নির্বাচনী ইশতেহার:কথা দিচ্ছি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণ করবো : শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকলে সেগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। বলেছেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আরো সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণ করবেন। আগামী প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যত বিনির্মাণে নৌকায় ভোট প্রত্যাশা করেন তিনি। বাসস।

আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকারের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে রাজনীতিবিদ, শিল্পী, মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, বিদেশি কূটনিতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার জনগণের উপস্থিতিতে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।

শেখ হাসিনা ইশতেহার ঘোষণাকালে অতীতের ভুল-ভ্রান্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে আগামী প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যত বিনির্মাণে নৌকায় ভোট প্রত্যাশা করেন।

তিনি বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল হয়। কাজ করতে গিয়ে আমার বা আমার সহকর্মীদেরও ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকতে পারে। আমি নিজে এবং দলের পক্ষ থেকে আমাদের যদি কোন ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকে সেগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আরো সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণ করবো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাঙ্খিত ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।’

বাবা-মা, ভাই এবং আত্মীয় পরিজনকে হারানোর পর তার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই উল্লেখ করে শেখ হাসিনা তার ইশতেহার ঘোষণায় বলেন, ‘আমি রাজনীতি করছি শুধুমাত্র জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য, এদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এদেশের সাধারণ মানুষ যাতে ভালভাবে বাঁচতে পারে, উন্নত জীবন পায়, তাদের জীবন সমৃদ্ধশালী হয়, ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং বঞ্চনা থেকে তারা যেন মুক্তি পায়, তাদের জীবনটাকে আরো উন্নত করা- এটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য, একমাত্র কামনা।

যে আদর্শ নিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন সেই আদর্শ তিনি বাস্তবায়ন করতে চান উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আগামী ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা সাড়ম্বরে পালন করবো।’

তিনি বলেন, বাঙালি জাতির এই দুই মাহেন্দ্রক্ষণ সামনে রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই পারবে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে দিতে, পারবে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে।

‘স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তি এ সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলে তা হবে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গ্লানিকর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর কাছে আমার আকুল আবেদন আগামী ৩০ তারিখে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবার আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করুন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা নৌকায় ভেটি দিন। আমরা আপনাদেরকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জন করে দেব।’

আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ ইশতেহার 

 একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘আমার গ্রাম আমার শহর আর ‘তারুণ্যে শক্তি তারুণ্যে সমৃদ্ধি’ এই দুই শ্লোগানকে সামনে রেখে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইশতেহারে দেয়া হয়েছে ২১ অঙ্গীকার।

আজ মঙ্গলবার সকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে ইশতেহার প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, প্রকৌশলী, বুদ্ধিজীবী, তরুণ সমাজের প্রতিনিধি, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, দেশি-বিদেশি সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অঙ্গীকারগুলো হচ্ছে,
১. আমার গ্রাম, আমার শহর- প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ
২. তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি: তরুণ যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিকে রূপান্তরিত করা এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা।

৩. দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ
৪. নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা ও শিশুকল্যাণ
৫. পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা,
৬. সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূল
৭. মেগা প্রজেক্টগুলোর দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন
৮. গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা
৯. দারিদ্র্য নির্মূল
১০ সকল স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি
১১. সকলের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা
১২. সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার
১৩. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা
১৪. আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা- লক্ষ্য যান্ত্রিকিকরণ
১৫. দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন
১৬. জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা

১৭ ব্লু ইকোনোমি- সমুদ্র সম্পদ উন্নয়ন
১৮. নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা
১৯ . প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অটিজম কল্যাণ
২০. টেকসই উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
২১. সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!