ডাক্তার মঈনের মৃত্যুশোক হৃদয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরখাস্ত চাই

পীর হাবিবুর রহমান
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দীন শহীদ হয়েছেন। সুনামগঞ্জের সন্তান এ ডাক্তার করোনার যুদ্ধে প্রথম সারির যোদ্ধা। সিলেটে করোনায় আক্রান্ত হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছিলেন না। একটা ভেন্টিলেশন পাননি। ঢাকায় আসতে এয়ার এম্বুলেন্স দূরে থাক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কত আকুতি করেও পায়নি। অবশেষে আজ ভোরে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ডা. মঈন উদ্দীনের বাবা যখন মারা যান তখন তার বয়স দুই বছর। মা সংগ্রাম করে ছেলেকে পড়ান। ঢাকা মেডিকেলের মেধাবি ছাত্র ছিলো। ১০ বছর আগে মাকে হারায়। ১২ ও ৭ বছরের দুটি সন্তান এতিম হলো। স্ত্রী রিফাত অকালে বিধবা, সেও ডাক্তার। বড় অমায়িক রোগীর প্রতি যত্নশীল মঈন গরিবের ফি নিতেন না। দেশ তার মেধাবি সন্তানকে হারালো।
চীনের করোনার ভয়াবহতার পর সময় পেয়েও আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কার্যকর প্রতিরোধ গড়েনি। মূল যোদ্ধা চিকিৎসক ও তাদের সহকর্মীদের পিপিই দেয়নি। সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেশন মজুদ ও সরবরাহ করে সমন্বিত পরিকল্পিত শক্তিশালী চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়তে পারেনি। বড় বড় কথা বলেছেন কর্তারা। আমি শহীদ মঈনের শোক গাঁথা হৃদয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরখাস্ত চাই, সচিবের অপসারণ চাই। আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকেরও অপসারণ চাই। এই ব্যর্থতার দায় তাদের নিতেই হবে। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা ছাড়া কাউকে মানুষ বিশ্বাস ভরসা করে না। আমিও না। তাই এই অপদার্থদের বরখাস্ত চাই।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!