শিক্ষক ফেডারেশনের মিটিং থেকে অধ্যক্ষ জয়নুল আবেদীন গ্রেফতার:কবে হুশ ফিরবে আলেমদের?

শিক্ষক ফেডারেশনের একটি মিটিং থেকে অধ্যক্ষ জয়নুল আবেদীনসহ ৫জন আলেমকে গ্রেফতার

আরবিএন রিপোর্ট:

দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর অন্যতম তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা। বরাবরই ভাল ফলাফলের জন্য বিখ্যাত এই মাদ্রাসা। ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় নিজেদের জায়গা করে থাকেন এই মাদ্রাসার ছাত্ররা। এর পেছনের কারিগর হলেন মাদ্রাসাটির প্রিন্সিপাল মাওলানা জয়নুল আবেদনী। তাঁর সুদক্ষ নেতৃত্বেই তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে সেরা হিসাবে চিহ্নিত। অগুনিত ছাত্র ছাত্রী ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়সহ দেশে বিদেশে নামী দামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে এখান থেকে। ভাল ফলাফল এবং মানুষ গড়ার কারিগড় হিসাবে নেপথ্যে যার মূল ভুমিকা তাঁকেই পুলিশ হাতে দড়ি লাগিয়ে আদালতে হাজির করছে। এই দৃশ্য দেখার পর সহজেই অনুমান করা যায় জাতি হিসাবে আমরা কোন জায়গায় পৌছে গেছি!

খোজ নিয়ে জানা গেল সম্প্রতি একটি শিক্ষক ফেডারেশনের একটি মিটিং থেকে অধ্যক্ষ জয়নুল আবেদীনসহ ৫জন আলেমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদের মধ্যে রয়েছেন, অধ্যাপক ফজলুল করিম, তানজিমুল উম্মাহ নামক আরেকটি বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো: ইকবাল হোসেন প্রমূখ। এছাড়া বাড্ডা কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপালও ছিলেন এখানে। তিনি রমনা থানা জামে মসজিদের খতিব। তাই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বাকী ৫জনকে পরের দিন আদালতে হাজির করা হয় পুরাতন একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে। বিস্ফোরক আইনে গত ২৭ জুন তুরাগ থানায় দায়ের করা পুরাতন একটি মামলা এটি। এই মামলায় তাদের রিমান্ড চাওয়া হয় ৭ দিনের। দেশের স্বাধীন (???!!!) বিচার বিভাগের ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত তাঁদের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করলেন। এই হচ্ছে বর্তমান আদালতের সর্বশেষ স্বাধীনতার চিত্র। এখানে উল্লেখ্য এই আলেমদের একজন এবিএম ফজলুল করিম। যিনি ১৫ আগষ্ট হজ্জ্বের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার কথা ছিল। তাঁর সবকিছু টিকটাক। ১৫ আগষ্ট তিনি হজ্জ্বে রওয়ানা হবেন। এই অবস্থা তাদের নিজেদের গড়া শিক্ষক ফেডারেশনের মিটিং করছিলেন। সেখান থেকেই গ্রেফতার হয়ে এখন সবাই রিমান্ডে।

তাদের মিটিংয়ের স্থল থেকে জব্দ তালিকা দেখলে আরেকটু বিষ্মিত হতে হয়! ঘটনাস্থল ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটি। জব্দ তালিকায় রয়েছে একটি ব্যানার, কিছু ধর্মী পুস্তক। এর সাথে যোগ হয়েছে ২টি পেট্রোল বোমা। মানে মাদ্রাসার এই শ্রেষ্ঠ শিক্ষকরা পেট্রোল বোমা ২টি নিয়ে মিটিং করতেছিলেন! তাদের ব্যবহৃত ৬টি মোবাইলও রয়েছে জব্দ তালিকায়। এতকিছুর পর সবচেয়ে তাক লাগানো কাজটি হচ্ছে বয়োবৃদ্ধ পিন্সিপাল জয়নুল আবেদীনকে হাতকড়া লাগিয়ে দড়ি দিয়ে নেনে নেওয়া।

অবাক হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশের আলেম সমাজ নীরব। কারন তাদের গায়ে এনিয়ে কোন লজ্জা আঘাত করতে পারেনি। তারা দাওয়াত, শিরনী আর দোয়া দরুদ নিয়ে ব্যস্ত। সময় নেই প্রতিবাদ করার। আর বিশেষ করে নিজের গায়ে ত লাগেনি সেটা। তাই প্রতিবাদ করার দরকার আছে কি!

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!