দুবাইপ্রবাসী সাংবাদিকদের আনন্দের একদিন

দুবাইপ্রবাসী সাংবাদিকদের আনন্দের একদিন

প্রতিযোগিতাপ্রতিযোগিতাযোজন যোজন দূরে স্বদেশ। তারা মরুর বুকে এসেছেন জীবনের তাগিদে। সকলেই কাজ করেছেন ভিন্ন পেশায়। কিন্তু এর মধ্যে দেশ ও প্রবাসীদের কথা তুলে ধরতে দায়বোধ থেকে তারা কাজ করেন সংবাদকর্মী হিসেবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইপ্রবাসী সাংবাদিকদের সংগঠন প্রবাসী সাংবাদিক সমিতির (প্রসাস) উদ্যোগে পরবাসে আনন্দের একদিন পরিণত হয়েছিল প্রবাসী সাংবাদিক ও তাদের শুভাকাঙ্ক্ষীদের মিলনমেলায়।

‘পিঠা পুলি আড্ডা, কবিতার চরণ, পরবাসে দেশ তোমায় করছি স্মরণ’—এ স্লোগানকে বুকে ধরে গত ২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বাদ জুমা দুবাইয়ের মুশরিফ পার্ক মুখরিত হয় বাংলা কথামালায়। দুপুরের ভূরিভোজ, পিঠা উৎসব, বাচ্চাদের দৌড় ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, স্বামীর কাছে স্ত্রীর প্রেমপত্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীতে বর্ণিল ছিল এ আয়োজন। সকল আয়োজনে সাংবাদিকদের পরিজন ছাড়াও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিযোগিতাপ্রতিযোগিতাসংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নুরুল আবছারের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম তালুকদার ও সাবেক সভাপতি শিবলি আল সাদিকের যৌথ সঞ্চালনায় আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কনস্যুলেটের দুবাই ও উত্তর আমিরাতের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর ড. এ কে এম রফিক আহমেদ।
অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বে তিনি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং পরবাসে নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ মজবুত রাখতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল দুবাইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি আইয়ুব আলী, প্রকৌশলী আবু নাসের, ব্যবসায়ী মাহবুব আলম, মিরসরাই সমিতির সভাপতি মাজাহার উল্লাহ মিয়া, এস এম শফিকুল ইসলাম, সাইফুদ্দিন আহমেদ, নারী উদ্যোক্তা শেফালি আকতার, ইয়াকুব সুনিক, নারীনেত্রী কাউসার নাজ, সিআইপি জেসমিন আকতার, নারী সংগঠক শবনম আকতার, নিশাত জাহান, আকলিমা সুলতানা ও পপি পারভেজ।
পুরস্কার বিতরণীপুরস্কার বিতরণীঅনুষ্ঠানে অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশীয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা মুগ্ধতা ছড়ায় প্রবাসী মনে। ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন তিশা সেন। বাংলার বাউল সেজেছিল আশরাফুল ইসলাম। ফারিয়া চৌধুরী ও নমিতা পারভেজ সেজেছিল বাঙালি নারীর বেশে। সবার পরিবেশনা সকলের মন কাড়ে। সংগীত পরিবেশন করেন কাইসার হামিদ, আবদুর কাদের, গিয়াস শিকদার ও তাজরিন গাওহার। তাদের গানের মূর্ছনায় দূর হয় প্রবাসের যাতনা। একটু সময়ের জন্য সবাই সুখের পরশ পান।
পরে নানা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাংবাদিক নেতা ও অতিথিরা। পিঠা প্রতিযোগিতায় যৌথভাবে প্রথম হয়েছেন ডা. নুসরাত ও নিশাত জাহান, দ্বিতীয় হয়েছেন নিলুফার ও সাংবাদিক মান্নানের সহধর্মিণী, তৃতীয় সালেহা শবনম।
প্রসাসের সদস্যরাপ্রসাসের সদস্যরাচিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে আরিয়ান, দ্বিতীয় আফরা, তৃতীয় তাহিয়া। প্রেমপত্রে প্রথম হন ইসরাত জাহান, দ্বিতীয় স্বপ্না, তৃতীয় রোমা। বাচ্চাদের দৌড়ে হামিম, আরিয়ান ও সানজিদা বিজয়ী হয়েছে।
আয়োজনে সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, মো. হাসান মোরশেদ, ছালাহউদ্দিন, কামরুল হাসান জনি, নাসিম উদ্দিন, লুৎফুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন শিকদার, খোরশেদ আলম, আশিক ইশতিয়াক, আবদুল্লাহ আল শাহিন, ওবায়দুল হক, সরওয়ার উদ্দিন, মো. ওসমান চৌধুরী, এম এনাম হোসেন, মো. ইসমাইল, সেলিম উদ্দিন, শামসুল হক ও আমিনুল হক প্রমুখ।
গোধূলি নামার সঙ্গে সঙ্গে সাঙ্গ হয় মিলন মেলা। এই আয়োজনকে ঘিরে পরবাসের সবুজ ভূমি হয়ে উঠেছিল একখণ্ড বাংলাদেশ।

সংবাদ প্রেরক: লুৎফুর রহমান, দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!