তুরস্কের প্রথম নির্বাহি প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন এরদোগান! মাসুম খলিলী

 

তুরস্কের রাজনৈতিক পদ্ধতিকে সংসদীয় থেকে নির্বাহি প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থায় রূপান্তরের পর কি প্রথম নির্বাহি প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট রেসেপ তৈয়ব এরদোগান? এই প্রশ্নটি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। নির্ধারিত মেয়াদের প্রায় দেড় বছর আগে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে তুরস্কে। দেশটির বিরোধি দল সিএইচপি এই আগাম নির্বাচনের দাবি করেছিল। আর একেপির বর্তমান কোয়ালিশন সহযোগি ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টির (এমএইচপি) প্রধান ডেভলেত বাচেলি প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে একই পরামর্শ দিলে তিনি ২৪ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ঘোষণা করেন। ২০১৯ সালের নভেম্বরে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও এখন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আর মাত্র পৌনে দুই মাস পর।

নানা মেরুকরণ

তুরস্কের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে নানা মেরুকরণ শুরু হয়েছে। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ক্ষমতাসীন দল একে পার্টির যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ গুলকে এরদোগানের প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড় করানোর বিষয়টি সফল হয়নি। আবদুল্লাহ গুল সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন,বিরোধি দলগুলোর মধ্যে ব্যাপকভাবে মতৈক্য তৈরি না হওয়ায় তিনি এরদোগানের বিরুদ্ধে আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থি হবেন না।
এখন ক্ষমতাসীন একে পার্টির বিপরীতে প্রতিটা বড় দল তাদের নিজস্ব প্রার্থি দেবে বলে মনে হচ্ছে। কুর্দি প্রধান দল এইচডিপি দলের প্রধান নেতা সাদিন ডেমিরেটাসকে এবং নবগঠিত ডান রক্ষণশীল দল আইওয়াইআই মেরাল আসকেনারকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থি ঘোষণা করেছে। সেক্যুলারিস্ট কামালপান্থী প্রধান বিরোধি দল সিএইচপি নিজস্ব প্রেসিডেন্ট প্রার্থি দেবার কথা জানিয়েছে। জাতীয়তাবাদী দল এমএইচপি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে।
প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিরুদ্ধে একক প্রার্থি দেবার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণকারী তিন দল- সেক্যুলারিস্ট সিএইচপি, ডানপন্থী আইওয়াইআই এবং ইসলামিস্ট ফেলিসিটি পার্টি এক হয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুলকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থি করার ব্যাপারে আলোচনা করে।কিন্তু আইওয়াইআই প্রধান আসকেনার প্রেসিডেন্ট প্রার্থি হবার ব্যাপারে অনমনীয়তা দেখিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রয়োজনবোধে গুলকে সমর্থন দেয়ার কথা জানান। আর সিএইচপির মধ্যেও সমলোচনা উঠে যে দলের ভাবাদর্শের বাইরের প্রার্থিকে সমর্থন দেবার অর্থ হবে দলের দেউলিয়াত্বকে মেনে নেয়া। শেষ পর্যন্ত এই দুই দল আলাদা প্রার্থি দিলে প্রথম দফা নির্বাচনে যে আবদুল্লাহ গুল শুধু ফেলিসিটি পার্টির সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় স্থান পাবার কোন নিশ্চয়তা না থাকায় তিনি নির্বাচনে প্রার্থি হবার ভাবনা পরিত্যাগ করেন।এতে করে সব বিরোধি দলের ভোটের সাথে একেপির মধ্যে গুলের প্রতি সহানুভুতিশীল ভোট যোগ করে এরদোগানকে পরাজিত করার হিসাব যারা করেছিলেন তারা হতাশ হয়েছেন।

নতুন দৃশ্যপটে দুটি সম্ভাবনা

তুরস্কের নির্বাচন কেন্দ্রীক নতুন দৃশ্যপটে দুটি সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। প্রথম সম্ভাবনা হলো প্রথম দফা নির্বাচনেই এরদোগানের পঞ্চাশ শতাংশ ভোট পেয়ে সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া। দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো প্রথম দফা নির্বাচনে তিনি প্রথম হলেও ৫০ শতাংশের কম ভোট পাওয়া। এ পর্যন্ত পাওয়া জনমত জরিপের কোন কোনটাতে প্রথম পর্বেই এরদোগান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে যাবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য কিছু জরিপে দ্বিতীয় দফায় তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গেজিসির সর্বশেষ ১৪ ও ১৫ এপ্রিলের জরিপ অনুসারে একেপি-এমএইচপির প্রেসিডেন্ট প্রার্থি এরদোগান প্রথম দফায় ৪৩.৫ শতাংশ ভোট পাবেন আর তার নিকটতম প্রতিদ্ধন্ধি মেরাল আকসেনার পাবেন ১৮.৬ শতাংশ। আর সিএইচপি প্রার্থি কিলিকদারুগলু ৯.৭ শতাংশ এবং এইচডিপি প্রার্থি ১১.১ শতাংশ ভোট পাবেন।
গেজিসির এই জরিপ অনুসারে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে এরদোগান ৫২.২ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বি আকসেনার পাবেন ৪৭.৮ শতাংশ ভোট। ওআরসি’র আগের মাসের ২২-২৬ তারিখের জরিপে অবশ্য বলা হয় প্রেসিডেন্ট এরদোগান দ্বিতীয় দফায় ৫৯.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট হবেন আর আাকসেনার পাবেন ৪০.৪ শতাংশ ভোট।
তুরস্কের নির্বাচনের ব্যাপারে কোন জরিপেই বলা হচ্ছে না যে এরদোগান নির্বাচনে হেরে যেতে পারেন। এই নির্বাচনকে দ্বিতীয় দফা পর্যন্ত টেনে নিতে পারাটাই হবে বিরোধিদের জন্য একটি সাফল্য।

প্রশংসা ও বিরোধিতা

তুরস্কে এরদোগানের ব্যাপারে প্রশংসা আর বিরোধিতা দুটোই অনেকটা প্রান্তিক পর্যায়ে রয়েছে। রক্ষণশীল এবং সেক্যুলার দুই ধারায় একরকম বিভক্ত তুরস্ক। তবে সব ধারার মানুষই দেশটিতে গণতন্ত্র চর্চা এবং দেশের অখন্ডতার ব্যাপারে একমত । দেশটিতে গণতন্ত্র চর্চার মান কতটা এরদোগান অনুসরণ করছেন সে ব্যাপারে তীব্র মতভেদ রয়েছে।অনেকেই মনে করেন, এরদোগান ক্রমাগতভাবে স্বৈরাচারি হয়ে উঠছেন। কিন্তু তুরস্কের অখন্ডতা রক্ষার ব্যাপারে তিনি ছাড়া আর কোন ব্যক্তি এ মুহূর্তে দেশটির নেতৃত্ব দেবার মতো নেই বলে মনে করা হয়।বিশেষত সিরিয়ার কুর্দি মিলিশিয়াদের দিয়ে তুর্কী সীমান্তের কুর্দ এলাকায় করিডোর খোলার ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার পর আফরিনে ফ্রি সিরিয়ান আর্মিকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে এর উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং মানবীজেও নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের পর দল মত নির্বিশেষে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় বলিষ্ট ভূমিকা পালনের জন্য এরদোগানের গ্রহনযোগ্যতা অনেক বেড়েছে।
তুরস্কের শাসন ব্যবস্থা নির্বাহি প্রেসিডেন্সিয়াল হওয়া উচিৎ নাকি সংসদীয় ধরনের হওয়া উচিৎ এ ব্যাপারে ব্যাপক মতপার্থক্য রয়েছে। প্রধান বিরোধি দল সিএইচপি এবং কুর্দি প্রধান রাজনৈতিক দল এইচডিপি সংসদীয় ব্যবস্থার পক্ষে। অন্য দিকে একে পার্টি এবং এমএইচপি নির্বাহি প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতির পক্ষে। এমনকি একে পার্টির কোন কোন নেতাও সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার পক্ষে ছিলেন। এ নিয়ে প্রেসিডেন্টের সাথে মতপার্থক্যের কারণে প্রধানমন্ত্রী আহমদ দেভতুগলুকে প্রধানমন্ত্রী এবং দলের চেয়ারম্যানের পদ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। শাসক দল ও এর সমর্থকরা মনে করেন তুরস্কের কার্যকর নিরাপত্তার জন্য নির্বাহি প্রেসিডেন্টের শাসন দরকার। আর এর সমালোচকরা মনে করেন নতুন পদ্ধতি তুরস্ককে আরো স্বৈরাচারি শাসনের পথে নিয়ে যাবে।

অভ্যন্তরীণ মেরুকরণ

তুরস্কের রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত সমাজে ঐতিহ্যবাদিতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতাবাদিতা-এই দুই পক্ষের মধ্যে মেরুকরণ বাড়ছে। সেক্যুলারিজমকে রাষ্ট্রীয় মতাদর্শ রাখার ব্যাপারে কোন পক্ষই দ্বিমত পোষণ করে না। তবে এ ব্যাপারে দু’পক্ষ দুভাবে ব্যাখ্যা দেন। এক পক্ষ মনে করেন, সেক্যুলারিজম অর্থ হলো সব ধর্মের অনুসরিরা যার যার অধিকার সমভাবে লাভ করবে। ধর্ম পালন বা এর আদর্শ অনুসরণে রাষ্ট্রের এই নীতি বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। অন্য দিকে কামালিস্ট সেক্যুলারবাদীরা মনে করেন রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয় সম্পুর্নভাবে ধর্মের প্রভাবমুক্ত থাকবে। রাষ্ট্র পরিচলিত হবে একেবারে ধর্মহীনভাবে। প্রথমোক্ত মতের অনুসারীদেরকে তুরস্কের উসমানীয় খেলাফতের পুনর্জীবনবাদী হিসাবেও চিহ্নিত করা হয়। ২০০২ সালে রক্ষনশীল দল হিসাবে একে পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ঐতিহ্যবাদী ধারা ক্রমেই শক্তিধর হয়েছে। এ ধারার প্রবল উত্থান শুরু হয় নাজমুদ্দিন আরবাকানের ওয়েলফেয়ার পার্টির ক্ষমতায় যাবার পর থেকে। এরদোগান এবং আবদুল্লাহ গুল- দুই জনই এই দলের সদস্য ছিলেন।
একে পার্টি প্রথম বার ক্ষমতায় যাবার সময় দলের সমর্থন ছিল ৩২ শতাংশের মতো। এখন এই সমর্থন দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। এই প্রবণতার কারণে নির্বাচনী রাজনীতিতে একে পার্টিকে পরাজিত করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিরাপত্তা বনাম গণতন্ত্র

তুরস্কের এবারের নির্বাচনে দুটি প্রধান ইস্যু হলো জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র। শাসক জোটের নির্বাচনী প্রচারাভিযানের মূল অংশ জোড়ে রয়েছে তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তা ও অখন্ডতা হুমকির মুখে থাকার বিষয়টি। ১৫ জুলাইয়ের সেনা অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা তুরস্কের নিরাপত্তা ও অখন্ডতাকে ক্ষুণ্ণ করার জন্য পরিচালিত হয়েছিলো। এই অভ্যুত্থানের জন্য গুলেনিস্টদের দায়ী করে এই নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করা হয় ফেটো বা ‘ফেতুল্লাহ গুলেনের সন্ত্রাসি চক্র’ হিসাবে। সরকার সমর্থক তুর্কিদের ধারণা আন্তর্জাতিকভাবে তুরস্কের অকল্যাণকামীরা এই নেটওয়ার্ককে তুরস্কের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে। একদিকে ফেটো অন্য দিকে পিকেকে এবং তার সিরীয় সহযোগি ওআইপিজিকে ব্যবহার করে তুরস্ককে বিভাজন করতে চায় তারা। ২০০৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের যে পরিবর্তিত মানচিত্র মার্কিন ডিফেন্স জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছিল সেখানে তুরস্কের ৩৫ শতাংশ কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাকে ইরাক সিরিয়া ইরানের কুর্দি এলাকার সাথে যুক্ত করে স্বাধীন কুর্দিস্থানের মানচিত্র দেখানো হয়। সিরিয়া-ইরাকে আইএস এর তথাকথিত খেলাফত প্রতিষ্ঠা এবং তাদের বিরুদ্ধে ইরাক ও সিরিয়ায় কুর্দিদের অস্ত্রসজ্জিত করে এগিয়ে দেয়ার সাথে কুর্দিস্থান প্রতিষ্ঠার যোগসুত্র আছে বলে অধিকাংশ তুর্কি বিশ্বাস করেন। এই ধরনের একটি ষড়ডন্ত্রের বিরুদ্ধে তুরস্কের অখন্ডতা রক্ষার জন্য দেশে নেতৃত্ব দানে সক্ষম ব্যক্তি হিসাবে বিবেচনা করা হয় এরদোগানকে।
অন্য দিকে এরদাগানের বিরোধিরা মনে করেন দেশটিতে গণতন্ত্র ক্রমেই বিপন্ন হয়ে পড়ছে। এরদোগান ক্রমেই স্বৈরাচারি হয়ে পড়ছেন। তিনি নির্বাহি প্রেসিডেন্ট হবার পর এই প্রবণতা আরো বাড়বে। তাদের অনেকে ১৫ জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থান পরবর্তী জরুরি অবস্থা এবং এর আওতায় গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থার ব্যাপারে সমালোচনামুখর। তাদের কেউ কেউ তুরস্কের এক সময় ক্ষমতাধর গুলেন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থায় বাড়াবাড়ি রয়েছে বলেও মনে করেন।

আঞ্চলিক ফ্যাক্টর

তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যের অতি সংবেদনশীল একটি এলাকা। দেশটির অবস্থান এশিয়া ও ইউরোপের সন্ধিস্থলে। উসমানীয় খেলাফতের সময় প্রধান বিশ্বশক্তি ছিল তুরস্ক। ইউরোপের প্রায় অর্ধেক এলাকা তখন তুর্কি সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। ফলে বিশ্ব নিয়ন্ত্রকরা তুরস্ককে সব সময় নিয়ন্ত্রিত বা অবদমিত করে রাখতে চেয়েছে। কামাল আতাতুর্ক পাশ্চাত্যের চাহিদা অনুসারে তুরস্ককে এক ধর্মহীন মুসলিম অধ্যুষিত প্রজাতন্ত্রে রূপ দিতে চেয়েছেন। এ সময় ধর্ম পালনের উপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তুর্কি হরফ আরবী পাল্টে রোমান করা হয়। তুর্কি জাতীয়তাবাদী নেতা আদনান মেন্ডারিজের নেতৃত্বে এক সময় সরকার কামালবাদী এই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ১০ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকা এই তুর্কি নেতাকে কয়েকজন সহকর্মীসহ ফাঁসি দেয়া হয়।
তুরস্কের ভেতরে এখন যে ঐতিহ্যবাদী পূনর্জাগরণ সেটাকে আঞ্চলিক এবং বিশ্ব নিয়ন্ত্রকরা নেতিবাচকভাবেই দেখছেন। তারা গণবিদ্রোহ, বিচার বিভাগীয় অভ্যুত্থান, সেনা অভ্যুত্থানসহ নানা ধরনের পদক্ষেপে ইন্ধন দিয়ে বর্তমান সরকারকে সরিয়ে দেবার চেষ্টা করা হয়। এর সাথে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এমনকি সৌদি আরবের প্রত্যক্ষ-অপ্রত্যক্ষ যুগসুত্র রয়েছে বলে মনে করা হয়। এ কারণে এরদোগানের সরকার কৌশলগত ক্ষেত্রে এক ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ নীতি নিতে চাইছেন। একদিকে তিনি ন্যাটো থেকে বের না হয়েই রাশিয়া ও চীনের সাথে বিশেষ সম্পর্ক গড়তে চাইছেন। অন্য দিকে একটি মধ্যপন্থী মুসলিম বলয় তৈরির চেষ্টা করছেন। তার এই নীতি বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী শক্তিগুলোর মনপুত হবার কথা নয়। ফলে এই শক্তিটি তুরস্কে কোন ধরনের পরিবর্তনের সুযোগকে হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না। ধারণা করা হয়, ২০১৯ সালের নবেম্বরের স্বাভাবিক সময়ে নির্বাচনের আগে এমন অনেক পদক্ষেপ নেবার পরিকল্পনা এই শক্তিটি নিয়েছিল যা দেড় বছর আগে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন বেশ খানিকটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এরদোগানই জিতবেন, কিন্তু চ্যালেঞ্জ অনেক

শেষ পর্যন্ত এরদোগানই হয়তো তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতবেন কিন্তু তার ও তুরস্কের সামনে চ্রালেঞ্জ অনেক। অন্তর্ঘাত প্রতিরোধ, অখন্ডতা রক্ষা ও নিরাপত্তার নানা চ্যালেঞ্জ যেমন রয়েছে তেমনি মধ্যপ্রাচ্যকে সংঘাতমুক্ত করা, ফিলিস্তিনীদের রাষ্ট্রের অধিকার নিশ্চিত করা এবং জেরুসালেমকে দখলমুক্ত করা আর মক্কা মদিনার সামনে যে কোন ঝুঁকি সৃষ্টি হলে সেটাকে সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করার মতো ইস্যু সামনে আাসতে পারে। ফলে অভ্যন্তরীণভাবে যেমন বাধার অনেক পাহাড় এরদোগানকে ডিঙাতে হবে তেমনিভাবে আঞ্চলিক ক্ষেত্রেও অতিক্রম করতে হবে নানা প্রতিবন্ধকতা। দেখার বিষয় হলো রাস্তার ধারে তিলের কেক আর শরবত বিক্রি করা হকার থেকে রাস্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসা লড়াকু এরদোগান কতটা পারেন এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে জয়ী হতে।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!