আনোয়ার ইব্রাহিম পার্লামেন্টে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে রাজার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন

করোনা ভাইরাসের নতুন সংক্রমণে রাজধানী কুয়ালালামপুর, পুত্রজয়া, সাবাহ এবং সেলাঙ্গরে দুই সপ্তাহের জন্য লকডাউন আরোপ করা হয়েছে মালয়েশিয়ায়। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়ার কথা এই লকডাউন। এরই মধ্যে সেখানে প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিন ইয়াসিনকে উৎখাত করতে তৎপরতা শুরু করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন মুহিদ্দিন ইয়াসিনের বিরুদ্ধে। এ জন্য মঙ্গলবার সকালে দেশটির রাজার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন তিনি। পার্লামেন্টে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন আছে, তার প্রমাণ দিতে আনোয়ার ইব্রাহিমের ওই সাক্ষাত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
উল্লেখ্য, এর আগে মার্চে নিজের দলের ভিতর থেকে বিদ্রোহ করে বিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে পার্লামেন্টে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হন মুহিদ্দিন ইয়াসিন।
পদত্যাগে বাধ্য হন আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ও দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। মুহিদ্দিন ইয়াসিন ক্ষমতায় আসার পর খুব মসৃণভাবে দিন পাড় করতে পারেননি। গত মাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক নাটকের অবতারণা ঘটান আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি ঘোষণা করেন, পার্লামেন্টে শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে তার। তিনি কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করতে চান এবং এ জন্য রাজার সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। প্রায় ১০ বছর তিনি ছিলেন জেলে। সর্বশেষ মেয়াদে মাহাথির মোহাম্মদ ক্ষমতায় আসার পর তার সঙ্গে সন্ধি করেন। বের হয়ে আসেন আনোয়ার। তাদের মধ্যে চুক্তি ছিল, ক্ষমতার অর্ধেক মেয়াদ থাকবেন মাহাথির, বাকি অর্ধেক প্রধানমন্ত্রী থাকবেন আনোয়ার। কিন্তু মাহাথির মোহাম্মদের ক্ষমতার মেয়াদ দুই বছর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভিতরে ভিতরে ঘুন পোকার মতো দলের ক্ষতি করতে থাকেন মুহিদ্দিন ইয়াসিন। তিনি কিছু সদস্যকে নিজের দিকে টেনে নেন। গোপনে যোগাযোগ করতে থাকেন বিরোধীদের সঙ্গে। ব্যাস, মার্চে তার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে। তিনি হয়ে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। তা দেখে দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যে খায়েস পোষণ করে আসছেন আনোয়ার ইব্রাহিম তা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। এবার যদি তিনি সফল হন তাহলে তাতে তার কয়েক দশকের স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে। যদি তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব নিতে পারেন, তাহলে মালয়েশিয়া এই এক বছরে তিনজন প্রধানমন্ত্রী পাবে। প্রথমজন মাহাথির ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছেন। এখন ক্ষমতায় মুহিদ্দিন ইয়াসিন। তাকে সরিয়ে দিতে পারলে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তবে মঙ্গলবার রাজার সঙ্গে তার সাক্ষাতের ফল কি তা পরিষ্কার হওয়া যায় নি।
স্থানীয় মিডিয়ার রিপোর্ট বলছে, সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের সময় আনোয়ার ইব্রাহিমের গাড়ি প্রবেশ করে রাজপ্রাসাদে। প্রায় এক ঘন্টা পরে তিনি বেরিয়ে যান। এ সময় তার মুখে ছিল হাসি। তিনি সমর্থক ও মিডিয়াকর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন। দুপুর ২টায় তার সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তাকে সমর্থনকারীদের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তারা যাচাই করে দেখছে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি।
করোনা ভাইরাস মোকাবিলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিনের ক্ষমতাসীন জোট রয়েছে প্রচন্ড চাপে। বোর্নিও রাজ্যের নির্বাচনে করোনা ভাইরাস নতুন করে বিস্তার শুরু হয় বলে অভিযোগ আছে। এ সময় সেখানে রাজনীতিক ও প্রচারণাকারী স্টাফরা মুখে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রোটোকল মানেন নি। কর্মকর্তারা বলছেন, সাবাহ থেকে যেসব রাজনীতিক বা সাধারণ মানুষ কুয়ালালামপুরে ফিরেছেন তাদের কোয়ারেন্টিনে থাকার প্রয়োজন ছিল, বিমানবন্দরে যদি তাদের করোনা নেগেটিভও এসে থাকে পরীক্ষায়। তবে বিদেশ থেকে যারা মালয়েশিয়ায় গিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে এই রীতি কঠোরভাবে মানা হয়েছে। এখন সাবাহ’তে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। করেনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী এবং সাবাহ’র নতুন মুখ্যমন্ত্রীসহ বেশ কিছু রাজনীতিক। পুরো মন্ত্রীসভা এখন ১৪ দিনের আইসোলেশন পিরিয়ডে আছে। মালয়েশিয়ায় সোমবার করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৬৩ জন। সংক্রমণ শুরুর পর থেকে সেখানে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২২০। ওদিকে রাজধানী কুয়ালালামপুরে লকডাউন আরোপ করার সিদ্ধান্তে অনেক অধিবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
(আল জাজিরা।)

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!