খালেদা জিয়ার রায় ৮ই ফেব্রুয়ারি

খালেদার রায় ৮ই ফেব্রুয়ারি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমের শেষ ধাপ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই মামলা দায়ের করে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। ২৩৬ কার্যদিবস শুনানির পর এ মামলাটি রায়ের পর্যায়ে এলো।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত বছরের ১৯শে ডিসেম্বর যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়।

ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরপর ২০শে ডিসেম্বর থেকে শুরু করে গত ১৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যদিবসে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, এ জে মোহাম্মদ আলী ও মওদুদ আহমদ খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। এরপর কারাগারে থাকা দুই আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তাদের আইনজীবী মো. আহসান উল্লাহ। গতকাল তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল পাল্টা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ও সমাপনী বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খানও খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে সমাপনী বক্তব্য দেন। এরপরই রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন আদালতের বিচারক। এ মামলায় দুদক ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মোট ১৬ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। গতকাল শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান সাংবাদিকদের বলেন, এই মামলা রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। খালেদা জিয়া খালাস পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, এই মামলার রায়ে সকল আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে বলে আশা করি। এর আগে ১১টা ৫ মিনিটে বকশীবাজারের কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। মামলায় হাজিরা দিতে বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে খালেদা জিয়া কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির হন। আদালতের কার্যক্রম শেষে বেলা ৩টা ২০ মিনিটের দিকে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন তিনি।
আদালতের কার্যক্রমের শুরুতে কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তাদের আইনজীবী মো. আহসান উল্লাহ। এ সময় বিচারক তাকে মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই বক্তব্য শেষ করতে বলেন। আহসান উল্লাহ আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, এই মামলায় একজনের সঙ্গে আরেকজনকে জড়ানো হয়েছে। এখন দুই জনকে ধরে পাথর বেঁধে দেয়া হলো। একজনকে যদি বলা হয় বাঁচার জন্য আরেকজনকে স্পর্শ করা যাবে না তাহলে তো হয়না। আমি চেষ্টা করবো সংক্ষেপ করার জন্য। শুনানিতে আহসান উল্লাহ এ ধরনের মামলা সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের বিভিন্ন নজির তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই মামলায় আসামিদের কোনো অসৎ মানসিকতা ছিল না। তাই অসৎ মানসিকতা না থাকলে তাদের দোষী বলা যাবে না। তিনি বলেন, ট্রাস্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রাইভেট ট্রাস্ট চলবে। ওখানে যদি কোনো ব্যত্যয় হয়, তাহলে তা ক্রিমিনাল অফেন্সে ঢুকবে না, যাবে না। টাকার ব্যবহার করার কথা ছিল জমি কেনার জন্য। সেই টাকা আবার ফেরত এসেছে। এখানে কোনো অপরাধ হয়নি। তিনি বলেন, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাধারণ লেখাপড়া জানা একজন কর্মকর্তা। তিনি একটি মামলা করে দিয়েছেন। তিনি (তদন্ত কর্মকর্তা) বলেছেন, অফেন্সটা শুরু হয়েছে- ট্রাস্ট ঠিকমতো একটি চলেছে, আরেকটি চলেনি। এটা থেকেই শুরু। পিছনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে বেগম জিয়া বা কামাল সিদ্দিকী (সাবেক মুখ্য সচিব) একেবারে বাঁ দিকে চলে গেছে। আর পরেরটুকু এসে বোঝার ভুল যে কোনটা বিশ্বাসভঙ্গ আর কোনটা আইনগত ভুল। এই যে মতপার্থক্য এটি কেন হলো? এখানে তো কোনো আইনগত ভুল হয়নি। কোনো অসততাও হয়নি।
আহসান উল্লাহর বক্তব্য শেষে দুপুর ১টার দিকে বিরতিতে যান আদালত। বিরতির পর কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এসময় তিনি বলেন, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদের বিষয়ে অনেক কথা হয়েছে। হারুনুর রশিদ যে এই মামলা করেছিলেন তাতে দুদকের অনুমোদন ছিল। মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে জাল জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা না কি জাল জালিয়াতি করেছি। আপনার (বিচারক) রায়ের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে আসবে কারা জাল জালিয়াতি করেছে। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে এই টাকা এসেছে। ১৯৯৩ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠিত হয়। উনারা (আসামিপক্ষে আইনজীবীরা) বলছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের টাকা না কি কুয়েতের আমীর দিয়েছেন। টাকা আসলো ১৯৯১-এ। ট্রাস্ট হলো ১৯৯৩- এ। টাকা চলে গেল সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে। এখন সেই টাকা কিভাবে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের হলো? যদি কুয়েতের আমীর টাকা দিয়েই থাকেন তাহলে এটা আবার সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে কিভাবে জমা হয়েছে। মোশররফ হোসেন কাজল বলেন, এই মামলার কাগজপত্র কারা তৈরি করেছে? কাগজপত্র সবই আপনার (বিচারক) কাছে আছে। আপনি সবই দেখবেন। তিনি বলেন, যদি কুয়েতের আমীর টাকা দিয়ে থাকেন আর এই টাকা যদি সেই টাকা হয়, তাহলে মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে বাগেরহাটের সেই টাকাটা কে দিলো? এই টাকা কি দুই ভাগ হয়েছে? টাকা তো একই। আমার মনে হয় পরবর্তীতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে টাকা এসেছে এবং এই টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদের বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দিয়েছেন- উল্লেখ করে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য প্রাসঙ্গিক করার জন্যই বলছি, বেগম খালেদা জিয়ার নামে ভৈরব সেতু নির্মাণের জন্য ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতির যে অভিযোগ আনা হয়েছিল সেই অভিযোগের তদন্ত করেছিলেন এই হারুনুর রশিদ। তিনিই তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, হারুনুর রশিদের চরিত্র নিয়ে যে সমস্ত কথাবার্তা বলা হয়েছে তা অপ্রাসঙ্গিক। এগুলো না বলাই উচিৎ ছিল। এ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান শুনানি করার জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চেয়ে আদালতের কার্যক্রম মুলতবির আবেদন করেন। আদালতের বিচারক বলেন, আজকেই বলেন। রেজাক খান আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি যদি বলতে বাধ্য করেন তাহলে আমি বলবো। বিচারক বলেন, আদালতের তো এখনো সময় আছে আজকেই বলেন। এ পর্যায়ে রেজাক খান তার বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন। তিনি বলেন, আমরা এই মামলায় আইনি বিষয়ে যেসব যুক্তি উপস্থাপন করেছি তা প্রসিকিউশন খণ্ডন করতে পারেনি। দুদক থেকে এই মামলার যে ঘটনার স্থান তার বিষয়ে প্রসিকিউশন কোনো জবাব দিতে পারেনি। এজাহারের ব্যাপারেও কোনো জবাব আমরা পাইনি। ১৯৯১ সালের ঘটনার ব্যাপারে খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে যে মামলা করা হয়েছে এভাবে মামলা হতে পারেনা। ১ নম্বর সাক্ষী বলেছেন, খালেদা জিয়া সোনালী ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন, টাকা উত্তোলন করেন ও তা বণ্টন করেন। এটি শোনা সাক্ষ্য। এ বিষয়ে পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছ থেকে কোনো বক্তব্য আসেনি। অথচ উচ্চ আদালত থেকে এই মামলার বিষয়ে বলা আছে যে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করে বিচার করতে হবে।
তিনি বলেন, সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী মূল নথি সম্পর্কে, এই যে টাকাটা এসেছে, সারা বাংলায় একটি শব্দ উচ্চারিত হচ্ছে যে এটি কুয়েতের টাকা। কিন্তু প্রসিকিউশন বলছে সৌদি আরবের। কিন্তু এটি কোথাকার টাকা তা সোনালী ব্যাংকের সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত হয়নি। শুধু মুখের কথায় বলা হচ্ছে। এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আপনি ছয় মাস ধরে এসব বলতে থাকবেন। তার এই বক্তব্যে আপত্তি জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, পিপি সাহেব আপনার এ ধরনের বক্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। এসময় মোশাররফ হোসেন কাজল উচ্চস্বরে বলেন, এটি আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন। আমি নথিপত্রের ভিত্তিতে সব বলেছি। আমরা আপনাদেরকে সুযোগ দিই। কিন্তু এটি এই নয় যে আপনারা বলতেই থাকবেন। এ পর্যায়ে জয়নুল আবেদীন আদালতের অনুমতি নিয়ে উচ্চস্বরে বলেন, পিপি সাহেব, আপনি একটু আগে একটি ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করেছেন যে ‘মাননীয় আদালত আপনার জাজমেন্ট বলবে যে…….’। তাহলে কি আপনি প্রিজাজ করে দিচ্ছেন? আপনি একজন সম্মানিত বিচারককে বিতর্কিত করছেন। এটি দুর্ভাগ্যজনক। আপনি এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন না। রেজাক খান একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট। এটি সহজভাবে হয়না। একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট হতে কি লাগে তা পিপির বোঝা উচিৎ। শুধুমাত্র পিপি হলেই সিনিয়র অ্যাডভোকেট হয় না। আপনি আদালতে আসবেন, আপনার প্রসিকিউশনে আপনি আসবেন। আপনি আপনার কথা বলবেন। আপনি বিচারককে নিয়ে বিতর্ক করেন কেন। জয়নুল অবেদীন আরো বলেন, আমি এই মামলার যুক্তিতর্কের মধ্যে ছিলাম না। কিন্তু এখানে কতগুলো ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে যেগুলো আদালতের ভাষা নয়। এ পর্যায়ে আদালতে হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় বিচারক রেজাক খানকে তার বক্তব্য শেষ করতে বলেন। শুনানিতে রেজাক খান বলেন, সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট যেটি বলা হয়েছে সেই অ্যাকাউন্ট খোলার পর টাকা এসেছে। এখন কোনদিকে পাল্লা ঝুলেছে? তিনি বলেন, আমরা সিনিয়রদের কাছ থেকে শিখেছি যে মোটা মোটা বই নিয়ে ঘুরবো না। সোনালী ব্যাংক চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে তাদের দপ্তরে এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র নাই। আর যে জব্দ তালিকা দেয়া হয়েছে সেই কাগজগুলো সোনালী ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা প্রমাণ করতে পারেন নাই। যে চেকগুলো দিয়ে টাকা বণ্টন করা হয়েছে, সেই চেকগুলো কে সই করেছিল- প্রসিকিউশন থেকে এ বিষয়টিও প্রমাণিত হয়নি। এ বিষয়ে প্রসিকিউশন থেকে কোনো বক্তব্য আসেনি। এটি সারবত্তাহীন মামলা। ঘষামাঝা করে ফাইল তৈরি করা হয়েছে। এগুলো কোনো প্রাইমারি এভিডেন্স নয়, সেকেন্ডারি এভিডেন্সও নয়। এটি সাক্ষ্য প্রমাণবিহীন মামলা। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি টাকা নিয়ে এসেছিলেন তার স্বাক্ষরতো থাকা উচিৎ ছিল তাও নেই। এই মামলার ২৬ নম্বর সাক্ষী বলেছেন ‘আমরা টাকার উৎস খুঁজে পাইনি’। কিন্তু এ বিষয়ে পিপি কোনো জবাব দিতে পারেন নি। শুনানি শেষে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার জন্য ৮ই ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালতের বিচারক। একই সঙ্গে এই আদালতে চলা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য আগামী ৩০, ৩১শে জানুয়ারি এবং ১লা ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন বিচারক।
আদালতের কার্যক্রম শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ৩২ জন সাক্ষীর মাধ্যমে আমরা এই মামলা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালতের কাছে আমরা এই মামলার সকল আসামিদের সর্বোচ্চ (যাবজ্জীবন কারাদণ্ড) সাজার যে আবেদন করেছিলাম তা আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রতিফলন ঘটবে বলে আশা করি। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই রমনা থানায় দুদক এ মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ই আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। ২০১৪ সালের ১৯শে মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!