গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশে ট্রাক ভর্তি করে ইভিএম পাচারের চেষ্টা – বিক্ষোভ, ধর্না

ভোট শুরুর অনেক আগে থেকেই ইভিএম-কে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট চলাকালীনও বারবার ইভিএম কারচুপির নানা অভিযোগ করেছিলেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা সত্যি করেই এবার উত্তর প্রদেশে বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্র বিকৃতির অভিযোগ উঠল শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে।

গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশে ট্রাক ভর্তি করে ইভিএম পাচারের চেষ্টা – বিক্ষোভ, ধর্না

সোমবার রাতে উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে বহুজন সমাজ পার্টির প্রার্থী আফজল আনসারির অনুগামীরা দাবি করেন, স্ট্রংরুম থেকে ইভিএম বার করার চেষ্টা হয়েছিল। গাড়িতে ভর্তি করে ভোটযন্ত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল অন্যত্র। এই অভিযোগে স্ট্রংরুমের বাইরে প্রার্থী তাঁর সমর্থকদের নিয়ে ধরনা শুরু করেন। শেষে জেলা প্রশাসন থেকে বিক্ষোভকারীদের বলা হয়, যেখানে ভোটযন্ত্রগুলি রাখা আছে, তার আশপাশে প্রার্থীর অনুগামীরা যাতে পাহারা দিতে পারেন, তার ব্যবস্থা হবে। তখন ধরনা উঠে যায়। আবার মঙ্গলবার সকালে চান্দৌলি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে একটি ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা হয়। তাতে দেখা যায়, কাউন্টিং সেন্টারের বাইরে একটি ঘরে বহু সংখ্যক ইভিএম জড়ো করা হচ্ছে। চান্দৌলি কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বারাণসী কেন্দ্র থেকে বেশি দূরে নয়। বিতর্কিত ভিডিও ক্লিপটি আপলোড করেছিলেন সমাজবাদী পার্টির সদস্যরা। ভিডিওয় শোনা যাচ্ছে, অনেকে প্রশ্ন করেছেন, ভোটের এতদিন বাদে ভোটযন্ত্রগুলি গণনা কেন্দ্রে আনা হচ্ছে কেন?

গাজিপুর ও চান্দৌলিতে ভোট হয়েছে রবিবার। তার আগে গত মঙ্গলবার সমাজবাদী পার্টি ও তার জোটসঙ্গী বহুজন সমাজ পার্টি দাবি করে, পূর্ব উত্তরপ্রদেশের ডুমরিয়াগঞ্জ কেন্দ্রে একটি মিনি ট্রাকে করে ভোটযন্ত্র পাচার হচ্ছিল। ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। সপা ও বসপা কর্মীরা অভিযোগ করেন, বিজেপি স্ট্রংরুম থেকে ইভিএমগুলি পাচার করার চেষ্টায় ছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল যন্ত্রগুলি বিকৃত করা। প্রতিবাদের মুখে ট্রাকভর্তি ইভিএম ফের স্টোরেজ রুমে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ষষ্ঠ দফা ভোটের আগে তাদের কাছে কয়েকটি বাড়তি ইভিএম পাঠানো হয়েছিল। সপ্তম দফায় ভোটে আগে সেগুলি জেলার কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছিল। বিহারে বিরোধী আরজেডি একটি ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে অভিযোগ করেছে, সরণ অঞ্চলে এক জায়গায় ইভিএম পাচার হচ্ছিল। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের অভিযোগ, উত্তর ভারতের সর্বত্র দেখা যাচ্ছে, ভোটযন্ত্র এক জায়গা থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অন্যত্র। এই সংক্রান্ত কয়েকটি ভিস্যুয়ালও দেখা গিয়েছে। এর ফলে অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন। তাঁদের দাবি, নির্বাচন কমিশন বিবৃতি দিয়ে জানাক, কেন এমন হচ্ছে।সূত্র: এখনখবর 

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!