চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণায় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের ৬০ প্রার্থী

জামায়াত-এলডিপিসহ ২০ দল ৪০ গণফোরাম ৭ জেএসডি ৫ নাগরিক ঐক্য ৫ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৩

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রচণ্ড ক্ষোভ-বিক্ষোভের মুখে গতকাল দলীয় ও জোটগত চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণায় বিড়ম্বনায় পড়ে বিএনপি। গুলশানে দলের চেয়ারপারসন কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের কারণে গতকাল সন্ধ্যায় অল্পসংখ্যক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলো ও ২০-দলীয় জোটের শরিকরা গুলশান কার্যালয় থেকে নিজ দলীয় প্রার্থী তালিকা নিয়ে যান। এর আগে অবশ্য কয়েক দফা বৈঠক করে জোট-ফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ২০ প্রার্থীর মধ্যে গণফোরাম পেয়েছে ৭, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ৫, নাগরিক ঐক্য ৫ ও কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ ৩টি আসন। ২০-দলীয় জোটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ২৪, এলডিপি ৫, জাতীয় পার্টি (জাফর) ২, বিজেপি ১, এনপিপি ১, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১, খেলাফত মজলিস ২, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ৩, পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশকে ১টি— এই মোট ৪০টি আসন দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন যারা : গতকাল বিএনপি ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় যারা ছিলেন তারা হলেন গাইবান্ধা-২ আবদুর রশীদ সরকার, পটুয়াখালী-২ শহীদুল আলম তালুকদার, ময়মনসিংহ-১ আলী আসগর, নারায়ণগঞ্জ-১ কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কুমিল্লা-৬ হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসিন, জামালপুর-১ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, নেত্রকোনা-৫ আবু তাহের তালুকদার, চাঁদপুর-৩ শেখ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ মানিক, সিলেট-১ খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও বরগুনা-২ অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

দুই আসনে প্রার্থী বদল : শুক্রবার ঘোষিত দুই আসনে বিএনপির প্রার্থী বদল করা হয়ছে। নড়াইল-১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল কর্নেল (অব.) সাজ্জাত হোসেনকে। তা পরিবর্তন করে গতকাল সকালে জেলা বিএনপি সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ময়মনসিংহ-৩ আসনে প্রথমে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল আহমেদ তাইয়েবুর রহমান হিরণকে। তা পরিবর্তন করে দেওয়া হয় ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেনকে।

গণফোরাম : গণফোরাম পেয়েছে ৭টি আসন। এগুলো হলো ঢাকা-৬ সুব্রত চৌধুরী, ঢাকা-৭ মোস্তফা মহসীন মন্টু, ময়মনসিংহ-৮ এ এইচ এম খালেকুজ্জামান, হবিগঞ্জ-১ রেজা কিবরিয়া, পাবনা-১ অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, মৌলভীবাজার-২ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ও কুড়িগ্রাম-২ মেজর জেনারেল (অব.) আমসা-আ-আমিন।

জেএসডি : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি পেয়েছে ৫টি আসন। এগুলো হলো লক্ষীপুর-৪ আ স ম আবদুর রব, কুমিল্লা-৪ আবদুল মালেক রতন, ঢাকা-১৮ শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কিশোরগঞ্জ-৩ সাইফুল ইসলাম ও শরীয়তপুর-১ নুরুল ইসলাম।

নাগরিক ঐক্য : নাগরিক ঐক্য পেয়েছে ৫টি আসন। এগুলো হলো বগুড়া-২ মাহমুদুর রহমান মান্না, নারায়ণগঞ্জ-৫ এস এম আকরাম, বরিশাল-৪ নূরুর রহমান জাহাঙ্গীর, রংপুর-১ শাহ রহমত উল্লাহ ও রংপুর-৫ মোফাখখারুল ইসলাম নবাব।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ : কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ পেয়েছে তিনটি আসন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় তার মেয়ে ব্যারিস্টার কুঁড়ি সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হলেন। অন্য দুটি আসন হলো টাঙ্গাইল-৪ রফিকুল ইসলাম এবং গাজীপুর-৩-এ ইকবাল সিদ্দিকী।

২০ দল : বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিকরা যেসব আসন পেয়েছে সেগুলো হলো এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (চট্টগ্রাম-১৪), মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ (কুমিল্লা-৭), সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১), নুরুল আলম (চট্টগ্রাম-৭), সৈয়দ মনজর মোরশেদ (ময়মনসিংহ-১০); বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ (ভোলা-১); কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (চট্টগ্রাম-৫); মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের রিটা রহমান (রংপুর-৩); জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস (যশোর-৫), শাহীনুর পাশা চৌধুরী (সুনামগঞ্জ-৩), আবদুল বাসিত আজাদ (হবিগঞ্জ-২); খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের (হবিগঞ্জ-৪), মুফতি মনির হোসাইন (নারায়ণগঞ্জ-৪); এনপিপির সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (নড়াইল-২); জাতীয় পার্টি (জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টি আই ফজলে রাব্বী (গাইবান্ধা-৩) ও প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিঙ্কন (কুষ্টিয়া-২)।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!