গায়েবি অভিযোগে জামায়াত নেতা আটক, থানা ঘেরাও করলো জনতা

পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মঞ্জুকে গ্রেফতার করলে থানা ঘেরাও করে জনতা। (ইনসেটে মঞ্জু)

কক্সবাজার: পেকুয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াত নেতা নুরুজ্জামান মঞ্জুকে গায়েবি অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পুলিশের দাবি, তিনি নির্বাচন বানচাল করতে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন।

পেকুয়া উপজেলার জনপ্রিয় এই চেয়ারম্যান গ্রেফতারের খবরে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলাকার জনগণ। এসময় তারা অন্যায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে থানার সামনে অবস্থান করে।

মঞ্জুর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তার নামে কোন মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা নেই। এমনকি কয়েকদিন পূর্বে পুলিশ তার নামে গায়েবি মামলা দিলেও তিনি সে মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তার জনপ্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ মনে করে স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের ইশারায় তাকে পুলিশ গায়েবি অভিযোগে গ্রেফতার করেছে।

পেকুয়া থানার ওসি মো. জাকির হোসেন ভুঁইয়ার দাবি, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল, আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন বানচাল করতে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল জামায়াত নেতা নুরুজ্জামান মঞ্জুর নেতৃত্বে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। গোপনে এই সংবাদ পেয়ে মঞ্জুর বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।’

কিন্তু একা একা নিজ বাড়িতে বসে কিভাবে তিনি নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন, আর তা কিভাবে পুলিশ তা জানলো সে ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মঞ্জু (ফাইল ফটো)

জনতার থানা ঘেরাও: গ্রেফতার দুই

উপজেলা চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা নুরুজ্জামান মঞ্জুর গ্রেফতারের খবর শুনে ফুঁসে ওঠে স্থানীয় জনসাধারন। তারা এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে থানার সামনে অবস্থান নিলে সেখান থেকে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন জামায়াত নেতা মিজবাহ উদ্দিন (৪০) ও জসিম উদ্দিন (৩৫)। শত শত নেতা-কর্মী গভীর রাত পর্যন্ত থানার সামনে অবস্থান করলেও আটককৃত জামায়াত নেতৃবৃন্দকে ছাড়েনি পেকুয়া থানা পুলিশ।

এদিকে নুরুজ্জামান মঞ্জুকে গ্রেফতারের খবর শুনে থানায় ছুটে যান বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দীন আহমেদ এর সহধর্মীনি কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী হাসিনা আহমেদ। এ সময় জামায়াত নেতা নুরুজ্জামান মঞ্জুকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে হাসিনা আহমেদ কৈফিয়ত চান ওসির কাছে। কিন্তু এসময় ওসি জাকির কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট হাসিনা আহমেদ হিলডাউন সার্কিট হাউসে মনোনয়নপত্র বাছাইপর্বে অংশ নিয়ে নিজের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক বৈধ ঘোষণার পর পেকুয়া’র উদ্দ্যেশে রওয়ানা দিলে পথিমধ্যে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পেকুয়ার ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মন্ঞ্জু গ্রেপ্তার হওয়ার খবর তিনি জানতে পারেন। এডভোকেট হাসিনা আহমেদ পেকুয়ামুখী গাড়ি থেকেই তাৎক্ষণিক পেকুয়ার নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে দেন-তিনি নুরুজ্জামান মন্ঞ্জুকে পেকুয়া থানাতে দেখতে যাবেন। এডভোকেট হাসিনা আহমেদ পেকুয়া সদর পর্যন্ত পৌঁছাতে সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচটা বেজে যায়। পেকুয়া থানার সামনে পৌঁছে তিনি পেকুয়া উপজেলা পরিষদের টানা দু’বারের চেয়ারম্যান শেফায়েত আজিজ রাজু, পেকুয়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের টানা দু’বারের চেয়ারম্যান বাহদুর শাহ, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফা হায়দার রনি’কে সাথে নিয়ে থানায় প্রবেশ করে ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মন্ঞ্জু সহ গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের খোঁজ খবর নেন।

সালাহউদ্দীন আহমদের ২ মামলায় ফের গ্রেফতারি পরোয়ানা

এদিকে সালাহ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদের মনোনয়ন ও প্রার্থীতা নিশ্চিত হওয়ার পরই আজ ভারতে অবস্থানরত বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দীন আহমদের ২ মামলায় জামিন বাতিল (ওয়ারেন্ট ইস্যূ) হয়েছে। ২ ডিসেম্বর কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর) আদালতে বিচারাধীন সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দীন আহমদের পূর্বে জামিনে থাকা চকরিয়া থানার ২টি মামলায় (জি.আর-৪৭/২০০৭ ও জি.আর-৫১/২০০৭) অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল।

রাজধানী ঢাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গুম হওয়ার পর ভারতে সন্ধান পাওয়া এই বিএনপি নেতা সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে আনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ থেকে ভারতের আদালত থেতে মুক্তি পান। তার দেশে ফেরা ঠেকাতেই নতুন করে মামলা চাঙ্গা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!