ট্রাম্পের ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ মানতে আব্বাসকে সৌদি-জর্ডানের চাপ:মিডলইস্ট মনিটর

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস – ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ মেনে নিতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে কয়েকটি আরব দেশ। সংবাদ সংস্থা কুদস নেট নিউজ এ খবর জানিয়েছে। মাহমুদ আব্বাসের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশগুলো চুক্তির ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার সময় সবুজ সংকেত দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তি হলে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকট অবসান হবে।

একই সূত্র কুদস নেট নিউজকে বলেছে, আরব দেশগুলোর এমন অবস্থানে আব্বাস ‘বিস্মিত’ হয়েছেন। তিনি ইতোমধ্যে চুক্তির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে বর্জন করার দাবি করে আসছেন। চুক্তিটিকে তিনি শতাব্দীর সেরা ‘চপেটাঘাত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

আরব দেশগুলোর এমন চাপ দেয়াকে আব্বাস ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলেও মনে করছেন। এর আগে গাজার ওপর আব্বাস প্রশাসনের নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থারও বিরোধিতা করেছিল এসব আরব দেশ।

সূত্র দাবি করেছে, গাজার মানবিক পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ করার বিনিময়ে ট্রাম্পের চুক্তি মেনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে এসব দেশ। ২০০২ সালের আরব-ইসরাইল শান্তি আলোচনার ভিত্তিতে ওই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিএলও কর্মকর্তা। ২০০২ সালে সৌদি আরব প্রস্তাবিত ওই শান্তি আলোচনার প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, সব আরব রাষ্ট্র ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে। বিনিময়ে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর দখল করা সব ফিলিস্তিনি এলাকা থেকে ইসারাইল নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে।

এর আগে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এই চুক্তি ফাঁস করার দাবি করে। পত্রিকাটি জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ (ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’-তে দুই রাষ্ট্রের প্রস্তাব করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, দখলকৃত গাজা উপত্যকা চলে যাবে মিসরের অধীনে। আর দখলকৃত পশ্চিম তীরের একাংশে থাকবে জর্দানের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব। পশ্চিম তীরের অবশিষ্ট অংশ শাসন করবে ইসরাইল। এখানে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের ইসরাইল রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
৩০ মার্চ থেকে ১৩১ ফিলিস্তিনীকে হত্যা

এদিকে সিনহুয়া জানায়, শনিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৩০ মার্চ থেকে ইসরাইলি সৈন্যরা ১৩১ ফিলিস্তিনীকে হত্যা করেছে। গাজায় বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলী সৈন্যরা গুলি চালালে বহু ফিলিস্তিনী হতাহত হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী ১৩১ ফিলিস্তিনীকে হত্যা করেছে। এ ছাড়াও তাদের হামলায় ৭ হাজার ৯৭৫ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এবং ৫৪ জন পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। ইসরাইলি সৈন্যরা চিকিৎসা কর্মী ও এ্যাম্বুলেন্সের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে জানায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই চিকিৎসাকর্মীরা বিক্ষোভস্থলে আহতদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য গিয়েছিলেন।

৩০ মার্চ থেকে গাজা ভূখণ্ডের পূর্বাঞ্চলে ফিলিস্তিনীরা ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভ শুরু করে। ২০০৭ সাল থেকে উপকূলীয় অঞ্চলটির ওপর ইসরাইলের কঠোর অবরোধ অবসানের দাবিতে এ বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!