বিএনপি বৃহত্তর জোট করতে পারে বলে পাল্টা তৎপরতা আওয়ামী লীগের

• বৃহস্পতিবার কাদের সিদ্দিকী-নাজমুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদের 
• মঙ্গলবার সিপিবির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদের
• বিএনপি বৃহত্তর জোট করতে পারে বলে পাল্টা তৎপরতা আওয়ামী লীগের

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জোট-মহাজোট গঠনের তৎপরতা জোরেশোরেই শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে ১৪ দল ও সমমনা মহাজোটের বাইরে থাকা দলগুলোকে নিজেদের পক্ষে আনা কিংবা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা।

এরই অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদা ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কাদের সিদ্দিকী গতকাল বেলা তিনটা থেকে প্রায় আধা ঘণ্টা ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর চারটার দিকে সেতুমন্ত্রীর দপ্তরে বৈঠক করেন নাজমুল হুদা। বিএনপির সাবেক এই মন্ত্রী কয়েক দফা দলবদল করে এখন বিএনএ জোট নামে একটি মোর্চার আহ্বায়ক।

জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আবু নাসের প্রথম আলোর কাছে কাদের সিদ্দিকী ও নাজমুল হুদার বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ে গিয়ে দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদের। সিপিবি আটটি বাম ঘরানার দল নিয়ে একটি জোট করেছে সম্প্রতি। ১৮ জুলাই নাজমুল হুদার বিএনএসহ নয়টি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে মতবিনিময় করে।

জানতে চাইলে নাজমুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, আগামী ১৫ আগস্ট শোক দিবসে বিএনএর কর্মসূচিতে ওবায়দুল কাদেরকে দাওয়াত দিয়েছেন। আর সরকারি জোটের অংশ হয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য তৎপরতা চলছে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট থেকেও কিছু দলকে বের করে আনার তৎপরতা আছে। এ ক্ষেত্রে ১৪-দলীয় জোট সম্প্রসারণ কিংবা জাতীয় পার্টিসহ ২০০৮ সালে যে নির্বাচনী মহাজোট গঠন করা হয়েছিল, তাতে নতুন দলের অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা আছে।

কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এমনকি ভোটের আগে-পরে তিনি ওই নির্বাচনের কঠোর সমালোচনা করেন। কিন্তু গত বছরখানেক ধরে কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন বলে সরকারি দলের একাধিক সূত্র জানায়।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী একটি সূত্র বলছে, বিএনপি বাম ঘরানার কিছু দল এবং রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি আছে এমন ব্যক্তিদের দল নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিএনপির শক্তি বৃদ্ধির তৎপরতার পাল্টা প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে আওয়ামী লীগ।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান প্রথম আলোকে বলেন, এসব বৈঠক-সাক্ষাতের কিছু কিছু সৌজন্যতা। আওয়ামী লীগ এখন পুরোপুরি নির্বাচনী প্রস্তুতির মধ্যে আছে। ফলে সব বৈঠক-সাক্ষাতেই নির্বাচন স্থান পায়।প্রথম আলো

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!