ড. কামাল হোসেনের ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার’ সমাবেশ:নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার’ সমাবেশে যোগ দিয়েছেন বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের নেতারা। পূর্বনির্বারিত সময় বেলা তিনটায় ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চের সমাবেশে যোগ দেন তাঁরা।
বেলা তিনটার কিছু আগে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন নাট্যমঞ্চের সমাবেশস্থলে আসেন। তার আগেই গণফোরামের নেতা–কর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক
এর পরপরই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে স্লোগান দিয়ে বিএনপির কিছু নেতা–কর্মী সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। তাঁরা ‘জাতীয় ঐক্য জিন্দাবাদ’ বলেও স্লোগান দেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি মিছিল সেখানে আসে।
বেলা সোয়া তিনটার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সমাবেশ উপস্থিত হন দলটির স্থায়ী কমিটির আরও তিন সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ ও আবদুল মইন খান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন ড. কামাল হোসেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি আছেন বিকল্পধারার সভাপতি ও যুক্তফ্রন্টের সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর। ইতিমধ্যে সেখানে যুক্তফ্রন্টের শরিক দুই দল জাসদের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায় মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী এসেছেন।
বিএনপির পক্ষে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ডা. জাফরুল্লাহও সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মঈনুল হোসেন সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন।
বেলা সাড়ে তিনটায় সমাবেশ শুরু হয়। এতে সূচনা বক্তব্য দেন ড. কামাল। তিনি বলেন, কার্যকর গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতেই তাঁদের এই ঐক্য প্রক্রিয়া।

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংসদ ভেঙে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি

৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের আহবান জানানো হয়েছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ থেকে। সমাবেশের ঘোষণাপত্রে এ দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে ৩০শে সেপ্টেম্বরের পর থেকে সারা দেশে সভা-সমাবেশ শুরু হবে। এতে জাতীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন। ঘোষণাপত্রে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনগত ও ন্যাংসঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়।

এতে বলা হয়, কোটা সংস্কার এবং নিরপদ সড়ক আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা মামলা সমূহ প্রত্যাহার করতে হবে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করা যাবে না। এ নাগরিক সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি যে, সরকার আগামি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮’র মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বির্নাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং তফসিল ঘোষণার পূর্বে বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দিবেন।

আমরা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি-এ গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মুক্তিসংগ্রামের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি শ্রেণি-পেশা ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’র কামিটি গঠন করুন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ গণজাগরণের কর্মসূচি অব্যাহত রাখুন।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!