কালজয়ী প্রতিভা কবি মতিউর রহমান মল্লিক

টিক-টিক যে ঘড়িটা বাজে ঠিক ঠিক বাজে- কেউ কি জানে সেই ঘড়িটা লাগবে কয়দিন কাজে। ঝক ঝক ফক ফক করে যদ্দিন ঘড়ির চেহারা- ততদিন তারে কিনতে চায় যে খরিদদারেরা।’’ সেই ঘড়ির মতোই চলে গেলেন চির সবুজের কবি ও গীতিকার, ইসলামী সাহিত্য সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রাণপুরুষ মতিউর রহমান মল্লিক।

আধ্যাত্মিক সঙ্গীত স্রষ্টা, কবি মতিউর রহমান মল্লিক ছিলেন কালজয়ী প্রতিভা। তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ ও মানবতাবাদী কবি।

মতিউর রহমান মল্লিক (জন্ম: ১লা মার্চ ১৯৫০- মৃত্যু: ১২ আগস্ট ২০১০) হলেন একজন বাংলাদেশী কবি, সাহিত্যিক, সংগীত শিল্পী, সুরকার ও গীতিকার। তিনি বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পর মল্লিক দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব যিনি ইসলামী ধারায় অসংখ্য গান ও কবিতা রচনা করেছেন। তাকে অনেকেই সবুজ জমিনের কবি ও মানবতার কবি বলে থাকেন।

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

মতিউর রহমান মল্লিক ১৯৫০ সালের ১লা মার্চ বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার বারুইপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মুন্সি কায়েম উদ্দিন মল্লিক স্থানীয় জারীগানের দলের জন্য গান লিখতেন। মাতা আয়েশা বেগম। তৎকালীন রেডিওতে কবি ফররুখ আহমদ যে সাহিত্য আসর পরিচালনা করতেন সেই আসরে মল্লিকের বড় ভাই কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন।পিতা মাতার সান্নিধ্যে থেকে তিনি গানের প্রাথমিক জীবন শুরু করেন। প্রাথমিক জীবনে রেডিওতে গান শুনে শুনে গান লেখা শুরু করেন। তখনকার তার প্রায় সকল গানই ছিল প্রেমের গান। পরবর্তীতে ইসলামী আদর্শে প্রভাবিত হয়ে ইসলামী ধারায় গান লেখা শুরু করেন।

মল্লিক বারুইপাড়া সিদ্দীকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। এরপর বাগেরহাট পিসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

কর্মজীবন

কর্মজীবনে কবি মতিউর রহমান মল্লিক সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক, ‘বিপরীত উচ্চারণ’ সাহিত্য সংকলনও সম্পাদনা করেছেন, মাসিক কলম পত্রিকার সম্পাদক এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ সংস্কৃতি কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন।

মতিউর রহমান মল্লিক শৈশব থেকেই বিভিন্ন ধরনের সংগঠন গড়ে তুলতে থাকেন। কবি মতিউর রহমান মল্লিক ছিলেন ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠন সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠীসহ বেশ কয়েকটি সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তা। তারই নিরলস প্রচেষ্টায় সারাদেশে নতুন ধারার ইসলামী সংগীত চর্চা শুরু হয় এবং এর বিস্তৃতি ঘটে।

১৯৭৮ সালে ঢাকায় সমমনা সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে গড়ে তোলেন ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী। তারপর একে একে তার অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশের শহর, নগর, গ্রাম, গঞ্জ, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যায়ল ও মাদরাসায় গড়ে ওঠে একই ধারার অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গ, আসামসহ বিশ্বের যেখানেই বাংলাভাষাভাষী মুসলমান রয়েছে সেখানেই গড়ে উঠেছে একই ধারার বহু সাংস্কৃতিক সংগঠন।

প্রকাশিত গ্রন্থ ও অন্যান্য

কবিতা, গান, সংগঠন, আন্দোলন ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে মতিউর রহমান মল্লিকের গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। সামগ্রিকভাবে তার অবদান, বিশেষত কবিতা ও গান সম্পর্কে আলোচনা ও তার মূল্যায়ন করা কিছুটা দুরূহ। কারণ তার সম্পূর্ণ অবদান এখনো প্রকাশিত হয়নি।

অন্তর্মুখী চারিত্র্য-বৈশিষ্ট্যের কারণে মল্লিক যা কিছু লিখেছেন, তা সব প্রকাশিত হয়নি। যতদূর জানা যায়, প্রকাশিত রচনাবলীর তুলনায় তার অপ্রকাশিত রচনার পরিমাণ অনেক বেশি। তাই যতদিন পর্যন্ত তার সমগ্র রচনাবলী সংগৃহীত ও প্রকাশিত না হয়, ততদিন পর্যন্ত তার সম্পর্কে আলোচনা ও মূল্যায়ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

তবে এ যাবত তার যেসব রচনাবলী গ্রন্থাকারে বা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, তার পরিমাণও অকিঞ্চিৎকর নয় এবং তার উপর ভিত্তি করে মল্লিক সম্পর্কে ইতোমধ্যেই একটা মোটামুটি ধারণাও গড়ে উঠেছে। তাই তার সম্পূর্ণ রচনাবলী প্রকাশের উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি তার সম্পর্কে আলোচনা মূল্যায়নের কাজও যথারীতি চলতে পারে। বিশেষত তার ইন্তিকালের পর সঙ্গতভাবেই তার সাহিত্য-কর্মের উপর আলোচনা এখন একান্ত অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

মতিউর রহমান মল্লিকের জীবনকালেই ‘কবি’ অভিধা তার নামের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে। আমার ধারণায় তিনি প্রধানত কবি, যদিও এ যাবত প্রকাশিত তার কবিতার সংখ্যা তার রচিত গানের তুলনায় কম। তবে একথা স্বীকার্য যে, কবি না হলে কেউ গান লিখতে পারে না। পৃথিবীর সকল গীতিকারই মূলত কবি। অনেক খ্যাতনামা কবির প্রখ্যাত অনেক কবিতাও গান আকারে গীত হয়ে থাকে। কবিতার মধ্যে যেমন মিল, ছন্দ, ধ্বনি, ব্যঞ্জনা ইত্যাদি রয়েছে, গানের মধ্যেও তার উপস্থিতি অপরিহার্য। তবে গানের মধ্যে গীতলতার দিকটা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, গান একটি নির্দিষ্ট সুর, তাল-লয় ও আকারে সীমাবদ্ধ থাকে, কবিতার ক্ষেত্রে যার বাধ্যবাধকতা নেই। তাই গান রচনার সময় কবিকে অধিকতর সচেতনতা ও শিল্পবোধের পরিচয় দিতে হয়। সেজন্য গীতিকার যখন শব্দ নিয়ে খেলা করেন, তখন তাকে সুর-তাল-লয় ও রাগ-রাগিণী সম্পর্কে সজাগ-সতর্ক থাকতে হয়। গানের সফলতা অনেকটা এর উপর নির্ভরশীল।

মল্লিকের কবি-স্বভাবের মধ্যে গীতিধর্মিতার প্রাবল্য তাকে একজন সার্থক এবং বহুলপ্রজ গীতিকার হিসাবে সাফল্য এনে দিয়েছে। তার কবিতায় গীতিধর্মিতার দিকটি তাই স্পষ্টত সকলের চোখে পড়ে। বাংলা কাব্যে এটা এক মৌলিক প্রবণতা। বাংলা কাব্যের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এ গীতিধর্মিতার প্রাবল্য স্পষ্টগ্রাহ্য এবং দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সকল কবির মধ্যেই তার প্রকাশ ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। অতএব, মল্লিক সে ধারারই একজন বিশিষ্ট কবি এবং তার রচনার ভাব-বিষয় ও কাব্যিক নৈপুণ্য তাকে অনেকটা স্বতন্ত্র মহিমায় উজ্জ্বল করে রেখেছে।

প্রচার বিমুখ এ ব্যক্তিটি কাজ করেছেন মানুষের জন্য,মানবতার জন্য, বিশ্বাসের জন্য। ছোট বড় সবার জন্য লিখেছেন তিনি। তার লেখা অনেক কিন্তু কমই প্রকাশিত হয়েছে। ব্যক্তিগত সফলতার চেয়ে আদর্শিক সফলতার কথাই বেশি ভেবেছেন। তার ভক্ত শুভাকাঙ্খীদের আকুল আকতিতে কথা ও সুর নিয়ে সংস্কৃতিপ্রেমীদের মাঝে উৎসাহের কারণে কিছু কাজকে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করেছেন।-

নীষন্ন পাখির নীড়ে (কাব্যগ্রন্থ):আত্ম প্রকাশন
সুর-শিহরণ (ইসলামি গানের বই)
যত গান গেয়েছি (ইসলামি গানের সঙ্কলন)
ঝংকার (গানের বই)
আবর্তিত তৃণলতা (কাব্যগ্রন্থ) মোনালিসা প্রকাশন
তোমার ভাষার তীক্ষ্ন ছোরা (কাব্যগ্রন্থ) বাংলা সাহিত্য পরিষদ
অনবরত বৃক্ষের গান (কাব্যগ্রন্থ) মোনালিসা প্রকাশন
চিত্রল প্রজাপতি (কাব্যগ্রন্থ) প্রফেসর’স পাবলিকেশন্স
নির্বাচিত প্রবন্ধ (প্রবন্ধের বই)
রঙিন মেঘের পালকি (ছোটদের ছড়ার বই) জ্ঞান বিতরণী
প্রতীতি এক (ইসলামি গানের ক্যাসেট)
প্রতীতি দুই (ইসলামি গানের ক্যাসেট)
প্রাণের ভিতরে প্রাণ (গীতিকাব্য) উল্লেখযোগ্য।

সম্পাদনা: পদ্মা-মেঘনা-যমুনার তীরে, প্রত্যয়ের গান।

অনুবাদক হিসেবে তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। পাহাড়ি এক লড়াকু নামে আফগান মুজাহিদদের অমর কীর্তিকলাপ তার বিখ্যাত অনুবাদ উপন্যাস যা কিশোকণ্ঠের পাঠকরা মন উজার করে পড়তেন নিয়মিত। মহানায়ক (উপন্যাস) ছাড়াও হযরত আলী ও আল্লামা ইকবালের মতো বিশ্বখ্যাত মুসলিম কবিদের কবিতাও অনুবাদ করেছেন তিনি।

মতিউর রহমান মল্লিকের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ আবর্তিত তৃণলতা। এ গ্রন্থের প্রথম কবিতাটির নাম ‘মিনার’। এখানে কবি বলেন-

জীবনের মত

মৃত্যু কামনা করি।

বেঁচে রবো আমি ইতিহাস ভালবেসে।

অমরত্বের

মিনার কিছুটা গড়ি

কবিতার মত উদার তেপান্তরে।

… … … … … … … … …

আমিতো পালাবো উধাও ধূসর রাতে

বাঁচার দলিল বেঁচে রবে প্রাণে প্রাণে।

(মিনার :আবর্তিত তৃণলতা)

কবি জীবনের এক অনিবার্য পরিণতির কথা উল্লেখ করেছেন। জন্মের পর মৃত্যু অনিবার্য। আল-কুরআনে আছে, ‘জীব মাত্রকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে’। মৃত্যুকে অনিবার্য জেনেও মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অবিশ্রান্ত কাজ করে যায়, কাজের মাধ্যমে সে নিজেকে অমরত্ব ও অবিস্মরণীয় করে রাখার প্রয়াস পায়। পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ, বিচিত্র তাদের কাজ। সব মানুষকে আল্লাহ একভাবে তৈরী করেননি। এক এক মানুষের যোগ্যতা, দক্ষতা, কর্মস্পৃহা ও প্রতিভা এক এক রকম। প্রত্যেককেই তার নিজ নিজ ক্ষেত্রে যোগ্যতা, দক্ষতা ও প্রতিভা অনুযায়ী কাজ করে জগতে খ্যাতি অর্জন করতে চায়। কেউ সফল হয় কেউ হয় না। কবি উপরোক্ত কবিতায় তার নিজের কথাই বলতে চেয়েছেন। তিনি একজন কবি। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণের পর তিনি জেনেছেন যে, একদিন অবশ্যই মৃত্যুবরণ করতে হবে। তাই মৃত্যুকে ভয় করে নয়, বরং নিজের কর্তব্য পালনের সাথে সাথে মৃত্যুকে বরণ করে নেয়ার জন্য তিনি নিজেকে সর্বদা প্রস্তুত করে রাখতে চান। তবে মৃত্যুর কথা স্মরণ করে তিনি হতাশ ও কর্মোদ্যম হারিয়ে বসে থাকার পক্ষপাতি নন। কবির জীবনের এটাই দর্শন। তাই জন্মের পর পৃথিবীকে ভালবেসে, পৃথিবীর রূপ-সৌন্দর্য-আনন্দ, দুঃখ-বেদনা-দৈন্য মর্মে মর্মে অনুভব করে নিরন্তর সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি পৃথিবীর বুকে অমরত্বের মিনার গড়ে তুলতে চান।

এখানে ‘গাছ সম্পর্কিত’ একটি কবিতায় কবি জটিল জীবন-সমস্যায় অস্থির, বেদনা ভারাক্রান্ত। মানুষের কাছে তিনি প্রেম-ভালবাসা-সহানুভূতি চেয়ে ব্যর্থ হয়ে প্রকৃতির কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। প্রকৃতির আশ্রয়ে গাছপালা, তরুলতা, বৃক্ষরাজি সজীব ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে বলেই সেগুলো মানুষকে ছায়াদানে সক্ষম। সবুজ গাছের সতেজ ছায়া মানুষের দুঃখ-বেদনা, ঘর্মাক্ত শরীর ও মনের ক্লান্তি দুর করে দিতে পারে। তাই হৃদয়হীন মানুষকে কবি প্রকৃতির কাছ থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন। কবি আক্ষেপের সুরে বলেন-

এখন আর মানুষের ছায়া নেই

ছায়া থাকলে হৃদয় থাকতো

হৃদয় থাকলে ছায়া থাকতো

মানুষের হৃদয় নেই

গাছের ছায়া আছে হৃদয় আছে

এসো এই ছায়ায় একটু দাঁড়াই

তারপর মানুষের কথা বলি পৃথিবীর কাছে।

(গাছ সম্পর্কিত ঃ আবর্তিত তৃণলতা)

এ কাব্যের আরেকটি কবিতার নাম ‘নদী এক নদী’। কবি এখানে নদীর কথা বলেছেন। মানুষের কাছে নদী ও প্রকৃতি একান্ত অবিচ্ছিন্ন। আমরা প্রতি মুহূর্তে প্রকৃতির দান গ্রহণ করছি। নদীও প্রকৃতির মতই অবারিতভাবে মানুষকে প্রতি মুহূর্তে তার প্রয়োজন মিটাচ্ছে। নদীর পানি দিয়ে আমরা তৃষ্ণা মিটাই, নদী পলিমাটি বহন করে আমাদের মাঠকে উর্বর করে তোলে, নদীর পানিতে আমাদের ফসলের মাঠ পূর্ণ ও শস্য-শ্যামল হয়ে ওঠে, নদীতে সাঁতার কেটে শিশুরা আনন্দ-কোলাহলে মত্ত হয়, নদীর জলে নৌকা ভাসিয়ে আমরা এখান থেকে সেখানে চলাচল-পারাপার করি, পণ্য আনা-নেয়া করি। ইত্যাদি নানা কাজে নদী আমাদের জীবনের সাথে অন্তরঙ্গভাবে সম্পর্কিত। কবি অতি চমৎকারভাবে এর বর্ণনা দিয়েছেন-

নদী তো অববাহিত করে পলি,

আলুলায়িত গৃহিণী এক,

পৃথিবীর চাষ-বাস, ঘর-সংসার, ঝাড়া-পোছা,

টুকিটাকি ঠিক রাখে-তালিকা,

ঠিক রাখে সূর্যের মাখামাখি, চন্দ্রের স্নেহ।

(নদী এক নদী ঃ আবর্তিত তৃণলতা)

কিন্তু সে নদীই যখন ভরা বর্ষায় উন্মাতাল গতিতে দু’কূল প্লাবিত করে কূলের বাড়ি-ঘর, আবাদী জমি, নিবিড় অরণ্যানী উন্মুল করে ফেলে তখন মানুষের জীবনে নেমে আসে দুর্ভাগ্যের করুণ পরিণতি। জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে। কবি এর বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে-

সেই নদী, হ্যাঁ, সেই প্রবাহিত নদী

দেখি, রেগে-ফুঁসে একদিন

দু’হাতে ছড়াচ্ছে

উত্তুমুল গতি-গাঁথা শাড়ির স্বৈরক্রমণ

কূল-উপকূল, ফলসা মাঠ, ঘাট, পথ, গাছের আদি ছায়া,

অবসরপ্রাপ্ত ঘর-বাড়ি, পদবী বনতল-সমস্ত,

সবকিছু মুছে ফেলছে উপর্যুপরি মুছেই ফেলছে।

কবি মানুষের জীবনে যে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছে, তার জন্য বেদনাকাতর হন। পৃথিবীতে জীবন চলার পথ কখনো মসৃণ নয়। পদে পদে মানুষের স্বপ্ন ভগ্ন হয়। শরাহত আহত বিহঙ্গের ন্যায় মানুষের জীবনে স্বপ্নভগ্ন ঘটে। মানুষ মনে করে নিরাশার ঘনান্ধকারে জীবনের দীপশিখা যেন অস্তমিত সূর্যের মতই নিভে গেছে। কিন্তু কবি বলছেন, সূর্য নিভে গেলেও প্রত্যুষে আবার সূর্যোদয় ঘটে। তেমনি দৃঢ় পদে সকল বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে সামনের দিকে অগ্রসর হলে মানুষের জীবনেও একদিন ভোরের নতুন সূর্যোদয় সম্ভব।

কবি প্রকৃতির নির্মমতার কাছে মানুষের পরাজয়ের করুণ আলেখ্য সকরুণ ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন ‘সিডর’ কবিতায়। প্রকৃতির কাছে মানুষ কত অসহায়, মানুষের নির্মিত বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ফসলের মাঠ, সারি সারি বৃক্ষরাজি, পশু-পাখি, সভ্যতার গর্বিত স্থাপনা সবকিছু মুহূর্তে চূর্ণ-বিচূর্ণ, বিধ্বস্ত-উন্মুন হয়ে যায়। কবি এ ভয়ংকর দৃশ্যের অনবদ্য বর্ণনা দিয়েছেন। যেমন-

সিডর দিয়েছে ডর

বিপন্ন অন্তর

সিডর দিয়েছে স্বজন-হারানো গুমরিত প্রান্তর

দিয়েছে করুণ মৃত্যুর হাহাকার

দিয়ে গেছে খুলে ভয়াল সিডর

বেদনার যত অশ্রুসিক্ত দ্বার

আর দিয়ে গেছে বুকফাটা চিৎকার

ধস্ত বিরান বিবর্ণ সংসার।

(সিডর ঃ নিষণœ পাখির নীড়ে)

‘নিষণœ পাখির নীড়ে’ কাব্যগ্রন্থের বিভিন্ন কবিতায় কবি জীবনের অসহায়ত্ব, পৃথিবীর রুঢ়তা, সমাজের মানবতাহীন আচরণ এবং প্রকৃতির নির্মম আঘাত প্রতিনিয়ত জীবনকে নানাভাবে পর্যুদস্ত করে চলেছে। মানুষের আদর্শচ্যুতির কারণেই এ বিপর্যয়। মানুষ তার স্রষ্টাকে ভুলে গেছে, স্রষ্টার নির্দেশিত পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে বলেই মানুষ আজ এত অসহায়, সমাজ এত দয়ামায়া শূন্য এবং প্রকৃতিও অতি নির্মম ও রুঢ় হয়ে পড়েছে। আল্লাহর বিধান মেনে নিয়ে মানুষ পৃথিবীতে শান্তি, কল্যাণ ও প্রেমপূর্ণ সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে পারে। মানবতার বিকাশ ও উন্মেষ ঘটতে পারে। সে সুন্দর সমাজই কবির অভিপ্রেত।

‘প্রাণের ভেতরে প্রাণ’ কাব্যগ্রন্থের বিভিন্ন কবিতায় কবি পৃথিবীর সবকিছুর মধ্যেই কৃত্রিমতা উপলব্ধি করেছেন। মানুষ আজ তার সত্যিকারের পরিচয় ভুলে গেছে। পৃথিবীর সবকিছুই তার আসল রূপের বদলে যেন অনেকটা কৃত্রিমতার লেবাস পরেছে। তাই আসল কোন কিছু আর খুঁজে পাওয়া যায় না। কবির হৃদয় তাই দুঃখ-ভারাক্রান্ত, বেদনায় মুহ্যমান এবং হতাশায় নিমজ্জিত। কবির এ দুঃখ-বেদনা, হতাশা ও অতৃপ্তির কথা নিম্নোক্ত কয়েক লাইনে ফুটে উঠেছে।

প্রাণের ভেতরে প্রাণ খুঁজে ফিরি

গানের ভেতরে গান

হৃদয়ের তীরে হৃদয়ের ঢেউ

খুঁজে ফিরি অবিরাম।।

জীবনের ঘরে জীবন আসে না কেনো

জীবনকে ভালো জীবন বাসে না কোনো

সাম্পান খুঁজে পায় না আজো

কোনো যেনো সাম্পান।।

(প্রাণের ভেতরে প্রাণ ঃ প্রাণের ভেতরে প্রাণ)

কবির অতৃপ্তি সীমাহীন। কবি-শিল্পী ও সৃজনশীল ব্যক্তিরা সবসময় অতৃপ্তির বেদনা অনুভব করেন। কারণ তারা যা চান তা পাননা। তাদের কল্পনায় তারা যে সম্পূর্ণতার স্বপ্ন দেখেন, বাস্তবে তা সবসময় ধরা দেয় না। তাই তাদের মনে অতৃপ্তির বেদনা থেকে যায়। মূলত এ অতৃপ্তিই তাদেরকে নতুন সৃষ্টির প্রেরণা যোগায়। কবি বলেন-

গাইতে পারিনি আমি আজো সেই গান

যে-গানে গানের শেষে

মেঘমালা আসে ভেসে

নিখিল পৃথিবী হেসে ওঠে অম্লান।।

(গাইতে পারিনি সেই গান ঃ প্রাণের ভেতরে প্রাণ)

কবি মতিউর রহমান মল্লিক ছিলেন শিশু-কিশোরদের প্রিয় বন্ধু। তিনি ছোটদেরকে ভালোবাসতেন। এ কারণে পত্রিকার পাতায় পাতায় ছন্দে ছন্দে তিনি ছোটদের জন্য অনেক গান কবিতা লিখেছেন। শিশু সাহিত্যের বাঁকে বাঁকে তাঁর বিচরণ ছিল বলে তিনি তাঁর লেখায় বলেছেন-
“ফুলকুঁড়িদের মাঝে আমার
থাকতে লাগে ভালো
ফুলকুঁড়িরাই জ্বালছে দেশে
জ্ঞান-গরিমার আলো।
তারাতো নয় কাগজের ফুল
মেকী ফুলের কুঁড়ি
আসল ফুলের মেলা বসায়
সারাটা দেশ জুড়ি।’
এই কবিতার পঙ্ক্তিগুলো থেকেই বুঝা যায় তিনি ছোটদেরকে কত ভালো বাসতেন। তিনি তাদের কতোই না কাছের বন্ধু ছিলেন।

কবি মতিউর রহমান মল্লিক ছিলেন একজন হাস্যরসিক। তাঁর মন ছিলো নরম। গাল্পিক মন। তিনি সবার সাথে হেসে হেসে কথা বলতেন। শিশু মনের অধিকারী ছোট্ট বন্ধুদের হাসির জগতে আকর্ষণ করেছেন। তিনি কখনো নির্মল আনন্দ বিতরণ করেছেন, কখনো বা নীতি ও উপদেশপূর্ণ ভালো ভালো কথা-গীতি কাব্যের মাধ্যমে তুলে ধরে ছোট্ট বন্ধুদের তৃপ্ত করেছেন। যেমনÑ
“এই তো সেদিন রাত বারোটায় দেখি
হায়! হায়! হায়! চৌরাস্তায় একি
পিচ্চি ম্যালা,পনেরো ষোল আর
যুবক- তো নয় নাঙ্গা তলোয়ার
সমান তালে মারছে রঙের গোলা
ঠায় দাঁড়িয়ে হাসছে ক’জন ভোলা।’
অসাধারণ সৃষ্টিশীল প্রতিভার অধিকারী কবি মতিউর রহমান মল্লিক বাংলা সাহিত্যের একজন অন্যতম গীতি কবি। তার কবিতায়, গানে রয়েছে ছন্দ, শিল্প, সুষমা, ভাবের সুঠাম বিন্যাস আর নিখুঁত কারু কাজ। তাঁর রচিত প্রতিটি লেখায় ধ্বনিত হয় একটি মেসেজ যা বড় মাপের একজন কবির প্রধান বৈশিষ্ট্য।
কবি মতিউর রহমান মল্লিকের লেখা পড়লেই বুঝতে পারা যায়- তিনি ছোট্ট শিশু-কিশোরদের কতো আনন্দ দিয়েছেন। তিনি নতুন নতুন শব্দ ও ভাষার ঝংকারে রস রচনা লিখেছেন অনেক। মন ও মেজাজে চঞ্চল এই লেখক সমাজ বা জাতির জন্য মূলত লেখনি ধারণ করলেও তাঁর শিশুতোষ রচনাবলী স্পন্দিত হয়েছে। শিশু সাহিত্যে তিনি ছিলেন আলোর অভিসারী, রঙিন সকাল প্রত্যাশী মানবতাবাদী। যেমন- কবি ফররুখ আহমদকে নিয়ে তাঁর শিশুতোষ একটি লেখা-
‘বুকে তার সাহস ছিল বাঘের মত
প্রাণে তার ফুটতো গোলাপ ডাগর ডাগর
মনে তার লক্ষনিযুত তারা জ্বলতো
চোখে তার স্বপ্ন ছিল সাগর সাগর।’
কবি মতিউর রহমান মল্লিক ছিলেন অপূর্ব প্রাণশক্তির প্রতীক। তিনি ছিলেন প্রেমের কবি। সে প্রেম প্রকৃতির জন্য, মানুষের জন্যে, দেশের জন্যে, দেশবাসীর জন্যে, মানবতার জন্যে। তাঁর লেখায় ছিল আল্লাহ্র প্রেম, রাসূল (সা:)-এর প্রেম। তিনি ছোট-বড় সবাইকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসের সাথে লড়ে যেতে উৎসাহিত করতেন।
নামবে আঁধার তাই বলে কি
আলোর আশা করবো না?
বিপদ-বাধায় পড়বো বলে
ন্যায়ের পথে লড়বো না?
শিশু রচনায় মতিউর রহমান মল্লিক ছিলেন শিশু মনস্তত্ত্ববিদ এবং শিশুবন্ধু। তিনি শিশুদের আদর করতে করতে বলতেন-
পড়ো এবং পড়ো
যে পড়ে সে বড়ো
লেখার জন্য পড়ো
শেখার জন্য পড়ো।
কবি মতিউর রহমান মল্লিক গ্রামেই লালিত পালিত এবং গ্রাম্য সৌন্দর্যময়ী প্রকৃতি তাকে মুগ্ধ কবি-আত্মার অধিকারী করেছে। বাংলার প্রাকৃতিক রূপ, গাঁয়ের সরল মানুষের প্রেম-প্রীতি, ঝগড়া-বিষমবাদ, আনন্দ-বিলাপ, ক্রীড়া স্ফূর্তি সবকিছুকে তিনি মমতার দৃষ্টি নিয়ে বাংলা সাহিত্যে চক্ষুষ্মান করেন। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন এই ঐতিহ্য ধারার অনুসারী। কবি মতিউর রহমান মল্লিকের শিশুতোষ রচনায় তিনি এসব অনুসরণ অনুকরণ করলেও স্বীয় কর্মের প্রভাবে তিনি উত্তরসূরী হয়েও এ পথে এক নব দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। শিশুসাহিত্য সাধনায় তিনি লোকজীবনের উপাদান ও ঐতিহ্যের যথার্থ প্রয়োগে ছিলেন কুশলী। পল্লীর প্রচলিত গান, গজল ও লোকসাহিত্য সংগ্রহ করতে করতে তিনি বাংলাসাহিত্যে ইসলামী ধারার গান, কবিতা ইত্যাদি সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। তার লেখা ছড়া-কবিতা যেমনি শিশুদের আনন্দ দিয়েছেন তেমনি তার লেখা অসংখ্য হামদ-নাত এবং আধুনিক ইসলামী গান শ্রোতাদের মন জয় করেছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পর বাংলা সাহিত্যে ইসলামী সংগীতকে আধুনিক ভাবধারায় একমাত্র মতিউর রহমান মল্লিকই উজ্জীবিত করছেন। যেমন-
পাখি তুই কখন এসে বলে গেলি
মোহাম্মদের নাম,
যে নাম শুনে পৃথিবীকে
ভালো বাসিলাম।

মতিউর রহমান মল্লিকের কবিতায় জীবন ও প্রকৃতির প্রবল প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। তার প্রতিটি কবিতার শব্দে-ছন্দে জীবন সংগ্রাম ও বেঁচে থাকার এক নিরন্তর প্রয়াস পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রকৃতির সাথে তার গভীর সম্পর্ক। গাছ থেকে আমরা যেমন অক্সিজেন গ্রহণ করে জীবন ধারণ করি, প্রকৃতির রূপ-সৌন্দর্য ও সান্নিধ্যে আমরা জীবনের তাৎপর্য খুঁজে পাই। প্রকৃতির বৃক্ষরাজি ছায়া দিয়ে, মায়া দিয়ে, প্রেম-ভালবাসা ও সৌন্দর্য দিয়ে জীবনকে সুন্দর ও প্রাণবান করে তোলে। তাই প্রকৃতির কাছে আমাদের বার বার প্রত্যাবর্তন করার প্রয়োজন রয়েছে। মল্লিকের বিভিন্ন কবিতায় স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে যে, তিনি একজন প্রতিভাবান কবি তার চারপাশের বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে তিনি সবসময় এগিয়ে চলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সাধারণ মানুষ আর কবিদের মধ্যে এখানেই দূরাতিক্রম্য ব্যবধান। কবিরা স্বপ্ন দেখেন, সে স্বপ্ন অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান, পৃথিবীর সকল দুঃখ-গ্লানি, বাধা-বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে তারা এক স্বপ্নময় সুন্দর ভুবন নির্মাণ করার প্রয়াসী।

স্বীকৃতি

সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। কবি মতিউর রহমানের প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য পুরস্কার ও সম্মাননাঃ

সাহিত্য পুরস্কার : সবুজ-মিতালী সংঘ, বারুইপাড়া, বাগেরহাট
স্বর্ণপদক : জাতীয় সাহিত্য পরিষদ, ঢাকা
সাহিত্য পদক : কলমসেনা সাহিত্য পুরস্কার, ঢাকা
সাহিত্য পদক : লক্ষ্মীপুর সাহিত্য সংসদ
সাহিত্য পদক : রাঙামাটি সাহিত্য পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম
সাহিত্য পদক : খানজাহান আলী শিল্পীগোষ্ঠী, বাগেরহাট
সাহিত্য পদক : সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ
সাহিত্য পুরস্কার : সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ, বাগেরহাট
প্যারিস সাহিত্য পুরস্কার : বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ, ফ্রান্স
বায়তুশ শরফ সাহিত্য পুরস্কার : বায়তুশ শরফ আঞ্জুমানে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম
ইসলামী সংস্কৃতি পুরস্কার : ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদ, চট্টগ্রাম
সাহিত্য পুরস্কার : বাংলা সাহিত্য পরিষদ, ফ্রান্স।
কিশোরকণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার।

মৃত্যু

মতিউর রহমান মল্লিক ১১ আগস্ট ২০১০ সালে বুধবার রাতে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনী সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি তার গানে বলেছেন-
পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয়
মরণ একদিন মুছে দেবে সকল রঙিন পরিচয়।…

মতিউর রহমান মল্লিক শুধু কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সংগঠক ছিলেন না, ব্যক্তি হিসেবেও তিনি ছিলেন ভালো মানুষ, খাঁটি দেশপ্রেমিক। কবি মতিউর রহমান মল্লিক একজন বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, গীতিকার, সুরকার ছিলেন। তার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে কর্মতৎপরতায় নিজেকে সোপর্দ করেছেন। তিনি যুব সমাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে তার লেখনীতে তুলে ধরেছেন ইসলামী পুনর্জাগরণ।
(সম্পাদনা :এম এ মেননেন আজাদ )

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!