কালজয়ী সঙ্গীত শিল্পী “দার্শনিক কবি- মতিউর রহমান মল্লিক” অহিদুল ইসলাম

“তোমার সৃষ্টি যদি হয় এত সুন্দর না জানি তাহলে তুমি কত সুন্দর”গানটি অনেকবার শুনেছি। তবে গানটির স্রষ্টা স্বয়ং মতিউর রহমান মল্লিকের শৈল্পিক মায়াবী প্রেমময় কণ্ঠে এই প্রথম শুনলাম।কবি মতিউর রহমান মল্লিক যেমন স্বভাবসুলভ প্রাণ উজাড় করে হৃদয় নিংড়িয়ে গানটি গেয়েছেন, গানের প্রতিটি কথা প্রতিটি শব্দ আমার হৃদয় নিংড়িয়ে চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরিয়েছ। অমাবস্যার ঘন অন্ধকার আর আষাঢ়ের গুরু গম্ভীর মেঘাচ্ছন্ন আকাশের মতো মনটাকে আরও বেদনায় আচ্ছন্ন করেছে একটি ভাবনায় যে তার গানগুলো আজও লাখো প্রাণে দোলা দিয়ে যায়, হৃদয়ে আল্লাহভক্তি, রাসল-প্রেম ও ইসলামী জীবনবোধের বন্যা আনে, অথচ তিনি আর আমাদের মাঝে নেই; কোনোদিন আর এমন করে চিরন্তন সত্য সুন্দরের গান তিনি গাইবেন না।কবি মতিউর রহমান মল্লিক একজন জান্নাতী মানুষ। লাখো ভক্তকে চিরবিদায় দিয়ে তিনি চলে গেছেন পরপারে, আছেন তার প্রিয় রব্বের সান্নিধ্যে চিরস্থায়ী আবাস জান্নাতে। তার অসুস্থতার দিনগুলোতে আমরা তার অজস্র গুণগ্রাহী কাছে বা দূরে থেকে তার রোগমুক্তির জন্য কায়মনোবাক্যে দোয়া করেছি এবং যথাসাধ্য তার চিকিৎসার অনুকূলে চেষ্টা করেছি। কিন্তু মহান আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাহকে নিজের কাছে টেনে নিলেন। আমাদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হলো আর আমরা বঞ্চিত হলাম তার নির্ভেজাল ঈমানী বলে বলিয়ান শিল্প-সুষুমাময় সঙ্গিত, কবিতা ও সাহিত্য থেকে।তিনি যতো বড়ো মাপের দার্শনিক কবি, সাহিত্যিক এবং সঙ্গিত রচয়িতা তা বিন্দুমাত্র স্বীকৃতি পায়নি, মূল্যায়িত হয়নি। তিনি সেক্যুলার ক্যাম্পের কেউ হলে তার সমসাময়িক বাংলাদেশে তিনি স্বীয় বিচরণ ক্ষেত্রে একজন অন্যতম গুণীজন হিসেবে স্বীকৃতি ও সম্মান তো অবশ্যই পেতেন অধিকন্তু বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে পারতো। কিন্তু তিনি জীবনে যা কিছু করেছেন সত্য সুন্দরের জন্য করেছেন, আপন বিশ্বাসের আলোকে করেছেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা, সুনাম সুখ্যাতি অর্জন করা কখনোই তার অভিলাষ ছিলোনা। যশ-খ্যাতির মোহ ও বিত্ত-বৈভবের প্রাচুর্য্যের ধান্দা এড়িয়ে তিনি সহজ সরল দীন-হীন জীবন যাপন করেছেন সারাটি জীবন। মতিউর রহমান মল্লিকের এ এক স্বভাবসুলভ সহজাত গুণ যা তার বিচরণক্ষেত্রে অন্যান্য মানুষদের মধ্যে সত্যিই বিরল।একচ্ছত্রভাবে সত্য সুন্দরের অনুশীলনে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির বিপ্লব তিনি ঘটিয়েছেন অতি যতন মনে এবং মণি-মুক্তা ঝরা কলমের কালি দিয়ে। অনুপম সাহিত্য সৃষ্টি করে, কবিতা লিখে, গান গেয়ে তিনি লাখো তরুণের প্রাণে আল্লাহর ভালোবাসা, রাসুল (সাঃ) এর ভালোবাসা এবং ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার দায়িত্বানুভূতির জোয়ার এনেছেন। বাংলাদেশে ইসলামী সাহিত্য- সংস্কৃতির আকাশে তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি এক সার্থক নীরব বিপ্লবের সূতিকাগার, সিপাহসালার।কবি মতিউর রহমান মল্লিককে খুব কাছে থেকে দেখেছি, অনেক দূরে থেকে অনুভব করেছি। বাংলাদেশ, বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্য এমন এক সুন্দর গুণীজন আর কখনো পাবে কিনা জানিনা। তার ভিতর বাহির সবই সুন্দর, ফুলের মতো পবিত্র। মধুর মতো সুমিষ্ট ছিলো তার কথা-বার্তা, চাল-চলন, আচার-আচরণ। আল্লাহ যেমন সুন্দর এবং সৌন্দর্য্যের স্রষ্টা, আল্লাহর ভালোবাসায় পরিপূর্ণভাবে অবগাহন করে এই মহান কবি-দার্শনিকও হয়েছেন অনেক সুন্দর। তবে বাহ্যিক দেহাবয়বে ও আচার-আচরণে কবি-দার্শনিক-গায়ক মতিউর রহমান মল্লিক যতোই সুন্দর হোন না কেনো তা তার ভেতরের অন্তরাত্মার সৌন্দর্য্যের কাছে কিছুই না। সে প্রমাণ আমরা পাই তার গভীর বিশ্বাস, পবিত্র জীবনবোধ ও আবেগ মিশ্রিত প্রতিটা লেখার প্রতি হরফে হরফে।তার প্রতি আমাদের ঋণ কখনোই শোধ হবার নয়। আমরা যারা তার লাখো অনুরাগী, গুণগ্রাহী, ভক্ত, আমাদের জীবনের অনেক ভালো কিছুই তার লাগিয়ে যাওয়া গাছের ফল, তার সাদাকা জারিয়া। সত্য-সুন্দরের চির পূজারি এই মহান ব্যক্তিত্ব তার স্বীয় কর্মগুণে, সাদাকা জারিয়ার গুণে, অটল বিশ্বাসের অনুকূলে জান্নাতে অনন্তকালব্যাপী পরম অনাবিক শান্তিতে থাকুন, থাকুন তার প্রিয় রব্বের সান্নিধ্যে – এ দোয়া করি।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!