তুরস্কের নির্বাচন :সবাই জিতেছে, হেরেছে শুধু সাদেত পার্টি! হাফিজুর রহমান

তুরস্কের গতকালের নির্বাচন পর্যালোচনা করলে একটা বিষয় খুব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে, সকল দলই নির্বাচনে আগের চেয়ে ভালো ফলাফল করেছে কিংবা প্রত্যাশিত ফলাফল করেছে কিন্তু ব্যতিক্রম শুধু সাদাত পার্টির ক্ষেত্রে। ফলাফল নিয়ে একটু যদি ব্যাখ্যা করি তাহলে বিষয়টা অারেকটু খোলাসা হবে:

১. একে পার্টি ও সরকারী জোট:
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ৫২.৪০% ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন যা একে পার্টিতে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো রেজাল্ট। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে এরদোয়ান গত নির্বাচনের চেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন যদিও এবার চ্যালেঞ্জ বেশী ছিল।

পার্লামেন্টে সরকারী জোট ৩৪৩ টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়েছে। যেটা পাওয়ার ব্যপারে সবচেয়ে বেশী চ্যালেঞ্জ ছিল । একে পার্টির লোকদের ধারনা ছিল হয়তো সংখ্যাগরিষ্টতা পাবেনা অথবা পেলেও ৩০১-৩২০ টি আসন পাবে। কিন্তু এক্ষেত্রেও বড় সফলতা এসেছে তাদের। যদিও পার্লামেন্টে একে পার্টির ভোট কিছুটা কমেছে কিন্তু এটা অপ্রত্যাশিত ছিলনা কারন নির্বাচনের পূর্বে এমনটা কিংবা তারচেয়ে কিছু কম পাওয়ার আইডিয়া ছিল।

সরকারী জোটে জাতীয়তাবাদী দলের প্রাপ্ত ভোট ও আসন রীতিমত বাম্পার ফলনের মত। গত নির্বাচনে তারা ১১.৯% ভোট পেয়ে ৪০ টি আসন পেয়েছিল। এরপর দল বিভক্তি দেখা দেয় এবং ইয়ি পার্টি নামে আরেকটি দল গঠিত হয়। ধারনা করা হচ্ছিল যে, তারা হয়তো ৭-৮% ভোট পাবে। কিন্তু তারা রীতিমত চমক দেখিয়েছে। ১১.১% ভোট পেয়ে ৫০ টি আসন পেয়েছে।

২. বিরোধী জোট:
প্রথমেই আসি, সেক্যুলার সিএইচপির কথা। বিরোধী দল মানেই জিততে চায় কিন্তু তাদের ভোট কখনোই ২৬% এর উপরে ছিলনা (২০০২ সাল থেকে)। সেখানে তাদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর ৩০.৮% ভোট পাওয়াটাও রীতিমত চমক। দল হিসেবে তাদের ভোট কিছুটা কমলেও আসন সংখ্যা গত নির্বাচনের তুলনায় ১২ টি বেড়ে ১৪৬ টি হয়েছে। (এই ভোট বাড়া কমার একটা সমীকরন আছে। আর তা হল, কুর্দীদের দলকে তারা পার্লামেন্ট নির্বাচনে কিছু ভোট দিয়েছে আর কুর্দীরা তার বিনিময়ে তাদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে।)

দ্বিতীয়ত: ইয়ি পার্টি। গঠন হওয়ার ৭-৮ মাস পরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৭.৮ এবং সংসদ নির্বাচনে ১০% ভোট পেয়ে ৪৪ টি আসন পাওয়াটা অনেক বড় বিষয়। যদিও তাদের ব্যাপক ফান্ডিং ছিল এবং পশ্চিমা মিডিয়ার ব্যাপক সহায়তা পেয়েছে, সেটা অন্য বিষয়।

৩. কুর্দীদের দল:
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে সংকটে ছিল কুর্দীদের দল। তারা পার্লামেন্ট ঢুকতে পারবে কিনা তা নিয়ে রীতিমত হইচই ছিল। কিন্তু তাদের ভোট ও আসন দুটোই বেড়েছে। এবার তারা ১১.৬% ভোট পেয়ে ৬৭ টি আসন পেয়েছে।

উপরের এই দলগুলো যখন প্রত্যাশিত এবং প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলাফল করেছে তখন একমাত্র ব্যতিক্রম হয়েছে সাদেত পার্টির ক্ষেত্রে। সাদেত পার্টি সেক্যুলারদের সাথে জোট করার পর সেক্যুলার মিডিয়াগুলো যখন একটু বেশী সম্মান দিতে লাগলো তখন তাদের পা মাটিতে পড়তো না। তারা ধরেই নিয়েছিল এবার তাদের বড় বিজয় হচ্ছে। তাদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মিনিমাম ৭-১৫% ভোট পাবে এবং প্রথম দফার এরদোয়ান হারবেন তাতে দ্বিতীয় দফায় তারা চমক দেখাবেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠার সতের বছর পর সাদেত পার্টি পার্লামেন্টে ঢুকতে পারবে। কিন্তু তা আর হইলো কই? প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পেয়েছে ০.৯০% ভোট আর সংসদে পেয়েছে ১.৪% (০০ টি আসন)।

এখানে দুটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি:
১. সাদেত পার্টির দীর্ঘদিনের দাবী ছিলো যে, সংসদে সিট পাওয়ার জন্য ১০% ভোট পাওয়ার যে বাধ্যবাধকতা তার কারনেই সাদেত পার্টি আগের নির্বাচনগুলোতে ভোট পেতনা। এরদোয়ান সাদেত পার্টির ভয়ে ১০% কোটা উঠাচ্ছেন না!!! এবারের নির্বাচনে সাদেত পার্টির জন্য ১০% কোটা প্রযোজ্য ছিলনা। কারন সম্প্রতি করা নতুন নিয়মে যেকোন জোট ১০% এর উপরে ভোট পেলে জোটভুক্ত সকল দলই ১০% এর উপরে পেয়েছে বলে গণ্য হবে। আর ভোট সংখ্যার ভিত্তিতে আসন পাবে। কিন্তু সাদেত পার্টি কোন প্রদেশেই এমপি হওয়ার জন্য নূন্যতম ভোট পায়নি। অাশা করি তারা তাদের ভোটের সঠিক পারসেনটেজ বুঝতে পেরেছে।

২. সাদেত পার্টিতে এক ধরনের অহঙ্কারবোধ ছিলো যে, তাদের ভোটেই এরদোয়ানের জয়-পরাজয় নির্ভর করে। তাদের এই ১-২% ভোট যে দিকে যাবে সেদিকেই বিজয় হবে। সম্ভবত এই নির্বাচনে সেই অহঙ্কারবোধটা রোধ হবে।

এবার আসতে চাই কেন সাদেত পার্টি প্রত্যাশিত ফলাফল করেনী। কিন্তু ততক্ষণে অনেক লেখা হয়ে গেছে। পরবর্তীতে লিখবো ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!