কোরনা ভাইরাস :ভাবনার বিষয় :বদরুল বিন হারুন

পৃথিবীর মানুষ কেউ মরে যুদ্ধ করে,আর কেউ মরে ভাইরাসে।জাগায় জাগায় অসহায় রুহিন্গা,ফিলিস্তীন,কাশ্মীর,সিরিয়ার শিশুদের উপরে জীবন্ত ভাইরাসের অগ্নিস্ফুফলিঙ্গ দিয়ে,শ্বাসরোদ্ধ করে মারা হয়েছিলো,কারণ,কারণ একটাই।তারাছিলো দূর্বল।
বৃদ্ধ,ঝাকে ঝাকে পঙপালের মতো ঝাপিয়ে পড়েছিলো তাদের উপর।তারা পলাতে ছিল অক্ষম।তারা সিরিয়ার উত্তপ্ত বালুতে আর কুলিয়ে ওঠতে পারেনি।তারা আকাশের বিশাতলার আশ্রয় নিয়েছিলো,আত্মসমর্পন করেছিলো।কারণ,কারণ একটাই।তারা ছিলো দূর্বল।
বৃদ্ধা মা।তাকে জলন্ত করোনার চেয়ে জীবন্ত হায়েনা মানুষটি ঝাপটে ধরেছিলো।ছেলের চেহারার মত দেখে বলেছিলো বাবা, বাবা আমাকে মেরোনা।আমি আর সহ্য করতে পারছি না।কিন্ত না।সেই ভাইরাস থেকে বাচা হয়নি।মৃত্যুতো সবই।হাসপাতালের বেডে,হায়েনাদের পালে।সে দিন তাদের বাচা হয়নি।কারণ,কারণ তারা ছিলো দূর্বল।
একটি শিশু পৃথিবীর মুখ দেখার কথা ছিলো।সে বিশকোটি শিশুর সাথে যুদ্ধ করে তার মার রেহেমে সিংহাসনে বসেছিলো।প্রায় আটমাস যুদ্ধ করে অবশেষে ধরা খেলো সেই জীবন্ত ভাইরাসের কাছে।হায়েনারা তাকে আসতে দেয়নি।তারা স্বপরিবারে তাদেরকে খেয়েফেলেছিলো।কারণ,কারণ তার মাতৃভূমি ছিলো কাশমীর,ফিলিস্তিন,সিরিয়া,লিবিয়া।তারা ছিলো দূর্বল।তবে তারাছিলো ভাগ্যবান।সাহসি।তারা করোনা,এইডস,সারস,ডেডমৃত্যর মতো ভয়ানকতার ছুয়ায় মরেনি।তারা যুদ্ধ করে মরেছে।

এখনো চেষ্টা চলছে বাচার।ভয়ানক আগুন থেকে।যে আগুন ফিলিস্তন,কাশ্মীর,লিবিয়া,রুহিন্গা থেকে ক্ষিপ্র।যে নেকড়েরা খাকিপোষাকের মানব রূপি না।কিন্ত ভয়ংকর।মানব শিশুগুলো তখন পলাতে পারেনি।তারা ছিলো দূর্বল।আর এখনো দূর্বল।পার্থক্য-তখন তাদের পাশে কোন এম্বুলেন্স সহমর্মিতাটুকুও দেখায়নি।

আর আজ দেখুন সারা বিশ্ব আমির ফকির এককাতারে।

[ ] ফ্রান্সের সেই গার্দোনর্থ এরিয়া যেখানে মানুষের ভিড়ে হাটা ছিল মুশকিল।আজ তা হাহাকার করছে।মানুষ যখন শুনেছে পৃথিবীর বহুমানুষ আক্রান্ত হবে এই ভাইরাসে।এতেই চুঁপসে গেছে।আর যেদিনের আক্রান্ত হওয়া থেকে একজন মানুষও রেহাই পাবেনা,(কিয়ামত দিবস)সে দিন সম্পর্কে কতইনা বেখবর!

সময় এসেগেছে ঐ দিনের প্রস্তুতি গ্রহণ করার।আল্লাহ আমাদের হোস ফিরিয়েদিন।

ভাইরাস বলছে,
পারমানবিকবোমা।
তুমি আজ অকেজো হয়েগেছো।হ্যা।তা হওয়ারই কথা।তুমাকে এখন শুধু জাদুঘরে শুভা পায়।দেখেছো,আজ তুমার কদর কতটুকু।দেখো আমাদের সৈন্যরা তুমাকে ভেংচিমেরে,তুমার চোখে আন্গুল দিয়ে বলছে-বসে থেকো বাবাধন।এখন সময় আমার।কিছুদিন আগেই তুমি সারা বিশ্বের ত্রাস ছিলে।এখন না।এখন আমি।তুমার ভয়ে কেউ পৃথিবীর অসহায় শিশু,বৃদ্ধদের পক্ষে মুখ খুলতেও ভয় পেতো।কিন্ত এখন সবাই শুধু আমাকেই ভয় পায়।আমাকেই।ইতি পূর্বে আমার ভাইদের যেভাবে মানুষ ভয় পেতো।আমরা ছিলাম-আবাবিল,পন্গপাল,ব্যাংঙ,এইডস,সারস,কলেরা,বসন্ত,হাম যে নামেই বলো।আমরা ছিলাম।আছি।থাকবো।কিন্ত তোমরা ছিলেনা।থাকবেওনা।মধ্যখানে তোমাদের প্রভুরা কিছু মজলুমের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।আমরা কিন্ত জালিম,মজলুম বুঝিনা।যাকে নিয়ে যেতে আদিষ্ট হই।তাকেই নিয়ে যাই।আমরা সাইক্লুনের চেয়ে কী কম?আমাদের এক স্বগোত্রীয় ভাই ছিলো একেবারে প্যারালাইজ্ড।গল্পটা তুমাকে বলছি,কারণ,সে তখনকার পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী এক জালিমের নাকের ডগাদিয়ে ফুরুত করে ঢোকে পড়ল।আর এখানে তাকে ধরাশায়ী করে দিল।সে ছিলো আমাদের এক আদনা সৈনিক।

এবার শুনো আমাদের ব্যাপারে তুমাদের নোবেলবিজয়ী ডঃ ইউনুছ কি বলেছে-
করোনা মহামারীঃ সময় দ্রুত হারিয়ে ফেলছি

মুহাম্মদ ইউনূস

আমি শুধু সময়ের দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছি।

করোনা রোগের বিস্তারের গতি দেখলে যে কোনো মানুষ থ হয়ে যাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেজিং অফিসকে চীন একটা অজানা রোগের কথা জানিয়েছিল ডিসেম্বরের ৩১ তারিখে। আজ মার্চের ২২ তারিখ। অর্থাৎ ৮২ দিন আগে। এই ৮২ দিনে কিন্তু এই রোগ সারা দুনিয়া তছনছ করে ফেললো। তার মোকাবেলার জন্য এখন সেনাবাহিনী তলব করতে হচ্ছে। দেশকে দেশে সে সমস্ত কিছু অচল করে মানুষকে ঘরের ভেতর দিনরাত কাটাতে বাধ্য করছে। সরকার তার মোকাবেলার জন্য ট্রিলিয়নকে ট্রিলিয়ন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিচ্ছে। সরকার প্রধানরা সারাক্ষণ টেলিভিশনের সামনে এসে মানুষকে প্রতিটি পদক্ষেপ ব্যাখ্যা করছে। পার্লামেন্টে সকল দল একমত হয়ে আইন পাশ করছে। দেশে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করছে। সারা দুনিয়া ক্রিকেটের স্কোর বোর্ডের মত করোনার স্কোর বোর্ড দেখছে। অতীতে কোনো বিশ্বযুদ্ধও মানুষকে এত ভাবিয়ে তুলতে পারে নি। অথচ মাত্র ৮২ দিনের ব্যাপার। দুনিয়ার এক মাথা থেকে আরেক মাথা পর্যন্ত সে বিস্তৃত হয়ে কোটি কোটি মানুষকে সে কাবু করে ফেলেছে। সে যে দেশেই ঢুকছে সে দেশকেই নাস্তানাবুদ করে দিচ্ছে।

একটা দেশে ঢুকার পরপর সে কত শতাংশ মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয় সেটা জার্মানীর চ্যান্সেলরের ভাষণ থেকেই বুঝা যায় স্পষ্টভাবে। জার্মানীর মানুষ যখন করোনার চেহারার সাথে পরিচিত হতে পারে নি, এমন এক সময়ে চ্যান্সেলর মার্কেল জাতিকে জানালেন যে এই রোগ শিগগিরই ৭০ শতাংশ জার্মান নাগরিকের মধ্যে সংক্রমিত হবে। কী সাহসী এবং স্পষ্ট বক্তব্য। মার্চ ২০ তারিখে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর তার ভাষণে জনগনকে জানিয়ে দিলেন যে আগামী দু’মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ২.৫ কোটিতে পৌঁছবে। অর্থাৎ তার রাজ্যের ৫৬% মানুষ ২ মাসের মধ্যে আক্রান্ত হবে। ক্যালিফোর্নিয়াতে প্রথম রোগী সনাক্ত হয়েছিল জানুয়ারী ২২ তারিখে। মাত্র দু’মাস আগে। মাত্র চার মাসে একজন রোগী থেকে আড়াই কোটি রোগীতে গিয়ে পৌঁছবে। প্রচন্ড তার গতি। এই তার ধর্ম। তার গতিপথ পাল্টানোর কোনো ব্যবস্থা এখনো কেউ করতে পারেনি। আমাদের লড়াই হবে তার গতিপথ থেকে নিজেকে আড়াল করা। যারা যত সফলভাবে তা করতে পারবে তারা তত আঘাত কমাতে পারবে।

একজন থেকে ২ জনও যদি সংক্রমিত হয় তাহলে হু হু করে সংখ্যা বেড়ে যায়। একটা পরিসংখ্যান দিচ্ছিঃ একজন যদি প্রতি ৫ দিনে ২.৫ জনকে আক্রান্ত করে তাহলে ৩০ দিনে সে একাই ৪০৬ জনকে আক্রান্ত করবে।

যারা একাজে গাফিলতি করে ভীষণ বিপদে পড়েছে তারা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, এবং সুইজারল্যান্ড। এখন তাদের অবস্থা সামালের বাইরে।

মহাপ্লাবন কি আসছে?

অবশ্যই আসছে। প্রায় দ্বারপ্রাস্তে। আমরা বরং দেরী করে ফেলছি। আর দেরী করার সুযোগ নেই।

মহাদুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে জান বাঁচালাম কিন্তু বাঁচতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হলাম। পথের ভিখারী হলাম। যা কিছু পুঁজি সব গেলো– তার উপায় হবে কী?

দেশের সাধারণ মানুষ বাঁচবে কী করে। দেশের অর্থনীতি দুমরে মুচরে পড়বে। তার কী হবে ? যারা দিন এনে দিন খায় দুর্যোগ চলাকালে তাদের কী হবে?

সারা পৃথিবীর অর্থনীতি প্রায় ধ্বসে পড়তে শুরু করেছে। এর শেষ কোথা পর্যন্ত গড়াবে? মাঝখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি উঠে দাড়াবার কোনো শক্তি পাবে কিনা।

করোনার দৈত্য বোতল থেকে বের হয়ে গেছে। এই দৈত্য কি পৃথিবী খাবে? তাকে যখন বোতলে হবে অথবা সে স্বেচ্ছায় বোতলে ফিরে যাবে তখন পৃথিবীর যাত্রা, বাংলাদেশের যাত্রা কোথা থেকে শুরু হবে।

মাত্র অল্প সময়ের মধ্যে সব কিছু আমাদের নির্ধারণ করতে হবে।

কোনো ভাবেই সময় কিন্তু খুব বেশী আমাদের হাতে নেই।

[ ] শুনেছো।এই হলো তোমাদের দুনিয়াদার ডঃ ইউনুছের কথা।
এবার শুনো এক জন দীনদার ডক্টরের কথা।
ডঃ রাগেব আসসারেজানী।মিশরের খ্যাতিমান আরবি সিহিত্যের লেখক।
সরা পৃথিবীর মানুষই দূর্বল।কাওকেই সবল পাওয়া যাবেনা।শিশু যদি দূর্বল হয়,বৃদ্ধটিও দূর্বল।বৃদ্ধটি দূর্বল হলে যুবকটিও দূর্বল,তার জ্ঞান বুদ্ধিতে,অভিজ্ঞতায়।কখনো আর্থিক দূরাবস্থায়।দরিদ্র যদি দূর্বল হয় দরিদ্রতার কারণে,ধনী ও দূর্বল অসুস্থতার কারণে।মোট কথা-এই পৃথিবীর সবাই ফকির।

সবাইকে দূর্বল বাণিয়েই সৃষ্টি করা হয়েছে।(সুরা নিসা-34)
এবার শুনো,তোমাদের লোকগুলো আমাদের নিয়ে যে খেলা খেলেছে-
1-তোমাদের চেন্গিসখান চাচা মৃতলাশের ভেতরে ঢুকিয়ে আমাদেরকে ভরে ইউরোপের ভেতর ছুড়ে মেরেছিলো।আমরা তখন ক্ষেপেগিয়ে প্রায় তিনভাগের একভাগ অধিবাসিকে সাবার করে দিয়েছিলাম।
2-বৃটিশদের কান্ড।1763 তে এরা কি করেছিলো জানো?আমাদের বসন্ত ভাইদের ক্ষেপিয়ে দিয়েছিলো রেড ইন্ডিয়ানদের বিরোদ্ধে আমেরিকায়।যার ফলে প্রায় ছয় মিলিয়নকে আমরা খেয়ে ফেলেছিলাম।
তবে হ্যা।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তোমরা আমাদেরকে হার মানিয়েছিলে।তোমরা জাপানে যে কান্ড করেছো তাতে আমরাও দুঃখ পেয়েছি।এই কলংকজনক ঘঠনাটি আজও আমাদেরকে ভাবায়।এর পর কি হয়েছিলো তাতো তোমরা টের পেয়েছো।আমরা কলেরা,ইনফুয়েন্জাবাহিনী,বসন্ত যে যাই বলো একেক সময় একেক নামে যে প্রতিশোধ নেয়া শুরু করেছি।তা এখন আর হার মানতে আমরা রাজি নই।
তোমরা কিছুদিন ইরাক,ইরান ,সিরিয়া,লিবিয়া ফিলিস্তিন,কাশমীরসহ বহু নিরিহ বনিআদমের প্রাণ নিয়েছো।এবার আমরা তোমাদের প্রভুসহ কাওকে ছাড়ছিনা।আমাদের কাছে কোন ধনি ফকির নেই।জালিম মজলুম বুঝিনা।এবার আমরা নমরুদমিয়ার মশাবাহিনীর চেয়ে ভয়ন্কর ভাবে এসেছি।দেখি পারলে ঠেকাও।

হ্যা,তোমাদের ইউনুছ ভাই বলেছেন,দৈত্ব বোতল থেকে বেরিয়ে গেছে।অবশ্যই,আমরা এখন আর বোতল বন্ধি না।বুঝলেন,পারমানবিক বোমা???

বদরুল বিন হারুন

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!