করোনা ভাইরাস, নাস্তিক্যবাদ ও ইসলাম

প্রভাষক মোঃ মোশারফ হোসেন
বর্তমান বিশ্ব কাঁপানো, মানব বিধ্বংসী মহামারী COVID-১৯ বা করোনা ভাইরাস হলো এক মহা আতংকের নাম। প্রযুক্তি নির্ভর উন্নত বিশ্ব করোনার কাছে আজ অসহায় ও মারাত্মকভাবে পরাজিত। ইসলাম ও মুসলমানদের সহায়ক শক্তি এবং এ রোগের তাÐব লীলায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে বিশ্বের আনাচে কানাচে হাজার হাজার মানুষ এবং আক্রান্ত লক্ষ লক্ষ যা উদ্বেগ জনক হারে বেড়েই চলেছে। চিকিৎসক, গবেষক ও বিজ্ঞানীদের সকল প্রচেষ্টাই মুখ থুবড়ে পড়েছে সমুদ্র তীরের শিশু আইলানের মত। চিকিৎসকরা যেন অসহায় সাক্ষী বনে গেছেন করোনায় আক্রান্ত রোগীর কাছে। প্রশ্ন উঠেছে এ করোনা কি সত্যিই প্রাকৃতিক বা আল্লাহর সৃষ্ট নাকি মানব সৃষ্ট? বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বসহকারে দেখা হ”েছ। এমনকি চীনের বিরুদ্ধে মামলা করারও কথা উঠেছে বিশ্বব্যাপী। অভিযোগ উঠেছে চীন করোনা ভাইরাসকে জীবানু অস্ত্র হিসেবে পরিকল্পিতভাবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে। আবার চীন বলছে আমেরিকার কথা। যার অর্থ হলো এ করোনা মানব সৃষ্ট! এ রকম চিন্তা পুরোটাই যে নাস্তিক্যবাদ তাতে কোন সন্দেহ নেই। কারন- কেউ কুকুর, বাঘ, সিংহ বা অনুরুপ কোন হিং¯্র জীব পালন করে শিকারী বানিয়ে কোন কিছু শিকার বা কারো ক্ষতি করলে উক্ত হিং¯্র জানোয়ারটি তার অস্ত্র বলেনি কেউ বা তা মানব সৃষ্টও বলা হয়না। যেমনটি বলা হ”েছ করোনার বেলায়! অনুজীব হওয়ার কারনেই কি তার এত কৃতিত্ব? ধরে নেয়া হলো এ করোনা আমেরিকা, চীনা বা অন্য কোন দেশের ল্যাবে চাষ করে ক্ষমতা দেখাতে গিয়ে এটি ছড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স¦ার্থ হাসিল করতে গিয়ে বা অন্য কোন কারণে এ কাজ করলেই মানুষ কোন জীবের ¯্রষ্টা হতে পারেনা। এ ধারণা কেবল নাসিÍকদের দ্বারাই সম্ভব। কারণ করোনা বা অন্য কোন ভাইরাল বা ব্যাক্টেরিয়াল যে কোন জীবানু যেহেতু তার প্রাণ আছে সেহেতু তার নিয়ন্ত্রণ সরাসরি স্বয়ং আল্লাহর হাতে। যেমন আল্লাহ বলেন, ”আল্লাহ সব কিছুর ¯্রষ্টা এবং তিনি সব কিছুর দায়িত্ব গ্রহণ করেন” সুরা যুমার, আয়াত-৬২। মানুষ কোন জীবকে করায়ত্ব করে বা কৌশল করে ব্যবহার করতে পারে, তাই বলে এর পুরো নিয়ন্ত্রক হতে পারেনা যেমনটি করোনার বেলায়ও কেউ পারেনি। কেননা আজও পর্যন্ত করোনা যে কারো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। অতীতে এরকম আরো অনেক জীবানু ঘটিত রোগ মানব জাতিকে আক্রান্ত করেছে এবং মিলিয়ন-বিলিয়নের অধিক মানুষ মারা গেছে; কিš‘ সেগুলোকে আজ পর্যন্ত কেউ জীবানু অস্ত্র নাম দেয়নি। তাকেও মহামারী হিসেবেই দেখা হয়েছে। যেমন- প্লেগ, বসন্ত, কলেরা এবং ফ্লু জাতীয় আরো অনেক ভাইরাস এখনো সক্রিয়। কিš‘ আধুনিক যুগে এসে একই জিনিস অস্ত্র নাম ধারণ করল! আর ইসলাম এসব মহামারীকে মানুষের পাপের ফসল হিসেবেই দেখে। যেমন আল্লাহ বলেন,”জলে ও ¯’লে মানুষের কৃতকর্মের দরুণ বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে” সুরা রুম, আয়াত- ৪১। মহান আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, ”আল্লাহর নির্দেশ ব্যতিরেখে কোন বিপদ আসেনা” সুরা আত্ তাগাবুন, আয়াত-১১। এখানে স্পষ্ট করে মানুষ বা অন্য কোন জীবের ক্ষমতার সব সুযোগ রহিত করা হয়েছে।
ইসলাম সংক্রামক ব্যাধিকে যেভাবে দেখেঃ ইসলামে সংক্রামক ব্যাধির ব্যাপারে রয়েছে সুস্পষ্ট ধারণা। যা ঈমান রক্ষার পাশাপাশি এর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে। যা রাসুল (স) এর সুন্নতের মধ্যে চমৎকারভাবে ফুটে ওঠেছে। আরবের জাহিল মুশরিকরা সংক্রামক ব্যাধির ব্যাপারে এমন ধারণা পোষণ করত যে রোগ নিজেই ক্ষমতাবান অর্থাৎ রোগের এমন ক্ষমতা রয়েছে যাতে সে নিজে নিজেই আক্রান্ত করতে পারে। যেমনটি আজকের নাস্তিক্য চিন্তা লালন করে। কিš‘ নাস্তিশরা বলতে পারেনা কেন এমন হয়? এজন্য রাসুল (স) ঘোষণা করলেন, ”সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই” বুখারি ও মুসলিম। মূলত এ হাদিসে রাসুল (স) জাহিলি যুগের সে ভ্রান্ত বিশ্বাসের অপনোদন করতেই এমন ঘোষণা দিয়েছেন যে সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই; মূল ক্ষমতা হলো আল্লাহর হাতে। তিনি যাকে ই”ছা তাকে রোগর দ্বারা আক্রান্ত করেন এবং যাকে ই”ছা মুক্ত রাখেন। এক ব্যক্তি সংক্রামক রোগে আক্রান্ত উটের কারণে পুরো পাল আক্রান্ত হওয়ার প্রশ্ন তুললে রাসুল (স) উত্তরে বলেন, ”তাহলে প্রথম আক্রান্ত কাকে স্পর্শ করেছিল”? আহমদ ও তিরমিযি। কিš‘ ইসলাম রোগের ক্ষমতায় নয় বরং আল্লাহর ক্ষমতা ও তাকদিরে বিশ্বাস করে। সুতরাং রোগের বা মানুষের ক্ষমতায় বিশ্বাস করা সম্পূর্ণ জাহিলি আক্বিদা। এদসত্তে¡ও সংক্রামক রোগের ব্যাপারে রাসুল (স) সতর্ক করেছেন এভবে ”কোন এলাকায় মহামারী দেখা দিলে তোমরা সে এলাকায় প্রবেশ করবেনা এবং আক্রান্ত এলাকা থেকে যেন কেউ বের হয়ে না যায়” । কেননা আক্রান্ত হয়ে কোন ঈমানদার মারা গেলে সে ইসলামের দৃষ্টিতে শহিদ বলে গণ্য হয়। হযরত আয়শা (রা) হতে বর্ণিত; তিনি আল্লাহর রাসুল (স) কে সংক্রামক ব্যাধি প্লেগ রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাকে বললেন, এটা আযাব; আল্লাহ তায়ালা যার প্রতি ই”ছা করেন এটা প্রেরণ করেন। অত:পর আল্লাহ তায়ালা এটাকে মুমিনদের জন্য রহমত বানিয়ে দিলেন। ফলে যে ব্যক্তি প্লেগ রোগে তথা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হবে এবং সে নিজ দেশে ধৈর্যসহকারে সওয়াবের নিয়তে অব¯’ান করবে সে জানবে যে আল্লাহ তার জন্য যা লিখে রেখেছেন সে তা ই পাবে অর্থাৎ মারা যাবে তবে সে শহিদের পুরস্কার পাবে” বুখারি ও মুনাদে আহমদ। দুনিয়ার সাধারণ নিয়মের কারণে মুমিন ক্ষতিগ্র¯’ হলেও আল্লাহ প্রতিদান দিবেন; কারণ সে আল্লাহর সিদ্ধান্ত বলে মেনে নেয়কোন সৃষ্টির নয়। কিš‘ একজন মূর্খ সেটাকে ব¯‘ কেন্দ্রিকের বাইরে বুঝতেই পারেনা। কারণ একজন নাস্তিক মারা গেলে তার জন্য কোন পুরস্কার নেই; হয়তো সে হতাশা থেকেই এরকম হাজার বছরের পূর্বের জাহিলি বিশ্বাস প্রচারে অংশ নিতে পারে। ইসলাম এরকম বিপর্যয় আসার আগে থেকেই সজাগ থাকে অর্থাৎ শাস্তিযোগ্য অপরাধ থেকে বিরত থাকে বিপর্যয় আসার পরে নয়। যারা ইসামি জীবন যাপন করেন তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি স্পর্শ করেনা। আর অযাচিতভাবে এসে গেলেও পুরস্কারে ভূষিত হন। আজকের করোনা এবং অতীতের যেকোন ধ¦ংসাত্মক ঘটনার পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যায় কাফির, মুশরিক নাসিÍকরদের কারণেই তা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তারা শুধু নিজদের নয় অন্যদের জন্যও কষ্টের কারণ হয়েছে। এখনও পর্যন্ত করোনা দ্বারা অমুসলিমরাই সর্বাধিক আক্রান্ত। আশ্চর্যের বিষয় হলো এখনো পর্যন্ত কোন পশু-পাখি করোনা দ্বারা আক্রান্ত হয়নি। বিগত বছর গুলোতে বিশ্বব্যাপী উৎসব মুখর ও প্রতিযোগিতমূলকভাবে মুসলিম নিধন, মদের ছড়াছড়ি, জুলুম-নির্যাতন, খুন-গুম, সুদ-ঘুষ, যিনা, অনাচার-অবিচার দুনিয়া জুড়ে পাপের যে মহোৎসব তাতে বুঝা যায় মানুষ যেন আল্লাহকে ভুলেই গিয়েছিল। করোনা এসে সেটাই জানান দি”েছ আল্লাহ সময়মত পাকড়াও করেন। তাই নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশী হলে বিশ্ববাসীকে আল্লাহ এবং রাসুলের পথেই ফিরে আসতে হবে একনিষ্ঠ চিত্তে। মহান আল্লাহ মুসলমানদেরকে সকল বিপদ ও দুশ্চিন্তা থেকে হিফাযত করুন, আমিন।
মোঃ মোশারফ হোসেন
আরবি প্রভাষক ,
শহর গোপিন পুর ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা,
ঘাটাইল, টাংগাইল

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!