গণতন্ত্র হত্যা দিবসে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রাঙ্গনে সাপোর্ট লাইফ ইউকের ব্যাপক বিক্ষোভ 

বাংলাদেশে অব্যাহত গুম, খুন, নির্যাতনে টিউলিপ সিদ্দিকী এমপির সমর্থন ও সংশ্লিষ্টতার তদন্ত চেয়ে স্পিকার বরাবরে স্মারকলিপি
 
Inline image 3
 

মোঃ কাওসারঃ  বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যা গুম ও খুন বন্ধে ব্রিটিশ সরকারের কার্যকরী ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের দাবিতে ৫ই জানুয়ারী, সাপোর্ট লাইফ ইউকে, শহীদ স্মৃতি কেন্দ্র ইউকে’র সমর্থনে নির্যাতিত গুম খুন হওয়া পরিবার, স্বজন, ও বন্ধদের আয়োজনে এই বিক্ষোভ সমাবেশটি অনুষ্টিত হয়।

বিক্ষোভকারীরা ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী বহির্বিশ্বে শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারের পক্ষে প্রোপাগান্ডা ও রাশিয়ায় বাংলাদেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফর ও অস্ত্র চুক্তির মধ্যস্থতাসহ বিতর্কিত কর্মকান্ডের তদন্ত এবং পার্লামেন্ট থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রতি বাংলাদেশে গুম, খুন ও ভয়াবহ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ও প্রস্তাব গ্রহণের দাবি জানানো হয়। ডক্টর মামুন রহমানের সভাপতিত্বে ও শামসুল আলম লিটনের পরিচালনায় নির্যাতিত পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ,  গুম হওয়া অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজমীর বড় ভাই মামুন আল আজমী, গুম হওয়া মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়ার আত্মীয় শরীফুজ্জামান চৌধুরী (তপন), বাংলাদেশে গুম হওয়া ব্রিটিশ নাগরিক মুজিবুর রহমান মুজিব, আইসিটি কালো আইনে নির্যাতিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড: রুহুল আমিন, পুলিশের গুলিতে চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়া ছাত্রনেতা রিবলু।

বিক্ষোভ কারীরা বাংলাদেশে গুম হওয়া সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান ,ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজমী,ব্যারিস্টার আরমান,অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম হিরু,  ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম,  সাজেদুল ইসলাম সুমন, সিলেটের ছাত্রনেতা ইফতেখার আহমেদ দিনার,  জামাত শিবির নেতা কর্মী সহ গুমের শিকার সাত শতাধিক মানবতা বিরোধী ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং খুনিদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্লেকার্ড প্রদর্শন করে। সমাবেশে আইন ও সালিশ সালিশ কেন্দ্রের সাবেক সিনিয়র তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম ফারুক গুমের ঘটনায় বিভিন্ন সরকারি বাহিনীর সংস্লিষ্টতা নিয়ে তথ্যমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

অতি সম্প্রতি গুম ও পুলিশের ক্রস ফায়ারের শিকার হবিগঞ্জের সাবেক পৌর কমিশনার ইউনুস আলীর লাশের ছবির সামনে কান্নারত চারটি অসহায় শিশুর ছবি দেখে অনেকেই চোঁখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। গুম হওয়া কূটনীতিক, ছাত্র-যুবনেতা, মানবাধিকার কর্মী সহ নির্যাতিত মানুষের প্রতিকৃতি ও স্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড ফেস্টুন নিয়ে কয়েকশো বিক্ষোভকারী কয়েক ঘন্টা এই বিক্ষোভে অংশ নেন।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে একটি পরিবারের দুশাসন ও অত্যাচার নির্যাতনে আজ বাংলাদেশে আইনের শাসন বলে কিছুই অবশিষ্ট নাই , মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা নেই। শত শত মানুষ গুম হয়ে যাচ্ছে অনেকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের নিরাপত্তার জন্য ভয়ে পুলিশে রিপোর্ট ও করেন না। কারণ ক্ষেত্রবিশেষে পুলিশ গুম হওয়া পরিবারকে সাহায্য করার পরিবর্তে আরো ও বেশি পরিমানে নির্যাতন নিপীড়ন শুরু করে। আর গ্রেফতার বাণিজ্য পুলিশের অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। আজকে র এই ভয়াবহঅবস্থা থেকে বাংলাদেশের মানুষ নিষ্কৃতি চায় । আমরা ব্রিটিশ বাংলাদেশী অনেকেই আজ দেশে পরিবার পরিজন সহায় সম্পত্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। সমাবেশ থেকে অত্যাচারের শিকার মানুষের নিরাপত্তা অথবা ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের হুমকির সম্মুখীন আত্মীয় স্বজনের নিরাপত্তায় ব্রিটিশ সরকারকে কার্যকর বেবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

Inline image 4

বক্তারা টিউলিপ সিদ্দিকীর বিতর্কিত কর্মকান্ড সম্পর্কে আরো বলেন, শাসক দলের অত্যচার নির্যাতন জবর দখল গুম খুন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তার থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বিদেশে তাদের এজেন্টদের ক্যাপ্টেন হলেন টিউলিপ সিদ্দিকী। তিনি একজন ব্রিটিশ এমপি হয়ে ও যখন পৃথিবীর অন্য প্রান্তে মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন বাংলাদেশের বিষয়ে বিস্ময়কর নীরবতা বা চ্যানেল ফোরের প্রশ্নের জবাবে কেনো পাল্টা প্রশ্ন করেন এবং বলেন, আমি বাংলাদেশেহি নই। তিনি যদি বাংলাদেশী না হয়ে থাকেন তাহলে বাংলাদেশে এই সপ্তাহেও রাষ্ট্রের টাকা অপচয় করে সর্বোচ্ছ সুবিধা এসএসএফ নিরাপত্তা তিনি কিসের ভিত্তিতে নিচ্ছেন, এবং সফর করছেন? আমরা তার প্রতারণা এবং শটতা পূর্ণ চরিত্রের কাউকে ব্রিট্রিশ পার্লামেন্টে দেখতে চাইনা। কারণ এদেশের ঐতিয্যের সঙ্গে তার এই দ্বৈত চরিত্র ঠিক ভাবে ব্রিটিশ বাংলাদেশী মানুষ মেনে নিতে পারছেন না। ব গুম, খুন নির্যাতন বন্ধে জন্য তার পরিবারের সদস্য যারা অবৈধ ভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে আছেন তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে হবে,নতুবা এর দ্বায়িত্ব নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করতে হবে।

বক্তারা ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এর স্পিকারের কাছে পূর্ণ তদন্ত করে তার এসব সংশ্লিষ্টতার জন্য তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

বিক্ষোভে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন, প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা আখলাক আহমেদ,ব্যারিস্টার ইকবাল আহমেদ, ব্যারিস্টার আলিমুল হক লিটন,পারভেজ মল্লিক,কয়সর এম আহমেদ, আশরাফুল আলম রাজা,ফয়সল আহমেদ , নজরুল ইসলাম খান,বদরে আলম দিদার,তারেক আহমেদ, ডক্টর এম এ আজিজ , এম এ রহিম , আফজাল হোসাইন , সালেহ গজনবী , কামাল উদ্দিন , ওলীউল্লাহ নুমান, এমদাদ হোসাইন টিপু , তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল, ডালিয়া লাকুরিয়া , সজীবুর রহমান , কুমিল্লা উনিভার্সিটির ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক মিডিয়া সেক্রেটরি মেহেরুন নেছা, মানবাধিকার কর্মী মহম্মদ আবুল কাশেম, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন , মোহাম্মদ মাছউদুল হাছান, সাইফুর রহমান পারভেজ ,জাকির আহমেদ চৌধুরী , আব্দুল মোমিন ,রেজাউল , সাঈদ মালিক , মিসবাউর রহমান ,শামসুল ইসলাম , মুকিম বক্ত প্রমুখ।

সভার শেষ পর্যায়ে এসে একাত্বতা ঘোষণা করেন ।

সমাবেশ থেকে গুম নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন, শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং স্পেনে নিয়োজিত বাংলদেশ রাষ্ট্রদূত সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের জানানো হয়।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!