দাম বেড়েছে চাল তেল রসুন মাছের

দাম বেড়েছে চাল তেল রসুন মাছের, সবজির দামে স্বস্তি

 
দাম বেড়েছে চাল তেল রসুন মাছের সবজির দামে স্বস্তি

চালের দাম ফের কেজিতে ১ টাকা করে বেড়েছে। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। এছাড়া বেড়েছে রসুন ও মাছের দাম। সব মিলে দিশেহারা ক্রেতারা। তবে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করছে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শেওড়াপাড়া বাজার ও কলমিলতা কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র।

বাজারভেদে বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ব্রান্ডভেদে ১০৬ থেকে ১০৯ টাকা লিটার। পাঁচ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৫১৫-৫২০ টাকায়। খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ৮৯-৯১ টাকা, সুপার পাম ৭৯ ও পাম তেল ৭৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পাইকারি বাজারে ১-২ টাকা বাড়ায় আমরাও বেশি নিচ্ছি।

সূত্র জানায়, বোতলজাত সয়াবিন তেলে খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য কোম্পানিগুলোর যে ছাড় ছিল তা তুলে নেয়া হয়েছে। এছাড়া মোড়কে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য পরিবর্তন করেনি কোম্পানিগুলো।

এদিকে গত সপ্তাহে শুধু মিনিকেট চালের দাম বাড়লেও এ সপ্তাহে সব ধরনের চালে কেজিতে ১-২ টাকা বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে কারওয়ান বাজারের খুচরা চাল ব্যবসায়ী মনসুর আহমেদ বলেন, ধানের মৌসুম শেষ হওয়া এবং হাওরে বন্যায় ধানের উৎপাদন কম হওয়ার কারণে বাজারে ধান সংকট থাকায় বর্তমানে মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে।

এখন বেশিরভাগ চাতালই বন্ধ। বাজারে যেসব চাল দেখছেন এগুলো অটোরাইস মিল আর ভারতীয় আমদানি করা। ধান না থাকায় বাজারের এ অবস্থা।

মিনিকেট বিক্রি হয়েছে ৬৩-৬৬ টাকার মধ্যে। এছাড়া বিআর-২৮ বিক্রি হয়েছে ৫২-৫৫ টাকায়, পারিজাত বিক্রি হয় ৪৭-৪৯ টাকা কেজি, নাজিরশাইল ৬৬-৭৯ টাকা এবং জিরাশাইল ৫৯-৬১ টাকা কেজি দরে।

এদিকে হঠাৎ বেড়েছে রসুনের দাম। শুক্রবার প্রতি কেজি আমদানি রসুন বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮৫-৯০ টাকা। দেশি রসুন বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫৫ টাকা। বেড়েছে মাছের দামও।

সব ধরনের মাছের মূল্য কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা হায়দার আলী।

তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এ অবস্থা। বাজারভেদে শুক্রবার এক কেজি ওজনের এক জোড়া ইলিশ ২৮৫০-২৯শ’ টাকা, ৮০০ গ্রাম ওজনের এক জোড়া ইলিশ ১৮৫০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের এক জোড়া ইলিশ ১৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

৬০০ গ্রাম ওজনের এক জোড়া ইলিশ ১২৫০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জোড়া ৮৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কারওয়ান বাজারের ইলিশ ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বলেন, মাছের সরবরাহ কম।

এছাড়া রূপচাঁদা ৪টি এক কেজি ওজনের ১ হাজার টাকা এবং ৫টিতে এক কেজি ওজনের বিক্রি হয়েছে ৮৫০ টাকা। রুই ও কাতলা বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২৩০-৩শ’ টাকা, চিংড়ি মাছ বিক্রি হয়েছে বড় আকারে প্রতি কেজি ৮শ’ টাকা, মাঝারি আকারের ৭শ’ টাকা এবং ছোট আকারের ৫শ’ টাকা কেজি দরে। তেলাপিয়া প্রতি কেজি ১২০-১৪০ টাকা, সিলভার কার্প ১০০-১২০ টাকা, পাবদা ৪০০-৫০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১০০-১১০, নলা ১২০-১৩০ টাকা, সরপুটি ১৩০ টাকা, গ্রাস কার্প ১৩০-১৪০ টাকা কেজি এবং কই মাছ ১৪০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

শেওড়াপাড়া বাজারের ক্রেতা ইমরান মিয়া জানান, সব কিছুর দাম যদি এভাবে বাড়তে থাকে তাহলে আমাদের না খেয়েই থাকতে হবে। কাউকে কিছু বলে লাভ নেই। সবাই বাটপারি শুরু করেছে।

এদিকে বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকা কেজি। লাল লেয়ার মুরগি ১৫৫, সাদা লেয়ার ১৪০ টাকা কেজি। খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা কেজি এবং বকরির মাংস বিক্রি হয়েছে ৭০০ টাকা। গরুর মাংস ৪৮০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে আলু বিক্রি হয়েছে পুরাতন ১৪ টাকা কেজি এবং নতুন ১৮-২০ টাকা কেজি দরে। চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, মুলা ১৮-২০ টাকা, বেগুন মান ও জাত ভেদে ৪০-৫০ টাকা, টমেটো বিক্রি হয়েছে ২০ টাকা, ব্রকলি ২০ টাকা পিস, বরবটি ১০০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, শিম ৪০-৫০ টাকা, ফুলকপি ২০ টাকা পিস, বাঁধা কপি ২০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা, গাঁজর ২৫ টাকা, পেঁপে ১৮-২০ টাকা, ছোট আকারের চাল কুমড়া (জালি) ৫০-৬০ টাকা, লাউ ছোট আকারের ৪০-৫০ টাকা, ধনেপাতা ৩০ টাকা কেজি এবং কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪০ টাকা কেজি। আমদানি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৮ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি এবং আদা বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা কেজি দরে।

যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ 

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!