২৩ দলীয় জোট ও ফ্রন্টকে সর্বোচ্চ ছাড় দিচ্ছে বিএনপি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২৩ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতাদের সর্বোচ্চ ৮০টি আসনে ছাড় দিতে চায় বিএনপি। তবে বিএনপি প্রাথমিকভাবে ৩০০ আসনেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করে রাখছে। পরে যেসব আসন জোট-ফ্রন্টকে ছাড় দেওয়া হবে সেখান থেকে দলীয় প্রার্থীকে তুলে নেওয়া হবে। রবিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জোট ও ফ্রন্টকে কত আসন দেওয়া হবে তা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়। সেখানে কেউ কেউ ৮০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। এর মধ্যে ২৩ দলীয় জোটকে ৪০টি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ৪০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি। তবে এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। সূত্রে জানা যায়, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২৩ দলীয় জোটের শরিকরা  চায় অন্তত দেড়শ আসন। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট চায় প্রায় ১০০ আসন। তাদের চাওয়ার তালিকায় অস্বস্তিতে বিএনপি। জোট-ফ্রন্টের প্রত্যাশার দিকে তাকালে বিএনপিকে অন্তত দেড়শ আসন ছেড়ে দিতে হবে। তবে শিগগিরই ২৩ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করবে বিএনপি। সম্প্রতি বিএনপির কাছে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ২৩ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো তালিকা পাঠিয়েছে। তাতেও প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ১০০। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু জোট ও ফ্রন্টের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। খুব শিগগিরই আমরা এ বিষয়ে বসব। তবে আসন বণ্টন নিয়ে কোনো জটিলতা হবে না।’

এদিকে জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে কোনো দল যদি শরিক দলের প্রতীক ব্যবহার করতে চায় তা জানাতে রবিবার পর্যন্ত সময় দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এখন নতুন তফসিল হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলো ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতীকের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ২৩ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াত চায় অন্তত ৫০টি আসন। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল হওয়া এ দলটি ধানের শীষ প্রতীক নয়, স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানা গেছে। বিএনপি তাদের জন্য ২৫টি আসন ছাড় দিতে পারে। এ ছাড়া শরিক দল এলডিপি ও খেলাফত মজলিশ ৩০টি করে আসন চায়। এক্ষেত্রে এলডিপিকে ১০টি ও খেলাফত মজলিসকে ৫ আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চায় ১৬। আর কল্যাণ পার্টি ১২, বিজেপি ৩, জমিয়ত ও লেবার পার্টি ৬টি করে আসন চায়।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরাম এরই মধ্যে শতাধিক নেতার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। তবে ড. কামাল হোসেন নিজে নির্বাচন করছেন না বলে দলের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা ১০০ নেতার ওপরে সাক্ষাৎকার নিয়েছি। এখনো এ বিষয় নিয়ে ফ্রন্টের বৈঠক হয়নি। সেখানে আমরা কত আসন চাইব তা তুলে ধরা হবে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডিও এরমধ্যে দলীয়ভাবে দেড় শতাধিক আসনে সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এরমধ্যে বিএনপির কাছে ৫০ জনের তালিকা দেওয়া হতে পারে। এ নিয়ে জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, আমরা বিএনপির কাছে কতটি আসন চাইব তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে  দেশ শতাধিক প্রার্থী সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। গতকাল আ স ম আবদুর রব, আবদুল মালেক রতন,  এম এ গোফরান, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বলে জানা গেছে। সূত্রে জানা গেছে, ৫০টির মতো আসন চাইতে পারে গণফোরাম। এর মধ্যে বিএনপি তাদের সর্বোচ্চ ১০টি আসন দিতে পারে। নাগরিক ঐক্য থেকেও ৪০টি আসন চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তবে

এ দলটিকে সর্বোচ্চ ১০টি আসন দেওয়া হতে পারে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা জানিয়েছেন। একইভাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের দলকে ১০টি করে আসন দেওয়া হতে পারে।

২০ দলীয় জোট সূত্রে জানা যায়, জোটের শরিকরা দেড়শ আসন চেয়েও খুশি নয়। তাদের অভিযোগ, বিএনপি এখন ঐক্যফ্রন্টকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে নানা ‘প্রলোভন’ এমনকি ‘ভয়ভীতি’ও তাদের টলাতে পারেনি। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি  মোকাবিলা করে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তারা বিএনপি জোট আঁকড়ে রয়েছেন। এর মধ্যে মামলা হামলা ও গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের ক্ষেত্রে হয়নি। তবুও তারা কারাবন্দী জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দিকে তাকিয়ে আসন নিয়ে তেমন একটা ভাবছেন না। জোটের শরিক দল ডেমোক্র্যাটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি বলেন, ‘মুক্ত খালেদা জিয়া ছাড়া তার দল নির্বাচনেই যাবে না। এ এটা হবে প্রহসন।’ বিএনপি অবশ্য শরিকদের আশ্বস্ত করে বলছে, জোটের শীর্ষ পর্যায়ের সব নেতাকেই মূল্যায়ন করা হবে।

ঐক্যফ্রন্টের তারকা নেতারা কে কোথায় :  জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তিনি চাইলে বিএনপি বগুড়ায় একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনটি ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্য ছেড়ে দেবে বিএনপি। সেখানে নেতা-কর্মীদের দিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তবে দুই সাবেক এমপি বিএনপির হাফিজুর রহমান ও জামায়াতের মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানও ওই আসনে প্রার্থী হতে মরিয়া। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নন। এর আগে ডাকসুর সাবেক ভিপি মান্না ’৯১ থেকে তিনবার এ আসনে নির্বাচন করেছেন। প্রথমবার জনতা মুক্তি পার্টির হয়ে, পরের দুবার ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। জিততে পারেননি একবারও।  ঢাকা-২ ও ৩ আসনের একটি থেকে লড়তে চান গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু।  মৌলভীবাজার-২ আসনে ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ভোটে লড়তে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে মনোনয়ন চাচ্ছেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের পাশাপাশি ঢাকায় একটি আসনে লড়তে পারেন  জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তার দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন কুমিল্লা-৪ থেকে ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নপ্রত্যাশী। নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম লড়তে চান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে। টাঙ্গাইল-৮ আসনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী লড়তে পারেন। এ ছাড়াও ঢাকায় একটি আসনে তিনি লড়তে পারেন বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!