ঢাকা-১৫ সহ জামায়াতের ২৫টি আসন চূড়ান্ত:আরো কয়েকটি আসন পেতে আলোচনা চলছে

২০ দলীয় জোটের শরীকরা কে কয়টি আসন পাবে তা নিয়ে শেষ মূর্হুর্তের আলোচনা চলছে। বিএনপি জানিয়েছে জোট শরীকদের সাথে আসন বন্টন নিয়ে সমঝোতা কাছাকাছি পৌঁছেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীকে ২৫টি আসন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-১৫ আসনও রয়েছে। এ আসনে নির্বাচন করবেন জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান। প্রতীকের বিষয়ে দলটির নায়েবে আমীর মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, তারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে চান। জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী চাপাইনবাবগঞ্জ-২ সহ আরো কয়েকটি আসন পেতে বিএনপির সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভূক্ত দলগুলোর সাথে বিএনপির আসন বন্টনের চূড়ান্ত সুরাহা এখনো হয়নি। ফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- প্রতিটি দল এখন নিজেদের মতো করে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবে। যারা বুধবারই নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেবে। বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে আসন বন্টন নিয়ে পুনরায় আলোচনায় বসবে ঐক্যফ্রন্ট। তবে মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য ৯টি আসনে ধানের শীষের মনোনয়নপত্র নিয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীকে ২৫টি আসন দেয়া হয়েছে

মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন:

ঠাকুরগাঁও-২ মাওলানা আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ মাওলানা আবু হানিফ, দিনাজপুর-৬ আনোয়ারুল ইসলাম, – নীলফামারী-২ মনিরুজ্জামান মন্টু,নীলফামারী-৩ মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম,  রংপুর-৫ অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, , গাইবান্ধা-১ অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, ঝিনাইদহ৩ অধ্যাপক মতিউর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৪ রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা-৫ ইকবাল হোসাইন, যশোর-২ সাবেক এমপি আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদত হোসাইন, বাগেরহাট-৩ অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ আবদুল আলীম; খুলনা-৫ সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার; খুলনা-৬ মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ মুফতি রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-২ শামীম সাঈদী, সিলেট-৫ সাবেক এমপি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট-৬ মাওলানা হাবিবুর রহমান, কুমিল্লা-১১ সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, চট্টগ্রাম-১৫ সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলাম, কক্সবাজার-২ সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আজাদ।ঢাকা-১৫  ডা. শফিকুর রহমান।

২০ দলীয় জোটের অন্য শরীকদের মধ্যে এলডিপি ৪টি আসন পেয়েছে। তবে আরো বেশ কয়েকটি আসন পেতে বিএনপির সাথে আলোচনা চলছে বলে নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, আমরা ১২টি আসন চেয়েছি। ৪টি আসনে নিশ্চয়তা পেয়েছি। আমাদের দলের প্রার্থীরা আরো কয়েকটি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন। মনোনয়ন বাছাই প্রক্রিয়ার পর এ বিষয়ে আমরা আবারো আলোচনায় বসবো।

এলডিপির ৪টি আসন হলো-চট্টগ্রাম-১৪ আসনে অলি আহমদ, কুমিল্লা-৭ রেদোয়ান আহমেদ, লক্ষীপুর-১ আসনে সাহাদাত হোসেন সেলিম ও নেত্রকোনা আসনে আব্দুল করিম আব্বাসী।

অন্য শরীকদের মধ্যে ভোলা-১ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, নড়াইল-২ এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, নারায়নগঞ্জ-৫ আসনে সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, চট্টগ্রাম- ৫ আসনে কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর শাহিনুর পাশা, কুমিল্লা-৬ সৈয়দ মহিউদ্দিন ইকরাম, যশোর-৫ মো. ওয়াক্কাস, খুলনা-৪ রেজাউল করীম, পিরোজপুর-২ আসনে লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, গাইবান্ধা-৩ টিআই ফজলে রাব্বী, চাঁদপুর-৩ এস এম এম আলম, কুষ্টিয়া- ২ আহসান হাবিব লিংকন ও ব্রাক্ষনবাড়ীয়া- ৪ সেলিম মাস্টার। এরা সবাই ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়নের জন্য প্রত্যয়নের চিঠি নিয়েছেন।

৯টি আসন পেয়েছে নাগরিক ঐক্য :
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্যের নয়জন প্রার্থীকে ধানের শীষের মনোনয়নপত্র দিয়েছে বিএনপি। এই নয়টি আসন হচ্ছে- বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্না, নারায়ণগঞ্জ-৫ এস এম আকরাম, চাঁদপুর-৩ ফজলুল হক সরকার, ময়মনসিংহ-২ অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ মোবারক হোসেন, সাতক্ষীরা-২ রবিউল ইসলাম, রংপুর-১ শাহ মো. রহমতউল্লাহ, রংপুর-৫ মোফাখখারুল ইসলাম নবাব ও বরিশাল ৪ আসনে কে এম নুরুর রহমান ।

নাগরিক ঐক্যের নেতা ডা: জাহেদ উর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেছেন, ৯টি আসনে তাদের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। কিন্তু চূড়ান্ত আলোচনায় এদিক-সেদিক হতে পারে।

আসন বন্টন নিয়ে মির্জা ফখরুল :
মঙ্গলবার বিকালে গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আমাদের দল থেকে এখন পর্যন্ত মনোনয়ন দিয়েছি প্রায় ৮‘শর মতো। ২০ দলীয় জোটের শরিকদেরও দেয়া হয়েছে। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন দিচ্ছেন। এটা আমরা পরে যখন বাছাই হয়ে যাবে তখন ঠিক করে নেবো।

২০ দলীয় জোটের শরিকদের কত আসন ছাড়ছেন প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটার সঠিক ফিগার বলতে পারবো না। জাতীয় যুক্তফ্রন্টের শরিকদের কেমন আসন ছাড়া হবে জানতে চাইলে ফ্রন্টের মুখপাত্র বলেন, এখন তারা তাদের দল থেকে মনোনয়ন দিচ্ছেন। পরে এটা আলোচনা করে ঠিক করা হবে।

তাহলে কী সর্বমোট আসন বন্টন ৬০ এর বেশি হবে না- এরকম প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মনে হয়।’
জানা গেছে, আসন বন্টন নিয়ে গতকাল কয়েক দফায় ঐক্যফ্রন্টের সাথে বৈঠক করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতের গঠনতন্ত্রে স্বার্বভৌমত্বের মালিক আল্লাহ এই ধারা থাকার কারণে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। গত ২৮ অক্টোবর জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাই দল হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ নেই জামায়াতের। তবে জামায়াত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিংবা নিবন্ধিত অন্য কোনো দলের প্রার্থী হয়ে সেই দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবেন। এ বিষয়ে ৯ নভেম্বর ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, অনিবন্ধিত কোনো দল নিবন্ধিত কোনো দলের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচন করতে চাইলে ইসির কিছু করার থাকবে না। এই বিষয়ে আইনে কোনো ব্যাখ্যা নেই।প্রথম আলো& Noyadiganta

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!