জাতীয় শোক দিবস :মুজিব তুমি অম্লান

মাহবুব সুয়েদ ,লন্ডন
১-শেখ মুজিব যখন ৬৯এ বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠলেন তখন তার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশসম।দক্ষিন এশিয়ায় জিন্নাহ-গান্ধি পরেই তাকে বাঙ্গালী জাতির নেতা হিসেবে ধরা শুরু হল।মাত্র কয়বছরের মধ্যে তিনি হয়ে উঠলেন মজলুমের পক্ষে লড়াইয়ের প্রতীক পুরুষে।মানুষ তাকে অনুসরন করা শুরু করল।তার পোষাক(মুজিবকোট),তার পাইপ টানা,তার বক্তৃতার ঢং সবি মডেল হতে লাগল।আওয়ামীলীগাররা তাকে সময়ের ব্যবধানে দেশ স্বাধীনের পরে জাতির পিতার পাশাপাশি দেবতাসম বানাতে শুরু করল।তিনি ছিলেন উদার এবং আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ কিন্তু প্রশাসন চালনায় ছিলেন একেবারে অনভিজ্ঞ একজন।ফলে যা হবার তাই হল।
২-লীগারদের চুরি-চামারি আর সদ্য স্বাধীন দেশে ৭৪র দুর্ভিক্ষ এবংর্ মার্কিনীদের সাউথ ব্লক নিয়ে রাজনীতি ইত্যাদি মিলে তাকে হত্যার জন্যে পটভুমি তৈরি করা হয় অনেক পরিকল্পনা নিয়ে।ডিজিএফ আই আর ‘র’ অনেকবার তাকে সতর্ক করতে লাগল তার জীবন নিয়ে।কিন্তু তার বিশ্বাস ছিল,পাকিরা আমায় মারতে সাহস করেনি আর বাঙ্গালীরা কি করে মারবে।আফসোস!মার্কিন,পাকিস্থান ও দেশের ভেতরে থেকে যাওয়া পাকপন্থি অংশসহ সবাই ইতিমিধ্যে ময়দান ম্যনেজ করে ফেলেছে তাকে একজন ‘ভারতীয় তাবেদার’ আর তার ভুল রাজনৈতিক পদক্ষেপ ‘বাকশালের’ জন্যে মানুষের কাছে ধারনা পৌছেগেল যে,তিনি রাজতন্ত্র কায়েম করতে যাচ্ছেন।
৩-সাড়ে সাতকোটি মানুষ সদ্য স্বাধীন দেশ পেয়েছে।এমনিতে যুদ্বে হারানো সম্পদ আর সন্তানাদীর কথা ভেবে মানুষের মনে একটি মিলিটারি আতংক ঢুকে গিয়েছিল।ফলাফল যা হবার তাই হল।বাম আর মার্কিনীদের এবং পাকিস্থানপন্থিদের পরোক্ষ সহায়তায় আর আশ্রয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষিপ্ত দ্বিতিয় শ্রেনীর অফিসারদের প্রত্তক্ষ্য সহায়তায় ৭৫র ১৫ই আগষ্ট তাকে জীবন দিতে হয়।
৪-আগে বলেছি তার মৃত্যুর আগেই পরিবেশ তৈরি করা হয়ে গিয়েছিল তাজ উদ্দিনকে দুরে সরিয়ে দিয়ে এবং তার ইমেজকেও শুন্যে নামিয়ে দেয়া হয়েছিল বাস্তবতাকে ব্যবহার করে আর গোয়েবলসীয় থিওরতে।ফলাফল তিনি মরলেন স্ব-পরিবারে।সেনাবাহিনীর ক্যু-পাল্টাক্যু এবং সদ্য স্বাধীন দেশ হওয়ায় সাধারন জনতা বা মুজিবভক্ত কেউই আর সাহস করেনি ময়দানে নামতে।তাছাড়া তার লাশ রেখেই তোফায়েল রাজ্জাক আর মিজান চৌঃরা দলের নেতৃত্ব নিয়ে লড়াই শুরু করে দেয়।
৫-বুঝতে হবে,শেখ সাহেবের বাড়ি গোপালগঞ্জে ছিল আর ঢাকায় তার দু বোনের পরিবার এবং তার ভাই শেখ নাসেরকে আর পুত্রদেরও হত্যা করা হয় একি দিনে।রাজনৈতিক সতীর্থ ছাড়া আর কেউই ছিলনা ঢাকায়।যে কিনা লাশটা নিবে।গোপালগঞ্জ গ্রামের বাড়িতে তার হত্যার দিন সকালেই মোশতাক ক্ষমতা নিয়ে প্রশাসন আর মিলিটারি দিয়ে দেয় যাতে গ্রামের কেউ আবেগ দেখাতে বা প্রতিবাদ না করতে পারে।সেনাবাহিনীর কপ্টারে করে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় আর সেনাবাহীনির ভয়ে কেউ সেখানে আসতেও সাহস করেনি।সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে রাতের আধারে ১৮ জন নিকটাত্মীয় নিয়ে জানাজা এবং দাফন হয়।মিলিটারি ভয়ে সাহস করে কেউ জানাজায়ও আসেনি।
৬-আমরা রাজনীতিকে রাজনীতির জায়গায় রাখব এবং ইতিহাসকে বাস্তবতার আলোকে মুল্যায়ন করব।আমরা একবিংশ শতাব্দির সন্তান।দলীয় চিন্তা বা সংকীর্ন মন নিয়ে একজন মুজিব,ভাসানী,সোওরাওয়ার্দী বা জিয়ার মুল্যায়ন করা উচিত নয়।মনে রাখা দরকার,ইতিহাস সাক্ষী দুনিয়ার ইতিহাসে যারাই মানবতা বা বিশেষ কোন জাতির নেতা ছিল তাদের খুব কম লোকই স্বাভাবিক মৃত্যুবরন করেছে বরং তাদের বেশিরভাগ আত্মায়ীর হাতে জীবন দিয়েছে এবং মুজিবও তার ব্যতিক্রম নয়।কিন্তু দুনিয়ার ইতিহাস বলে যে মহান নেতাদের হত্যা করা হয় তারা চলে যায় অনেক অবহেলা আর নির্যাতীত হয়ে কিন্তু তারা রয়ে যায় ইতিহাসের অবিচ্ছ্যদ্য অংশ হিসেবে যেমনটি মুজিব বা জিয়া রয়ে যাবে।কাজেই বলি কবি গুনের ভাষায়-
“যতদিন রইবে পদ্মা মেঘনা যমুনা সুরমা বহমান
ততদিন তুমি অম্লান থাকিবে হে মুজিবুর রহমান”!

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!