কুরআনের আয়াত ছেঁটে ফেলার আপনারা কে?: এরদোগান

মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআনের কিছু কিছু জায়গা ছেঁটে ফেলে দেওয়ার ব্যাপারে ফ্রান্সের বুদ্ধিজীবীরা যে গণস্বাক্ষর দিয়েছেন, তার জেরে ওই বুদ্ধিজীবীদের এক হাত নিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।

ফ্রান্সের বুদ্ধিজীবীদের উদ্দেশ্য করে এরদোয়ান বলেন, আপনাদের মধ্যে আর ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

প্রসঙ্গত, তিনশ বুদ্ধিজীবীর স্বাক্ষর সম্বলিত একটি খোলা চিঠি গত ২২ এপ্রিল ফ্রান্সের লে পারিসিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় ইহুদি, খ্রিস্টান এবং অবিশ্বাসীদের হত্যার নির্দেশ দেওয়া আছে। ‘সেকেলে’ হয়ে পড়ায় সেগুলো বাদ দিয়ে দেওয়া উচিত বলেও তাতে উল্লেখ করা হয়।

সেই খোলা চিঠিতে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীও স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে অনেক সেলিব্রিটিও স্বাক্ষর করেছেন।

সেই খোলা চিঠিকে কেন্দ্র করে এরদোয়ান বলেন, আমাদের ধর্মগ্রন্থকে আক্রমণ করে কথা বলার আপনারা কে? আমরা জানি, আপনারা কতোটা জঘন্য। আইএসের চেয়ে আপনারা আলাদা নন।

বিশ্বের সকল নির্যাতিত মানুষের প্রতীক ফিলিস্তিনীরা: এরদোগান
প্রতিনিয়ত নির্যাতন, গণহত্যা এবং অবিচারের কারণে ফিলিস্তিনী জনগণ বিশ্বের সকল নির্যাতিত মানুষের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন বলে ন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজবতৈয়ব এরদোগান।

ইস্তাম্বুলের ‘কেমেল রয় কনর্সাট’ হলে আন্তর্জাতিক জলবায়ু শান্তি পুরস্কার অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তিনি এই সমালোচনা করেন।

ফিলিস্তিন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদাসীনতার কঠোর সমালোচনা করে এরদোগান বলেন, ইসরাইলী আক্রমণে ফিলিস্তিনীদের দুর্দশায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদাসীনতা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়, ভবিষ্যতে কোনও সমাজই নিরাপদ নয়।

তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিন সমস্যাটি কোনো দেশ বা শহরের একটি এক্সক্লুসিভ ইস্যু নয়। প্যালেস্টাইন এবং জেরুজালেমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থানের ওপর মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি এর উল্টোটা ঘটে, তাহলে আমাদের জন্য একটি অন্ধকার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। যেখানে সকল অধিকার, স্বাধীনতা, নৈতিকতা এবং সততা অনুপস্থিত কিংবা পরিত্যক্ত হয়েছে, যেখানে অত্যাচার অধিক ক্ষমতাশালী।’

এরদোগান বলেন, ‘অত্যাচারের বৈধতা নিয়ে ফিলিস্তিনে যা ঘটছে, তা ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে একতরফা ইসরাইলি দমন অভিযানকে হাইলাইট করছে। ফিলিস্তনীদের একমাত্র অপরাধ হচ্ছে- তারা নিজেদের ভূমি রক্ষার চেষ্টা করছে।’

তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘এপর্যন্ত ইসরাইলী হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনী নিহত ও আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদাসীনতা, এমন একটি ভবিষ্যতের চিহ্ন দেখাচ্ছে যেখানে কোনও সমাজ ও ব্যক্তি নিরাপদ নয়।’

ফিলিস্তিনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে দায়ী করে তিনি তাদেরকে ‘মুনাফিক’ বলে অভিহিত করেন।

এদিকে মানবতার কল্যাণের জন্য নয় বরং যুক্তরাষ্ট্র মানুষ হত্যার পেছনে অর্থ ব্যয় করছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। এরদোগান আরো বলেন, সিরিয়ার কুর্দিদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া অস্ত্র তুরস্কের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি বলেন, মার্কিন অস্ত্রভর্তি হাজার হাজার ট্রাক ও কার্গো বিমান সিরিয়ায় গেছে। এসব অস্ত্র অবশ্যই তুর্কি সেনাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, যখন আমরা এ সম্পর্কে কথা বলি তখন তারা বলে অস্ত্র ফেরত নেয়া হবে। তাদের অস্ত্র পিকেকে গেরিলাদের হাতে পড়েছে। একই কথা আমরা ইরাকের ক্ষেত্রেও শুনেছি।

এরদোগান বলেন, তারা যে অর্থ মানুষ হত্যার পেছনে ব্যয় করছে তার দশভাগের একভাগও যদি মানবতার কল্যাণে ব্যয় করা হতো তাহলে কোনো প্রশ্ন উঠত না। এর আগেও কয়েকবার তুরস্ক সরকার সিরিয়ার কুর্দিদের অস্ত্র দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

তুর্কি উপ প্রধানমন্ত্রী বাকির বোজদাগ কিছুদিন আগে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কুর্দি গেরিলাদের সামরিক সাহায্য বন্ধের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে তাহলে বলতে হবে তারা সারা বিশ্বের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!