কনস্যুলেটে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই খাসোগিকে হত্যা, পরে লাশ টুকরো-টুকরো:তুরস্কের প্রধান কৌঁসুলি

সাংবাদিক জামাল খাসোগি ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ কেটে টুকরো টুকরো করে সরিয়ে ফেলা হয়। পুরো হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। আজ বুধবার তুরস্কের প্রধান কৌঁসুলি এ কথা জানান। তুরস্কের পক্ষে এই প্রথমবারের মতো খাসোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হলো।

সৌদি আরবের প্রধান কৌঁসুলি শেখ সৌদ আল-মোজেব ইস্তাম্বুল ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা পর এসব কথা প্রকাশ করলেন তুর্কি প্রধান কৌঁসুলি ইরফান ফিদান। খাসোগি হত্যার বিষয়ে কথা বলতেই তুরস্ক গিয়েছিলেন সৌদি প্রধান কৌঁসুলি।

এএফপির খবরে বলা হয়, তুর্কি কৌঁসুলি ইরফান ফিদানের কার্যালয় থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের প্রধান কৌঁসুলি সঙ্গে তুর্কি কর্মকর্তাদের আলোচনায় ‘সুনির্দিষ্ট কোনো ফল’ না আসায় খাসোগি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত প্রকাশ করা ‘আবশ্যকীয়’ হয়ে পড়েছে। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হলো। বিবৃতিতে বলা হয়, খাসোগি কনস্যুলেট ভবনে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। খাসোগি তাঁর বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেতে ওই কনস্যুলেটে ঢুকেছিলেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সৌদি প্রধান কৌঁসুলির সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আমরা আসল সত্য প্রকাশ করার জন্য খোলা মন নিয়ে বৈঠকে বসি। কিন্তু বৈঠকে কোনো সুনির্দিষ্ট ফল পাওয়া যায়নি।

সৌদি আরবের প্রধান কৌঁসুলি শেখ সৌদ আল-মোজেব গত রোববার রাতে ব্যক্তিগত বিমানে ইস্তাম্বুল পৌঁছান। খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তিনি আলোচনা করেন তুর্কি তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গেও।

২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর থেকে খোঁজ মিলছিল না খাসোগির। শুরু থেকেই তুরস্ক দাবি করে আসছিল, রিয়াদ থেকে ইস্তাম্বুলে আসা ১৫ জন সৌদি চর কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে খাসোগিকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফেলেছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের জুনে যুবরাজ মোহাম্মদ ক্ষমতা নেওয়ার পর দেশ ছেড়ে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান খাসোগি। তিনি ওয়াশিংটন পোস্টে কলাম লিখতেন। সেখানে তিনি সৌদি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন।

খাসোগি নিখোঁজ হওয়ার ১৭ দিন পর প্রথমবারের মতো এক বিবৃতিতে খাসোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি আরব। তবে দেশটি প্রথমে খাসোগির মৃত্যুর ব্যাখ্যায় বলে, কনস্যুলেট ভবনে কয়েকজন সৌদি নাগরিকের সঙ্গে ‘হাতাহাতির’ ঘটনায় খাসোগি মারা যান। পরে ওই বিবৃতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ‘হাতাহাতির সময় মৃত্যু’ থেকে সরে আসে সৌদি। পরে দেশটির পক্ষ থেকে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে বলা হয়, খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে, তবে তা পূর্বপরিকল্পিত নয়। এ ব্যাখ্যাও ধোপে টেকেনি। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে যে খাসোগিকে ভেবেচিন্তেই খুন করা হয়েছে।

খাসোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি আরব দেশের ১৮ জন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ওই ১৮ জনকে বিচারের মুখোমুখি করতে তুরস্কে পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। তবে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে সৌদি আরব জানিয়েছে, নিজ দেশেই তারা এর বিচার করবে।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!