জর্দান সংকট ও ইসরাইলের আল আকসা ধ্বংস পরিকল্পনা: মাসুম খলিলী

জর্দানে ধূমায়িত অসন্তোষের পথ ধরে হঠাৎ রাজপথে বিষ্ফোরণের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে নিয়ে নানা মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। আরব বসন্তের সময় যে ধরনের বিক্ষোভ জর্দানে হয়েছিল এবারের বিক্ষোভ সেটিকে ছাড়িয়ে গেছে। এবারের বিক্ষোভ একদিকে সারা দেশের প্রায় সব শহরে হয়েছে অন্য দিকে এবারই প্রথম রাজার ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এবারের পরিস্থিতি তৈরির পেছনে এমন সব আঞ্চলিক খেলোয়াড়ের হাত রয়েছে বলে মনে হচ্ছে যারা এক সময় নানা সঙ্কটে জর্দানের পাশে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি বিষ্ফোরণোন্মুখ হয়ে উঠলে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে আশঙ্কায় তারা সীমিতভাবে জর্দানকে সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছে। তবে এবারের জর্দানের সঙ্কটের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংবেদনশীল অনেক ঘটনা ও ভবিষ্যৎ গতিধারার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সৌদি উদ্যোগের নেপথ্যে-

জর্দানের সঙ্কট উত্তরণের জন্য সম্প্রতি সৌদি বাদশাহ সালমান তিন দেশের সরকার প্রধানদের বৈঠক ডেকে তাতে বাদশাহ আবদুল্লাহকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এর আগে ক্রমবর্ধমান মূল্য পরিস্থিতি এবং কর বাড়ানোর পরিকল্পনা কার্যকর করার সময় জর্দানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ কুয়েতে এক দূত পাঠিয়েছিলেন। প্রতিবাদের সময় কুয়েতের একজন প্রতিমন্ত্রী জর্দানে ছিলেন। অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে কুয়েত জর্দানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার জমা রাখা এবং কম সুদে ৫০ কোটি ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়। এর পর সাড়া আসে কাতার থেকে। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি আবদুল্লাহর সাথে কথা বলে “তাৎপর্যপূর্ণ আর্থিক সহায়তা” প্রদানের প্রতিশ্রতি দেয়। জর্দানের অনুরোধে কাতার এই সহায়তার কথা প্রকাশ করেনি। কাতার থেকে ফোন করার কয়েক ঘন্টা পরে সালমান আবদুল্লাহকে ফোন করেন। সম্ভবত কাতারের পদক্ষেপের কথা জানার কারণে সালমান এই বৈঠকের আহ্বান করে থাকতে পারেন। বৈঠকে কুয়েতের আমির, শেখ সাবাহ আল-আহমদ আল-সাবাহ এবং দুবাইয়ের আমির ও ইউএই’র প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন মাক্তুম অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বাদশাহ সালমান ডি-ফ্যাক্টো ইউএইর শাসক,মোহাম্মদ বিন জায়েদকে ডেকেছিলেন।কিন্তু তিনি সে আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে প্রতিনিধিত্ব করতে পাঠান বিন মাকতুমকে।

এই বৈঠকে ২৫০ শত কোটি ডলারের এক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করে সৌদি বাদশাহ সালমান এমন একটি ভাব দেখান যে তিনি এ ব্যাপারে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন। অথচ এর মধ্যে এক শত কোটি ডলারের সহায়তার কথা কুয়েত আগে জানিয়েছে বাদশাহ আবদুল্লাহকে। এর সাথে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মিলে আর দেড়শ কোটি ডলার যোগ করেছেন। যা কুয়েতের অবদানের চেয়ে বেশ কম।

কেন এই সঙ্কট?

আসলে জর্দানে যে এই ধরনের একটি অবস্থা দেখা দিতে পারে তা হিসেবের বাইরে ছিল না মোটেই। জর্দানের বর্তমান শাসক পরিবার একসময় ছিলেন হেজাজের শাসক। পবিত্র মক্কা ও মদিনা ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণে। আবদুল্লাহর পূর্ব পুরুষ শরীফ হোসেন উসমানীয় খেলাফতের সময় বৃটিশদের সাথে যোগসাজস করে তুর্কি খেলাফতের প্রতি আনুগত্য প্রত্যাহার করার সময় এই অঞ্চলের শাসনভার পাবেন বলে প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু বাদশাহ আবদুল আজিজের সৌদি আরবেই সংযুক্ত হয় মক্কা মদিনা। হেজাজের প্রভাবশালী ওয়াহাবারীরা সৌদ পরিবারকে সমর্থন করায় শরীফ হোসেনের ভাগ্যে জুটে ট্রান্স জর্দানের একটি প্রাকৃতিক সম্পদহীন অঞ্চল। পাশের ইরাকের শাসক বানানো হয় জর্দানের বাদশাহ হোসেনের চাচাতো ভাইকে। ইরাকের তেল সহায়তায় হাশেমী পরিবারের বাদশাহ হোসেন ও তার পূত্র আবদুল্লাহ জর্দান শাসন করে আসছিলেন।

পাশ্ববর্তী ফিলিস্তিন অঞ্চল দখল করে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর ফিলিস্তিনী শরণার্থির বিপুল অংশ আশ্রয় নেয় জর্দানে। দেশটির ১ কোটি জনসংখ্যার ৬০ ভাগেরই বেশি হলো ফিলিস্তিন বংশোদ্ভুত। এখন দেশটিতে যে জনসংখ্যা রয়েছে তার ৩০ শতাংশ হলো অ-নাগরিক। বিপুল শরণার্থীর ভার বহন করতে আরব দেশগুলো জর্দানকে শুরু থেকে সহায়তা করে আসছিল। এর ফলে জর্দান হয়ে পড়ে বিদেশি সাহায্য নির্ভর একটি দেশে। সাহায্যদাতারা বিভিন্ন সময় এই সাহায্য নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির নীতিকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা নেয়।

আগের ফিলিস্তিনী উদ্বাস্তু প্রবাহের পাশাপাশি সিরিয়ার সঙ্কট শুরু হবার পর লক্ষ লক্ষ শরণার্থি নতুন করে জর্দানে আশ্রয় নেয়। বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব অনুসারে তাদের জন্য সরকারকে বছরে দেশটির যে রাজস্ব আয় হয় তার ২৫ শতাংশ ব্যয় করতে হয়। এটিা জর্দানের মোট জিডিপির ৬ শতাংশের সমান। এই ব্যয়ের ৬৭ শতাংশ বহন করতে হয় জর্দান সরকারকে। এর মধ্যে্‌ সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো তেল ও নগদ সহায়তার মাধ্যমে যে অর্থ দিয়ে আসছিল ইয়েমেনের যুদ্ধে জড়ানো এবং ইসরাইলের সাথে বিশেষ সম্পর্ক তৈরি নিয়ে নীতিগত কিছু মতানৈক্যের কারণে গত দুই বছর ধরে তা তারা বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রও তার সহায়তা ইসরাইলের রাজধানী জেরুসালেমে সরিয়ে নেবার ইস্যুকেে সমর্থন না করায় সংকুুচিত করে ফেলে।

এর আগে আরব বসন্তের সময় আরব পর্যটক আগমণ ব্যাপকভাবে কমে যাবার ফলে এমনিতেই চাপে ছিল পর্যটন নির্ভর দেশটির অর্থনীতি। রেমিটেন্সের উপরও এর প্রভাব পড়ে। এসবের সম্মিলিত প্রভাবে বেকারের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ১৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। শিক্ষা স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সেবা খাতের ব্যয় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। অন্য দিকে আইএমএফ’র পরামর্শে সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন কর আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌছে যে সরকারের কর্মচারিদের বেতন পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় জনগণ যে রাস্তায় নেমে আসবে সেটি ছিল অনিবার্য বাস্তবতা। এই ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতিতে জাতীয় পর্যায়ের দুটি শ্রমিক ফেড়ারেশন ধর্মঘট ও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এতে জনগণের সাড়া পড়ে বিপুল ভাবে। ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভে বাদশাহ আবদুল্লাহর পতনের মতো এক অবস্থা যে দেখা দেবে সেটি আগে থেকে অনুমান করা যাচ্ছিল।

অন্তরালে যেসব রহস্য

জর্দানের এই অর্থনৈতিক সঙ্কটের পেছনে সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশসমুহের সহায়তা বন্ধ করে দেবার বিষয়টি দেখা গেলেও এর পেছনে রয়েছে অন্য এক কারণ। এই কারণের সাথে ইসরাইল ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ও উপসাগরীয় চক্রের যোগসুত্র থাকতে পারে। এই রহস্যটা যুক্ত হয় জেরুসালেম ও মসজিদুল আকসাকে ঘিরে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন এবং ইসরাইলের নেতানিয়াহু সরকারের জায়োনবাদীরা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে কোনভাবেই মেনে নিতে চায় না। তারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে প্রতিষ্ঠা এবং পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের পূর্ণ দখলে নিতে চায়। এক্ষেত্রে জর্দানকে একটি বাধা বলে মনে করে জায়োনবাদীরা। জর্দানের বর্তমান শাসকরা দুই পবিত্র মসজিদ মক্কা ও মদিনার উপর কর্তৃত্ব হারানোর পর তাদের হাতে বাকি রয়েছে মসজিদুল আকসাহ। এখন আন্তর্জতিকভাবে মসজিদুল আকসাহর স্বীকৃত মোতওয়াল্লি হলেন জর্দানের বাদশাহ।

জর্দানে বাদশাহকে ক্ষমতাচ্যুত করা গেলে মসজিদুল আকসাহর মোতওয়াল্লির দাবি আর থাকবে না। আর এতে মসজিদুল আকসাহ ভেঙে ফেলে সেখানে ইহুদি ধর্মকেন্দ্র সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। অন্য দিকে জর্দানকে ফিলিস্তিন-জর্দান নাম দিয়ে ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র করার অদ্ভুত এক ফর্মুলা বাস্তবায়নের পথও সৃষ্টি হবে। এ জন্য ইসরাইলের নীতি নির্ধারকরা সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিরাপত্তা ও ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য ইসরাইল নির্ভর করার প্রচেষ্টা নেয় গত এক দশকের বেশি সময় থেকে। এসব দেশের উপর ইরানি হুমকিকে অনেক বড় করে দেখানো হয়।

ইরানও তার প্রভাব সম্প্রসারণের জন্য নানা পদক্ষেপ নেয়। এক্ষেত্রে ইরানের প্রভাব ইরাকে সম্প্রসারণের জন্য পরোক্ষভাবে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। ইরাকে সাদ্দাম সরকারের পতন ঘটানোর পর সেখানে ইরানের প্রভাব স্বভাবতই বেড়ে যায়। এর মাধ্যমে তেহরানের প্রভাব ইরাক সিরিয়া লেবানন পর্যন্ত পৌছে। অন্য দিকে হুথিরা সানার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলে ইয়ামেন সীমান্ত পর্যন্ত ইরানি প্রভাব বিস্তৃত হয় । এই হুমকি মোকাবেলায় ইরানের সাথে বোঝাপড়ার চেয়েও ইসরাইলের সাথে সমঝোতার নীতি গ্রহণ করে রিয়াদ ও আবুধাবির বর্তমান শাসকরা।

অার এই সুযোগে সৌদি নেতৃত্বাধীন উপসাগরীয় দেশ এবং মিসরের সাথে গোপন সমঝোতার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় জেরুসালেমের উপর পুর্ণ ইসরাইলী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। এর আগে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিটি উদ্যোগে একাত্ম হলেও এবার জর্দান এই উদ্যোগে গা ভাসাতে পারেনি প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে।

বাদশাহ আবদুল্লাহ পিএলও নেতা মাহমুদ আব্বাসের সাথে রিয়াদ আবুধাবির বাধাকে উপেক্ষা করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের আহুত ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন। এর পর জর্দান আরো বেশি চাপের মুখে পড়ে। এ অবস্থায় মাহমুদ আব্বাস ও আবদুল্লাহ দুজনকেই যে যথাক্রমে পিএলও এবং জর্দানের ক্ষমতা থেকে সরনোর একটি গোপন আয়োজন চলছে সে সম্পর্কে তারা অনবহিত ছিলেন না।

আবদুল্লাহকে বিদায় করার উসকানি

জর্দানের এবারের বিক্ষোভের বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি হলো আবদুল্লাহকে বিদায় করার উসকানি। দেশটির প্রভাবশালী কয়েকটি গোত্রকে উসকে দেয়া হয় এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য। বনী সখরা গোত্র জর্দানের অন্যতম প্রভাবশালী গোত্র। তাদের নেতা ফারেজ আল ফয়েজকে জর্দানে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার আহ্বান জানানোর পর গ্রেফতার করা হয়। তিনি বাদশাহ আবদুল্লাহকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, তার গোত্রের লোকদের বাদশাহর আনুগত্য গ্রহণের জন্য তিনি আর বলবেন না। আল ফয়েজ নজীরবিহীনভাবে বাদশাহর উপর ব্যক্তিগত আক্রমণও করেন।

তিনি শুধু “রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে চান” বলে ক্ষান্ত হননি। অধিকন্তু তিনি বলেন: “আমরা এই সংবিধান অনুযায়ী ক্রীতদাসের মতো আপনাকে [আব্দুল্লাহ]বাদশাহ, প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, পুলিশ প্রধান এবং গভর্নর হিসেবে গ্রহণ করব না।”
আল ফয়েজ বাদশাহকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে তার পরিবার এখনকার সৌদি আরব থেকেই এসেছে। আরো সুনির্দিষ্ট ভাবে তিনি বলেন, “এটি আমাদের দেশ এবং আমাদের জমি। আপনি হিজাজ থেকে এসেছেন। আপনি, আপনার পিতা এবং আপনার পিতামহকে আমার বাবা আমার পিতামহ এখানে স্বাগত জানান। আপনি আমাদের কাছে ঋণী, আমরা আপনার কাছে ঋণী নই।”

এই বক্তব্যের পর পরই আল ফয়েজকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আঞ্চলিক প্রভাবশালী কোন পক্ষের ইন্ধন ছাড়া এমনটি বলেছেন বলে মনে হয় না। সত্যি সত্যিই আবদুল্লাহকে যদি জর্দানের ক্ষমতা থেকে বিদায় করার লক্ষ্য থেকে থাকে তাহলে এটি আরো সামনে এগুতে পারে। সৌদি রাজ পরিবারের অনেকেই মনে করেন জর্দানের হাশেমীয় শাসকদের মনে এখনো মক্কা মদিনার খাদেম হবার স্বপ্ন রয়েছে। এই স্বপ্নকে গুড়িয়ে দিতে হবে এখনই। এ জন্য আল আকসাহর খাদেম হিসাবে তাদের যে অবস্থান সেটি থেকেও তাদের বিদায় করতে হবে। সৌদি আরবের গত কয়েক বছরের নীতি পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করলে মনে হবে জর্দানের উপর তাদের এক ধরনের প্রতিশোধ গ্রহণের সুপ্ত ইচ্ছা রয়েছে।

আর আকসাহর ধ্বংস মেনে নেয়া সহজ নয়

তবে জেরুসালেমের উপর ইসরাইলের অধিকার প্রকাশ্যে মেনে নেয়া এবং মসজিদুল আকসাহকে ভেঙে দেয়ার ইসরাইলী পদক্ষেপে চুপ থাকা যে কোন আরব দেশের পক্ষে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেরুসালেমকে রাজধানী করার উদ্যোগে রিয়াদ আবু ধাবি কায়রোর সমর্থন থাকার ব্যাপারে ইঙ্গিত দেয়া হলেও তিনটি দেশের কোনটিই প্রকাশ্যে জাতিসংঘ বা ওআইসিতে জেরুসালেমকে ইহুদি রাষ্ট্রটির রাজধানী করার পক্ষে ভোট দিতে পারেনি।

যতদুর দেখা যাচ্ছে ইসরাইলের জেরুসালেম ও আল আকসা পরিকল্পনাকে পুরোপুরি সমর্থন করছে না বৃটেনসহ ইউরোপের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ এবং উপসাগরীয় দেশের মধ্যে কুয়েত কাতার ওমান। এছাড়া গণবিক্ষোভে আবদুল্লাহর পতন হওয়ার আরেক অর্থ হলো আরব বসন্ত নতুন করে ফিরে আসা। একই সাথে জর্দানে রাজতন্ত্রের পতনের অর্থ হলো ইসরাইল সীমান্তে আরেক দফা অস্থিরতা তৈরি করা। সেখানে রাজতন্ত্রের বিদ্যমান কাঠামো এই মুহূর্তে ভেঙে গেলে তা ইরাক বা লিবিয়ায় যে ধরনের অস্থিরতা সৃস্টি করেছে তার পূনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। আর এর প্রভাব যে জেরুসালেম আল আকসাহ এবং ফিলিস্তিন রাস্ট্রের অধিকার প্রতিষ্ঠার উপর পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

জর্দানের বর্তমান সঙ্কটজনক অবস্থায় আঞ্চলিকভাবে সহায়তা করার মতো পরিস্থিতিতে রয়েছে ইরান ও তুরস্ক। দুটি দেশের সাথেই আম্মানের তিক্ত সম্পর্ক থাকলেও জেরুসালেেম ইস্যু নিয়ে দুটি দেশই জর্দানের প্রতি সহানুভুতিশীল। এই দেশ দুটি এই মুহূর্তে জর্দানে সরকারের পতন ঘটার মধ্য দিয়ে আরেক অস্থির অবস্থা সৃস্টিকে সমর্থন করবে না। বিশেষ করে আল আকসাকে ধ্বংস করা এবং জেরুজালেম দখলে নেযাই যেখানে জর্দানকে অস্থির করার উদ্দেশ্য সেখানে দেশ দুটি নিশ্চয়ই বৃহত্তর কৌশলগত বিবেচনাকে সামনে রেখে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। যদিও সৌদি আরবের বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান নেয়াও জর্দানের পক্ষে কঠিন। সেখানে চার লাখ জর্দানি এখন কাজ করছে এবং তারা যে অর্থ প্রেরণ করে তা জর্ডানের জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ। যদিও জর্দানের এখন অর্থের অন্যান্য উৎসও রয়েছে যেগুলো উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে দেশটির জন্য কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

আনুগত্যে জেনারেল সৌদি, লেফটেনেন্ট জর্দান!

শান্তি চুক্তি করে ইসরাইলের সাথে যে কটি দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে তার মধ্যে একটি জর্দান। কিন্তু এই ত্যাগ আবদুল্লাহ পরিবারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য যথেষ্ট মনে করা হচ্ছে না। একজন ভিন্ন মতাবলম্বী লেখক বিষয়টি সুন্দরভাবে তুলে এনেছেন। লেইথ সোবহিলাত নামের এই ব্যক্তি লেবাননের সংবাদপত্র আল-আখবারকে বলেছেন যে, ইসরাইলের অনুগত হিসাবে উপরে স্থান করে নিয়েছে এখন সৌদি আরব। তিনি বলেন, “জর্দান এক সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদ মর্যাদায় ইসরাইলি মিত্র ছিলো, কিন্তু এখন এর লেফটেন্যান্টে পদাবনতি ঘটেছে আর জেনারেল পদে উন্নীত হয়েছে সৌদি আরব।”
#

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!