কোটা পদ্ধতির সংস্কার চাই : সহজ সমীকরণ !মুহাম্মদ ইব্রাহিম

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা প্রতিযোগিতামূলক চাকুরী মার্কেটে বিসিএস নামক সরকারি সোনার হরিণ ধরার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষ থেকেই প্রিপারেশন নিতে থাকে এবং কি পরিমাণ পরিশ্রম করে তা আপনারা যদি কখনো বাস্তবে দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন । একসাথে ভার্সিটির ক্লাস,এক্সাম এবং সাথে বিসিএস এর প্রস্তুতি নেয়া কি পরিমাণ কষ্টদায়ক সেটা আমি আমার বন্ধুদের দেখেছি । এখন এরা পরীক্ষা দিতে গিয়ে যখন দেখবে যে, তাঁদের থেকে কম নম্বর পেয়ে পাশের ছাত্র শুধু কোটার জোরে পাশ করে যাচ্ছে তা কিন্তু তাঁরা মানতে পারবে না , এটা যুক্তিযুক্ত । যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লড়াই হওয়া উচিত মেধার ভিত্তিতে । আপনি যদি এমন অন্যায্য কোটা দিয়ে রাখেন তাহলে দেশের একটা বিশাল অংশ হতাশাগ্রস্থ হয়ে যাবে । অনেকেই দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাবে । আবার এমন মেধাবিদের বাদ দিয়ে আপনি সরকারি কোনো ভালো পলিসি মেক করতে পারবেন না ।আমাদের দেশের সূর্যসন্তানরা কোনো কিছু পাওয়ার আশায় যুদ্ধ করেন নি, তাঁরা দেশকে পাকিস্তানি হানাদারদের বৈষম্য এবং শোষণ থেকে মুক্ত করতেই যুদ্ধ করেছিলেন । মুক্তিযোদ্ধারা অবশ্যই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সর্বদা আমরা কৃতজ্ঞ থাকবো । সরকার তাঁদের বেশি পরিমাণের ভাতা-দিক, দরকার হলে আবাসনের ব্যবস্থা করুক,পড়াশোনা/চিকিৎসা ফ্রি করে দিক । একে আমরা সাধুবাদ জানাবো । তাছাড়া, একদম যে কোটা থাকবে না তাও বলা হচ্ছে না , বলা হচ্ছে সংস্কার করে একটা সহনীয় মাত্রায় আনার জন্যে । খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন,অনেক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা নিজের মেধা দিয়ে সরকারি চাকুরিতে খুব ভালো অবস্থানে আছেন ।কোটাকে সমর্থন করে দেশে এবং বিদেশে অনেককেই দেখলাম ভালমতন জ্ঞান ঝাড়ছেন ।দেখে মনে হচ্ছে, তাঁরা সবাই বিসিএস দিয়ে কিংবা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে কোটা ছাড়াই সরকারি জব করছেন । কেউ যদি করেই থাকেন তাঁদের সংখ্যা অগ্রাহ্য করা যায় । যদি না করে থাকেন তাহলে উচিত একটু চিন্তা করে মতামত দেয়া । রেড বুল খেয়ে কিংবা অতিরিক্ত বৌয়ের ঝাড়ি খেয়ে মাথা গরম করে কিছু বলা উচিত না !আপনার রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে কিন্তু তাই বলে আপনি একটি ন্যায্য দাবিকে পাশ কাটিয়ে যেতে পারেন না । আপনারাই দেশের মেধাবিরা কেন এগিয়ে আসছে না , কেন দেশে দুর্নীতি হচ্ছে এই নিয়ে গলা ফাটাবেন কিংবা নিজের দলের সমালোচনা হয়তো করবেন। কিন্তু সমস্যার মূলে কি ছিল বা সমাধানে যা করা যেত, সেটি না করে আপনারা মূলত দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন !ইন্টারনেট থেকে একটি সুন্দর গাণিতিক বিশ্লেষণ পেয়েছি। আশাকরি, যাঁরা এখনো ভাবছেন কোটা আর এমন কি তাঁরা হয়তো এই সহজ বিশ্লেষণে বুঝে যাবেন !”দেশের মোট জনসংখ্যা =১৫,২৫,১৮১৫০ জন।
মুক্তিযোদ্ধা =২ লাখ। কোটা=৩০%
প্রতিবন্ধী =২০লাখ ১৬ হাজার। কোটা =১%
উপজাতি =১৫লাখ ৮৬ হাজার। কোটা =৫%
নারী কোটা =১০%। জেলা কোটা =১০%
———————-মোট কোটা =৫৬%
৯৭.৩৭% মানুষের জন্য কোটা ৪৪%!
আর মাত্র ২.৬৩% মানুষের জন্য কোটা ৫৬%!
—-
মনে করুন ৩৮তম বিসিএস-এ সরকারীভাবে ২০২৪জন ক্যাডার নিয়োগ দেয়া হবে। ইন্টারভিউ কল করা হয়েছে। যারা উত্তির্ণ হবেন তাদের মধ্যে
মুক্তিযোদ্ধা =২ লাখের জন্য =৩০% কোটা
প্রতিবন্ধী =২০লাখ ১৬ হাজারের জন্য =১%
উপজাতি =১৫লাখ ৮৬ হাজারের জন্য =৫%
নারীদের জন্য =১০%
বিশেষ জেলার জন্য =১০%সর্বমোট ২.৬৩% মানুষের জন্য =৫৬% কোটা=১১৩৪টি বিসিএস ক্যাডার পদ বরাদ্দ। আর সাধারন ৯৭.৩৭% মানুষের জন্য ৪৪% কোটা= ৮৯০টি পদ বরাদ্দ।এর মানে আপনি যত মেধাবীই হোন না কেন, চাকরি পাবেন না। আপনার চেয়ে কম মেধাবী- তার জন্য কোটা খালি থাকার কারনে চাকরি পেয়ে যাবে অনায়েশেই।২.৬৩% লোক ১১৩৪টি পদ পাবে বিনা কন্ট্যাস্টে। আর ৯৭.৩৭% লোক ৮৯০টি পদের জন্য লড়তে হবে। এরপর ঘোষ, মামা, খালু তো লাগবেই।অর্থাৎ আপনি চাকরি পাবেন না। কেন নারী, প্রতিবন্ধী, উপজাতী, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান হলেন না? আপনার জীবন ও জন্মই অভিশাপ।”(ছবিটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত !)
Image may contain: 8 people, people standing
 মুহাম্মদ ইব্রাহিম

Nil Manush

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!