খালেদা জিয়ার সিলেট যাত্রাপথে ধরপাকড় সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস অর্ধশত আটক

হজরত শাহজালাল ও শাহ পরাণের (রহ:) মাজার জিয়ারত

খালেদা জিয়ার সিলেট যাত্রাপথে ধরপাকড় সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস অর্ধশত আটক

বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহর সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানাতে জনতার ভিড় : নূর হোসেন পিপুল ও এ টি এম তুরাববেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহর সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানাতে জনতার ভিড় : নূর হোসেন পিপুল ও এ টি এম তুরাব

সিলেট অভিমুখে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। পুলিশের মারমুখো আচরণে সড়ক পথের বেশির ভাগ জায়গায় নেতাকর্মীরা দাঁড়াতে পারেননি। একাধিক স্থানে পুলিশের সাথে বিএনপি কর্মীদের হট্টগোল, মারামারি হয়েছে। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ রকম এক ভীতিকর অবস্থার মধ্যেই নেতাকর্মীরা যখন যেখানে পেরেছেন, তাদের প্রিয় নেত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের কণ্ঠে ছিল ক্ষুব্ধ স্লোগানÑ ‘আমার নেত্রী আমার মা, বন্দী হতে দেবো না।’ গতকাল সোমবার সকালে হজরত শাহজালাল ও হজরত শাহ পরাণ রহ:-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সড়কপথে সিলেটে আসেন বেগম খালেদা জিয়া। সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় প্রথমে হজরত শাহজালাল, পরে হজরত শাহপরাণের রহ:-এর মাজার জিয়ারত করেন তিনি।
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়। এ রায়ের তারিখ নির্ধারণের পর থেকে নানামুখী সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবেই সিলেটে এসে মাজার জিয়ারত করলেন খালেদা জিয়া। রায়ের দিন বিএনপি রাজধানীসহ সারা দেশে শান্তিপূর্ণ গণজমায়েতের ডাক দিয়েছে। সরকারও রয়েছে কঠোর অবস্থানে। গত ৩০ জানুয়ারি থেকে চলছে গ্রেফতার অভিযান। গতকাল এরই উত্তাপ লক্ষ করা গেছে সিলেট অভিমুখে খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে।
সাধারণত খালেদা জিয়ার এ ধরনের সফরে জনস্রোত নামে। কিন্তু গতকাল পুলিশ ঢাকা থেকে হবিগঞ্জ পর্যন্ত বিএনপি কর্মীদের ধরপাকড়ের মধ্যে রাখে। রাজধানী থেকে বের হওয়ার পথে কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেয় পুলিশ। আশপাশের দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ করে রাখা হয়।
নারায়ণগঞ্জে পুলিশ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে।
বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে নরসিংদীর ভেলানগরে পুলিশের সামনেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় তারা গাড়িবহর লক্ষ্য করে জুতা প্রদর্শন করে। যুবদল নেতা মাহবুবুল হাসান পিঙ্কুর একটি গাড়ি এ সময় ভাঙচুরের চেষ্টা করা হলে পুলিশ বাধা দেয়।
নরসিংদীর শিবপুরে খালেদা জিয়া মিনিট খানেকের মতো গাড়ি থামান। ছাত্রদলের কারাবন্দী সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন। নরসিংদীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ধরপাকড় চালিয়েছে। পুলিশের নজর এড়িয়ে অনেককে শোডাউন দিতে দেখা গেছে। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পুলিশের সাথে কর্মীদের মারামারি হয়েছে। এখান থেকে জেলা বিএনপির সেক্রেটারিসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে পুলিশ নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। সিলেট শহরেও ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। সার্কিট হাউজ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কিছু নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।
মাজার জিয়ারত : সিলেট পৌঁছেই সন্ধ্যায় হজরত শাহজালালের রহ: মাজার জিয়ারত করেন খালেদা জিয়া। এরপর যান শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে খাদিমনগরে হজরত শাহপরাণের রহ:-এর মাজারে। সন্ধ্যা ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসন মানুষের স্রোত ডিঙিয়ে হজরত শাহজালালের রহ:-এর মাজারে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত কক্ষে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। এরপর তিনি মাজারে ফাতেহা পাঠ করে মুনাজাত করেন। পরে যান হজরত শাহ পরাণ রহ:-এর মাজারে এবং সেখানে ফাতেহা পাঠ করেন।
খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, বরকতল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ অন্য নেতারাও মাজার জিয়ারত করেন। সার্কিট হাউজ থেকে মাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার নারী-পরুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাদের নেত্রীকে মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজার, আম্বরখানা সড়কের দুই পাশের উঁচু উঁচু দালানেও খালেদা জিয়াকে একনজর দেখতে মানুষের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক।
বিএনপি চেয়ারপারসনকে অভ্যর্থনা জানাতে আসা মানুষে সিলেট শহর জনসমুদ্রে রূপ নেয়। নেতাকর্মীরা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ধানের শীষের মালিক তুই আল্লাহ’, ‘খালেদা জিয়ার আগমন, লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’ ‘খালেদা জিয়া এসেছে রাজপথ কেঁপেছে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। এই ভিড় ডিঙিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়ি মাজার পর্যন্ত নিয়ে যেতে নিরাপত্তারক্ষীদের চরম বেগ পেতে হয়। এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় বিএনপি চেয়ারপারসন সড়কপথে ঢাকা থেকে সিলেট সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছান। সেখানে দুপুরের খাবার শেষে মাজার জিয়ারতে বের হন। সার্কিট হাউজে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মোত্তালিব, সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জীবন, সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর সভাপতি নাসিম হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, জেলা সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা কলিমউদ্দিন মিলন, দিলদার হোসেন সেলিম, জি কে গউছ, এম নাসের রহমান, কাইয়ূম চৌধুরী প্রমুখ নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনকে অভ্যর্থনা জানান। হজরত শাহজালাল রহ:-এর মাজারে পৌঁছলে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানসহ অন্য নেতারা।
এটি রাজনৈতিক প্রচারণা নয় : যাত্রা শুরুর আগে খালেদা জিয়ার বাসার সামনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, তার এই সফর শুধু জিয়ারতের উদ্দেশ্যে। দেশনেত্রী রাজনৈতিক প্রচারণা চালাতে সিলেট যাচ্ছেন না। তিনি বলেন, এক বছর আগে নির্বাচনী প্রচারণার কোনো সুযোগ নেই। যেখানে এখন পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িংফিল্ড সৃষ্টি করা হয়নি, সেখানে নির্বাচনী প্রচারণা কিভাবে হবে?
আমীর খসরু অভিযোগ করেন ‘ক্ষমতাসীন দল ও তাদের শরিকেরা এককভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। এখনো সব দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা হয়নি।’
ঢাকা থেকে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে গড়িবহরে আরো ছিলেনÑ সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, আবু নাসের মো: রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।
খালেদা জিয়া সর্বশেষ সিলেট গিয়েছিলেন দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের ৪ অক্টোবর। সে সময় আলিয়া মদরাসা মাঠে ২০ দলীয় জোটের জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। যদিও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোট বর্জন করে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ছিল মহাসড়ক : বন্ধ করে দেয়া হয় হাইওয়ে রেস্তোরাঁ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা জানান, বেগম খালেদা জিয়া সিলেটে হজরত শাহজালাল রহ:-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিনটি থানা এলাকায় মহাসড়ক ছিল পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জের মাধবপুর পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশের হাইওয়ে রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ করে দেয় পুলিশ। বিএনপির নেতাকর্মী এবং এমনকি সাধারণ মানুষকেও সোমবার ভোর থেকে মহাসড়কের পাশে দাঁড়াতে দেয়া হয়নি। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর বাড়িতে চালানো হয়েছে পুলিশি অভিযান। আটক করা হয়েছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ১৩ জন নেতাকর্মীকে।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পার হয়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর বেলা ১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিক্রম করে হবিগঞ্জের মাধবপুরে প্রবেশ করে।
এর আগে সকাল থেকেই আশুগঞ্জ, সরাইল ও বিজয়নগরের মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেয় পুলিশ। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরা মহাসড়কে উঠতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। খালেদা জিয়ার সিলেট যাওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হাইওয়ে রেস্তোরাঁগুলো এবং বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সকাল থেকেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া যেন যাত্রাবিরতি নিতে না পারেন সেই কারণে হাইওয়ে রেস্তোরাঁ বন্ধ করা হয়েছে। পুলিশের হয়রানির কারণে নেতাকর্মীরা এমনকি সাধারণ মানুষও মহাসড়কে দাঁড়াতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন নেতাকর্মীরা। তবে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম তালুকদার জানান, পুলিশ বন্ধ করেনি, বরং গ্যাস সঙ্কট ও বিভিন্ন সংস্কার কাজের জন্য হোটেল বন্ধ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেয়া হয়নি।
এ দিকে জেলার বিভিন্œ এলাকায় পুলিশের অভিযানে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গত রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: জহিরুল ইসলাম খোকন জানান, নেত্রীর সাথে দেখা করার জন্য আমাদের নেতাকর্মীরা রাস্তায় দাঁড়াতে গেলে পুলিশের বাধার কারণে তারা ব্যর্থ হন। তিনি বলেন, কোনো ধরনের মামলা-মোকাদ্দমা ছাড়াই পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে।
অন্য দিকে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: ইমতিয়াজ আহমেদ ১৩ জনকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, হয়রানি নয়, নিয়মিত মামলার আসামিদেরই আটক করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জ অতিক্রম করতে বেগম জিয়ার লাগে দেড় ঘণ্টা
হবিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জ সীমানার ৮৬ কিলোমিটার মহাসড়ক অতিক্রম করতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সময় লাগে দেড় ঘণ্টা। ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেগম জিয়ার গাড়িবহর হবিগঞ্জের প্রবেশ মুখ মাধবপুরে এসে পৌঁছে বেলা দেড়টায়। আর গাড়িবহর হবিগঞ্জের শেষ সীমানা আউশকান্দি অতিক্রম করে সিলেট সীমানায় পৌঁছে বেলা ৩টায়। মাধবপুর, নোয়াপাড়া, ওলিপুর, শায়েস্তাগঞ্জ, মিরপুর, বাহুবল, আউশকান্দিসহ বেশ কয়েকটি স্থানে শত শত নেতাকর্মী বেগম জিয়াকে স্বাগত জানাতে রাস্তার দুই পাশে জড়ো হন। গাড়িবহরের সাথে থাকা হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হবিগঞ্জ পৌরমেয়র আলহাজ জি কে গউছ জানান, পুলিশ হবিগঞ্জের বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় অভিযান চালিয়ে একাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। শায়েস্তাগঞ্জে বিএনপির মঞ্চ ভেঙে ফেলেছে। মাইক কেড়ে নিয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের মালিকানাধীন যানবাহন বন্ধ করে দিয়েছে। তার পরও বেগম খালেদা জিয়া হবিগঞ্জের ওপর দিয়ে সিলেটে যাবেন এই সংবাদে হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে বেগম জিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!