৪০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল জনসভায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান বিএনপির :ইসি পুনর্গঠন ও খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি

গতকাল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আয়োজিত নয়াপল্টনে বিএনপি’র জনসভার একাংশ -ছবি: শাহীন কাওসার

নেতাকর্মীদের বিপুল অংশগ্রহণে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ থেকে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। চলমান জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে সকল রাজনৈতিক দল, শ্রেণি-পেশার মানুষ সবার প্রতি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির নেতারা। তারা বলেছেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। ইভিএম পদ্ধতি বাতিল করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে। বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে নেতারা এসব দাবি জানান। নেতারা তাদের বক্তব্যে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি।

আর বিভেদ নয়, আসুন বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন আর বিভেদ নয়Ñ গণতন্ত্র ও দেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সব রাজনৈতিক দল, সংগঠনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের বুকের ওপর যে দুঃশাসন চেপে বসেছে তাদেরকে পরাজিত করতে হবে। জনগণের দাবি আদায় করতে হবে। অপশাসনকে পরাজিত করে জাতিকে মুক্তি দিতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সবাইকে আহ্বান জানাব, গণতন্ত্রকামী সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হোন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন। দেশকে স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত করুন। কারণ দেশনেত্রী কারাগারে যাওয়ার আগে বলে গেছেন এ সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে একটি জাতীয় ঐক্য গঠনের জন্য। সেই জাতীয় ঐক্য তৈরি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা স্বাগত জানাই যারা আজকে ঐক্য করছে। আমরা তাদের আহ্বান জানাই আসুন আরো বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি। আসুন সবাই ভেদাভেদ ভুলে একটি জাতীয় ঐক্য গঠন করে এ অবৈধ দানবকে পরাজিত করি।

একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। তফসিল ঘোষণার আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে। এছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, জনগণ হতে দেবে না।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতারা রাতে ঘুমাতে পারেন না। এই বুঝি খালেদা এলো, এই বুঝি তারেক রহমান এলো। ২৪ ঘণ্টাই তারা এমন বিএনপি-ভীতির কারণে ঘুমাতে পারেন না। শুক্রবার রাতে সারা দেশে বিএনপির প্রতিটা নেতাকর্মীর বাড়িতে পুলিশ রেইড দিয়েছে। আজ সারা দেশে বিএনপির এই সমাবেশে বাধা দিয়েছে। মির্জা আলমগীর বলেন, সরকারের মধ্যে এখন যে বিএনপি-ভীতি কাজ করছে সে ভীতি থেকে রক্ষা পেতে আগামী সংসদ নির্বাচনে ইভিএম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। তারা ভাবছে ইভিএম তাদের রক্ষা করে নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছে দেবে, কিন্তু জনগণ তাদের রক্ষা করবে না। মির্জা আলমগীর বলেন, আগে আওয়ামী লীগ দাবি করতো তাদের সঙ্গে তরুণ সমাজ আছে। কিন্তু এখন এই তরুণ-যুবকরা চায় এই দুঃশাসনের পাথর যেন তাদের বুকের ওপর থেকে সরে যায়। আর আজ শিশু-কিশোররাও দিন গোনে কখন সরকারের পতন হবে। আওয়ামী লীগ এমনই একটি দেউলিয়া রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ থেকে মানুষ দূরে সরে গেছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা রাস্তায় নেমেছিল। আপনারা দেখেছেন কীভাবে তাদের হেলমেট পরা বাহিনী দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করে মারতে মারতে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

মির্জা আলমগীর বলেন, দেশে একদলীয় বাকশাল থেকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে বিএনপি গঠন করেছেন জিয়াউর রহমান। যেভাবে ১৯৭১ সালে জাতির ক্রান্তিকালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসনের কারণে আজ আবার সেই গণতন্ত্র সংকটের মুখে। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মহাসচিব বলেন, আমাদের আজ বুকে সাহস নিয়ে, বুকে বল নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। বুকের রক্ত দিতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আজকের জনসমুদ্র প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়–ন। বুকে হাত দিয়ে বলুন, বাংলাদেশকে মুক্ত করবোই, গণতন্ত্রকে মুক্ত করবোই। তিনি বলেন, মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রীকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছেÑ অবৈধ সরকারের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। আমি জনগণের কাছে ফরিয়াদ করতে চাই, দেশনেত্রী আজ গণতন্ত্রের জন্য কারাগারে রয়েছেন। স্বামী হারিয়েছেন, পুত্র হারিয়েছেন, বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন। তার এক পুত্র নির্বাসিত। তার কী এটা প্রাপ্য এই জাতির কাছে? আমাদের মাতা, গণতন্ত্রের মাতাকে আর কারাগারে দেখতে চাই না। তিনি বলেন, যারা দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে, তাদের রক্ত ছুঁয়ে শপথ নিতে হবে আমরা দেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করবো, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো। দেশের মানুষ গণতন্ত্রের মা’কে আর কারাগারে দেখতে চায় না।

মির্জা আলমগীর বলেন, আমাদের নেত্রীকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা বাতিল করতে হবে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি বলেন, এখন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে সাজা দিতে চাইছে। সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করেছে। তিনজন আইও পরিবর্তন হওয়ার পরে আওয়ামী লীগ সরকার আসার পরে নতুন করে তদন্ত করিয়েছেন। মুফতি হান্নানকে দিয়ে ১৬৪ ধারায় একটা মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করে তারেক রহমানকে আসামি করেছে। রায়ের আগে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে দিচ্ছেন, এ মামলায় খালেদা ও তারেক রহমানের সাজা হবে। তাহলে কি আপনারা আগেই গণভবনে রায় লিখে রেখেছেন। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই এই ধরনের ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না। দেশের মানুষ এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে। তাই সরকারের উদ্দেশে মির্জা আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় আপনাদের নিতে হবে। দেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। আমাদের কথা পরিষ্কারÑ খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতেই হবে। বিএনপি মহাসচিব তার বক্তব্যের সমাপ্তিতে ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দাও, মুক্তি দাও’; ‘সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, করতে হবে’; সরকারের পদত্যাগ করতে হবে, করতে হবে’; ‘নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে, করতে হবে’Ñ এসব সেøাগান ধরে নেতাকর্মীদের সেøাগান দিতে বলেন।

আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন: ড. মোশাররফ

নেতাকর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের নেতা-কর্মীদের কাছে আবেদন, আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হোন। আন্দোলন ছাড়া, দেশনেত্রী মুক্ত হওয়া ছাড়া, মাদার অব ডেমোক্রেসির মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র মুক্ত হবে না। জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে না। আন্দোলনের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য আমি প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ বলেন, আপনাদের বলতে চাইÑ নির্বাচনের আগে আপনারা অতীতের কথা ভুলে গিয়ে নিরপেক্ষ হয়ে যান, ভালো হয়ে যান। এদেশের মানুষ আপনাদের থেকে নিরপেক্ষতা আশা করে। তিনি বলেন, এদেশে যারা অর্থ লুট করেছে, ব্যাংক লুট করেছে, শেয়ারবাজার ডাকাতি করেছেÑ এই সকল ব্যক্তি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী। প্রজাতন্ত্রের সকল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আহ্বান নির্বাচনের আগে তফসিল ঘোষণার আগে বা পরে তারা যেন দেশ ছেড়ে চলে যেতে না পারে তার ব্যবস্থা আপনাদের গ্রহণ করতে হবে। যারা মালয়েশিয়া, কানাডায় সেকেন্ড হোম করেছেন তাদের নাম আপনারা জানেন তাদের আপনারা চিহ্নিত করুন।

আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদার মুক্তি সম্ভব না: মওদুদ

আইনি প্রক্রিয়ায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, আমরা আইনজীবীরা আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। যতবার সফলতার দোরগোড়ায় গেছি তখনই সরকারের কলাকৌশল আর ষড়যন্ত্রের কারণে জামিন বিলম্বিত হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভবপর নয়। একমাত্র পথ হলো, রাজপথ। এই রাজপথে যাওয়ার জন্য এখন আপনাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদেরকে এখন নেত্রীকে মুক্ত করে নির্বাচনের দিকে এগুতে হবে। একদিকে নির্বাচন, একদিকে আন্দোলন। আন্দোলন হবে নেত্রীর মুক্তি ও একটি নিরপেক্ষ সরকারের জন্য। নির্বাচনের আগে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার দাবি জানান প্রবীণ এ পার্লামেন্টারিয়ান। তিনি বলেন, পার্লামেন্ট কেন ভেঙে দিতে হবে এটা অনেকে বোঝে না। একটি সংসদ রেখে আর একটি সংসদ নির্বাচন পৃথিবীতে নজিরবিহীন। আমি যদি সংসদ সদস্য থাকি এবং নমিনেশন পাই তাহলে দেশের প্রশাসন এবং পুলিশ প্রত্যেকে আমার পক্ষে থাকবে। তখন আমার প্রতিপক্ষ কোনোদিন জয়লাভ করতে পারবে না। তাই আমরা ৯০ দিনের মধ্যে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার দাবি জানিয়েছি। জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেয়া হয়েছে, আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে আমাদের আন্দোলনের যা কিছু করা যায় করবো এবং বাংলাদেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবো। মওদুদ বলেন, ১১ই এপ্রিল পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেনÑ কোটা পদ্ধতি তুলে দিলাম। দুই মাস যেতে না যেতেই ২৭শে জুন একই পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তিনি বললেনÑ কোটা পদ্ধতি থাকবে। কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর যে অত্যাচার, জুলুম করা হয়েছে, এর ক্ষোভ কোনোদিন তাদের মন থেকে মুছে যাবে না। একই কাজ করা হয়েছে নিরাপদ সড়কের দাবি করা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের দাবি যুক্তিযুক্ত বললেও পরে তাদের ওপর চালিয়েছে স্টিম রোলার। অনেককে মামলা দিয়েছে। এর মাসুল সরকারকে দিতে হবে। নতুন প্রজন্ম আর কোনোদিন আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দেবে না। সড়ক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম বুলগেরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় একটি বাসের ১৭ জন যাত্রী মৃত্যুবরণ করেছে। এতে সেখানকার তিনজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। আগেরকার কথা বাদ দিলাম, এই গত ঈদের সময় থেকে ২৫৯ জন সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে। প্রতিদিন ২০ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। এজন্য আমি সড়ক, পরিবহন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করছি।

নিরপেক্ষ নির্বাচনে সরকারের ভয় কেন: ব্যারিস্টার জমির

নিরপেক্ষ নির্বাচনে এত ভয় কেনÑ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তা জানতে চান বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রেখেও কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্যও হবে না। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে সফল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। বাংলার ইতিহাস থেকে জিয়ার ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রসঙ্গে জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, তিনি দেশে ফিরে এলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মানুষ জেগে উঠবে।

সরকার জনস্রোত রুখতে পারেনি: আব্বাস

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সরকারের উদ্দেশে বলেন, গতরাতে (শুক্রবার) বাসা-বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েও আপনারা জনসভার জনস্রোত রুখতে পারেননি। এই জনসভা আপনাদের পতন ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে। সরকারকে বলতে চাই, এখনো সময় আছে সাবধান হোন। দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন।

জেলেই দেখা হতে পারে: গয়েশ্বর

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আপনি যদি খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিয়ে পুলকিত হন, তাহলে ধরে নেন, স্বল্পদিনের মধ্যে খালেদা জিয়ার সঙ্গে জেলেই আপনার দেখা হতে পারে। ফলে, তা না করে তাকে মুক্তি দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। জনগণ যাকে চাইবে, তিনিই সরকার পরিচালনা করবেন। গয়েশ্বর রায় বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিলেই যে বিএনপি নির্বাচনে যাবেÑ তা কে বললো? সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচনকালীন সরকার নির্দলীয় হতে হবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ ও এরশাদ ছাড়া এদেশের সকল মানুষ চায়। এই এরশাদ গৃহপালিত বিরোধী দল নয়, হিজড়া। তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরুদ্ধে। আমি বলবো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের পথে আসুন। গণতন্ত্রের পথে যারা যাবে তাদের বাধা দেবেন না।

ইভিএমসহ সবকিছু ভেসে যাবে: আমীর খসরু

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্ষমতায় থাকার নীলনকশায় ওরা (সরকার) ভরসা করতে পারছে না বলে এখন ইভিএম’র ওপর ভর করেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। আর অবৈধভাবে জোর করে ক্ষমতায় থাকা যাবে না। নইলে গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য যে সুনামি আসবে তাতে ইভিএমসহ সবকিছু ভেসে যাবে। দেশের জনগণ আজকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত হতে  ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে কোনো নির্বাচন হবে না। আগামী দিনে তাকে মুক্ত করেই নির্বাচনে যাবে বিএনপি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দলের প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় সমাবেশে ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আযম খান, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, মশিউর রহমান, ফজলুল রহমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল বাসিত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান প্রমুখ। সমাবেশে ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার, ফরহাদ হালিম ডোনার, প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন, সমমনা সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সমাবেশে ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিইউজের একটি প্রতিনিধি দল সমাবেশে অংশ নেন।

পল্টন জনসমুদ্র, নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত

বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টনে আয়োজিত সমাবেশটি বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। এর আগে নয়াপল্টনের আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর বাংলামটর, শাহবাগ, গুলিস্তান, মতিঝিল, মুগদা, বাসাবো, মালিবাগ, শান্তিগরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে খ- খ- মিছিল নিয়ে সমাবেশের দিকে আসছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। বিএনপিপন্থি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ব্যানারসহ অংশ নেন সমাবেশে।

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয়

বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনের সমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। নয়াপল্টন, কাকরাইল ও আরামবাগ এলাকায় সতর্ক অবস্থান ছিল পুলিশ। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ওই এলাকায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশের একটি টিম কাকরাইল রুপায়ন টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেয়। অন্য টিমটি আরামবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়। সকাল থেকে দপুর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নাইটেংঙ্গেল মোড় ও আরামবাগ এলাকায় অবস্থান নিলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে জনসভা লোকে লোকারণ্য হয়ে গেলে তারা সেখান থেকে চলে গিয়ে রুপায়ন টাওয়ারের সামনে এবং আরামবাগ মোড়ে অবস্থান গ্রহণ করেন। পুলিশকে জনসভায় অংশগ্রহণকারীদের কাউকে তল্লাশি করতে দেখা যায়নি। তবে, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক সদস্যকে সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। কোনো কোনো সদস্য আশপাশের ভবনের ছাদে উঠে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তারা ওয়াটকিতে জনসভার তথ্য ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে দেখা গেছে। এছাড়াও র‌্যাব-৩ এর একাধিক গাড়িকে ওই এলাকায় টহল দিতে দেখা  গেছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বিঘœ করার জন্য র‌্যাব সকাল থেকে দায়িত্ব পালন করেছে। অপ্রীতিকর অবস্থা এড়ানোর জন্য কাকরাইল মোড়ে পুলিশের রায়টকার মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে। এছাড়াও আরামবাগ মোড়ে পুলিশের জলকামান মোতায়েন ছিল। এদিকে, গতকাল সকাল থেকে নাইটিংঙ্গেল মোড় থেকে আরামবাগ এলাকা পর্যন্ত যানচলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। যানবাহনগুলো বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেয় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। তবে ওই সড়কগুলোতে কোনো ব্যারিকেড বসানো হয়নি। এতে ওই সড়কে সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ছুটির দিন থাকার কারণে আশপাশের এলাকার তেমন যানজট সৃষ্টি হয়নি। পথচারীরা নির্বিঘেœই গন্তব্যস্থলে গেছেন। অনেককেই হেঁটে কাকরাইল থেকে আরামবাগ এলাকায় যেতে দেখা গেছে। জনসভার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) কৃষ্ণপদ রায়ের নেতৃত্বে একটি দল গতকাল সকালে কাকরাইল এলাকায় যান। তিনি সেখানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা এবং বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।

জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি

৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে বিএনপি। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজ আমাদের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই দিনটি আমাদের জন্য আজ কোনো উৎসবের দিন নয়। দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতার মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। কারণ আমাদের দলের চেয়ারপারসন আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও মিথ্যা মামলায় নির্বাসিত। তাদেরকে ছাড়াই আমরা আজ এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসেছি। আজকের এই দিনে আমরা শপথ করবো, এই ফ্যাসিস্ট সরকার, গণতন্ত্রবিরোধী সরকার, সমাজবিরোধী সরকার যারা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়েছে, রাষ্ট্রের সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে, তাদেরকে অপসারণ করে গণতন্ত্র ও দেশনেত্রীকে মুক্ত করার জন্য এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। ইনশাআল্লাহ অচিরেই আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটি, কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শেরেবাংলা নগরস্থ মাজারটি সাংগঠনিকভাবে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এলাকাভুক্ত। কিন্তু বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিষ্ঠাতার মাজারে শ্রদ্ধা অর্পণ অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দেখা যায়নি। এর আগে গতকাল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির মধ্যে ভোরে নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করে দলটির নেতাকর্মীরা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে পোস্টার ছাপানো হয়।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!