দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি খুলে দেয়া হোক:এম এ মান্নান আজাদ

 দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি খুলে দেয়া হোক:এম এ মান্নান আজাদ 
 
বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের বিস্তারে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেÑ এমন বাহবা নিতে চায়। এই সময় অনেক টিভি চ্যানেল অনুমতি পেয়েছে ঠিকই, বাস্তবে দেখা গেছে এর বেশির ভাগই সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার হয়েছে। অন্য দিকে, কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের ওপর সরকারের খড়গ নেমে আসতেও দেখা গেছে। এবার সংসদে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার বন্ধ থাকা নিয়ে কথা বলেছেন। ওই দু’টি টিভি চ্যানেল ২০১৩ সালের মে মাসে হঠাৎ বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে সরকারের পক্ষ থেকে এত দিনেও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি, কেন এ দু’টি চ্যানেল বন্ধ করে রাখা হলো। এটাও জানানো হয়নি, আর কত দিন এ দু’টি চ্যানেল বন্ধ থাকবে। এ দিকে, ওই দু’টি চ্যানেলে কর্মরত ছয় শতাধিক সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতপাত করছেন।
সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন রাখা হয় চ্যানেল দু’টির সম্প্রচার বন্ধ রাখার বৈধতা নিয়ে। প্রশ্ন ছিল, আইনগত কী ভিত্তি আছে এগুলোর সম্প্রচার বন্ধ রাখার পেছনে? এ ব্যাপারে তথ্যমন্ত্রী ‘দাঙ্গার উসকানি দেয়া’র অভিযোগের উল্লেখ করেন। কিভাবে সংবাদমাধ্যম দু’টি দাঙ্গার উসকানি দিতে পারে তার পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ উল্লেখ করেননি মন্ত্রী। ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের ঢাকায় মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ আনা হলো। তখন অন্যান্য টিভি চ্যানেলের মতো এই দু’টি টিভি চ্যানেলও ওই সমাবেশের খবর প্রচার করছিল। দেশব্যাপী ওই সমাবেশ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ থাকার পরিপ্রেক্ষিতে এ নিয়ে খবর দিচ্ছিল তারা। পরে ওই সমাবেশকে কঠোরভাবে সরকার নিয়ন্ত্রণ করেছে। সেদিন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একদল সদস্য শেষ রাতে দিগন্ত টিভি বন্ধ করে দেয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের নির্দেশে এর সম্প্রচার ‘সাময়িক’ভাবে বন্ধ করা হচ্ছে। দিগন্ত টিভির কর্মকর্তারা এর পক্ষে লিখিত নির্দেশ চাইলে তারা পরে কাগজপত্র দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ রাতে টিভি চ্যানেলটি বন্ধ করে দেন। তখন সংবাদ সম্প্রচার করছিল টিভি চ্যানেলটি। ওই রাতে এর কিছু আগে ইসলামিক টিভিও বন্ধ করে দেয়া হয়। সংবাদমাধ্যম হিসেবে বন্ধ করে দেয়ার জন্য যে ধরনের বৈধ পদক্ষেপ দরকার ছিল, সরকার তা করেনি। বরং এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক, সরকার গায়ের জোরে এগুলো বন্ধ করে রেখেছে। জাতীয় দৈনিক আমার দেশ প্রকাশেও বাধা দিয়ে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের আদেশে এর প্রেস সিলগালা করে রাখা হয়েছে। এর আগে সরকার চ্যানেল ওয়ান এবং সিএসবি নিউজ বন্ধ করে দেয়। এই টিভি চ্যানেল দু’টির অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। দেশের মানুষের মধ্যে এই ধারণা রয়েছে যে, এসব সংবাদমাধ্যম সরকারের ‘পছন্দ অনুযায়ী’ খবর প্রচার করেনি। যে ক’টি সংবাদমাধ্যমের ওপর সরকারের খড়গ নেমে এসেছে, এগুলো সরকারপন্থী নয় বলে পরিচিত। অর্থাৎ এগুলো সরকারের অন্যায় অনিয়মের খবরও প্রচার করত। সেই বিবেচনায় এটাই ধরে নেয়া স্বাভাবিক যে, এই সরকার ভিন্ন মতের প্রতি সহিষ্ণু নয়।
সাংবিধানিকভাবে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। সরকার এভাবে সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে রাখতে পারে না। কোনো সংবাদ প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করতে হলে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণ হতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এভাবে গণমাধ্যম বন্ধ করে রাখা কোনোভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা মনে করি, সরকার অচিরেই বন্ধ করে রাখা সংবাদমাধ্যমগুলো খুলে দিয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!