাল থাকবেন বলে জানানো হয়।
ওই সভায় পাবনা জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আবদুর রহিম, বর্তমান আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যক্ষ মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, রেজাউল করিম, আবদুল গাফফারসহ শতাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।
তবে এ ঘোষণায় ক্ষেপেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহানের ছেলে নেছার আহমেদ নান্নু। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধ মামলায় আমার বাবার ফাঁসির আদেশ হয়েছে। সারাজীবন আমার বাবা জামায়াতের জন্য কাজ করেছেন। অথচ আমাদের পরিবারের কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে জামায়াত আমাদের পরিবারকে অপমান করেছে।’
নেছার আহমেদ নান্নু আরো বলেন, ‘আমার বাবার (মাওলানা সুবহান) সঙ্গে জেলখানায় জামায়াতের সংসদীয় দল দেখা করে তাঁর মতামত নিয়েছিলেন। ওই সময় আমার বাবা নেতৃবৃন্দকে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁর আসনে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে আমি ভালো করব।’
নান্নু বলেন, ‘তাঁকে (আবদুস সুবহান) দেওয়া কথা না রেখে বর্তমান জামায়াত নেতারা আমাদের পরিবারকে অপমান করেছে। তাই দল মনোনয়ন দিক না দিক, আমি আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়েছি। আগামী সংসদ নির্বাচনে পাবনা সদর আসন থেকে আমি প্রার্থী হচ্ছি, এটা শতভাগ নিশ্চিত।’
এ ব্যাপারে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও আটঘরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা এ কে এম জহুরুল ইসলাম এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‌‘জামায়াত একটি সুসংগঠিত দল, এখানে নিজে নিজে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। তৃণমূলের ভোটের পরিপ্রেক্ষিতে যাদের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, তারাই জামায়াতের প্রার্থী, এটাই সঠিক।’
মাওলানা সুবহানের ছেলে নেছার আহমেদ নান্নুর বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া নিয়ে জানতে চাওয়া হলে জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের সব নাগরিকের অধিকার রয়েছে ভোটে প্রার্থী হওয়ার। তবে পাবনা-৪ আসনে আবু তালেব মণ্ডল এবং পাবনা-৫ আসন সদরে অধ্যক্ষ ইকবাল জামায়াতের দলীয় প্রার্থী।’
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আরো বলেন, ‘সারা দেশে যদি জামায়াত পাঁচটি আসনও পায়, তার মধ্যে পাবনা-১, পাবনা-৪ ও পাবনা-৫ জামায়াত চাইবে এবং পাবে।’
পাবনা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও বেড়া উপজেলা জামায়াতের আমির ডা. বাসেত খান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আগামীতে নিজামী সাহেবের ছেলে জামায়াতের নেতৃত্ব দেবেন। তাই তাঁকে রিজার্ভ রাখা হয়েছে। তা ছাড়া তিনি একই সঙ্গে ব্রিটিশ ও তুর্কি নাগরিক, এতে সমস্যা হতে পারে জেনে প্রার্থী হবেন না বলে তিনি দলকে জানিয়েছেন। ফলে দল আমাকে পাবনা-১ আসনের জন্য জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।‌‌

See Translation

Image may contain: 2 people, beard and text

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!