ওআইসির পরবর্তী সম্মেলন বাংলাদেশে, আলোচনা হবে যেসব বিষয়ে

 

আগামী ৫ ও ৬ মে বাংলাদেশে ওআইসির ৪৫ তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন হতে যাচ্ছে। অনুষ্ঠেয় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে (সিএফএম) রোহিঙ্গা সংকট, মুসলিম উম্মাহর নানা চ্যালেঞ্জ, বিভাজন, অস্থিরতা ও দ্বন্দ্ব ইত্যাদি বিষয় এই সম্মেলনের মূখ্য বিষয় হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এমপি।

সম্মেলনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হবে। রোহিঙ্গাদের অধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়টি সিএফএম-এর প্রধান লক্ষ্য থাকবে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা, সামপ্রদায়িক প্রবণতা, ঘৃণা, কুসংস্কার এবং ইসলামোফোবিয়া, জোরপূর্বক বিচ্ছিন্নতাসহ ব্যাপক মানবিক সংকট মুসলমান সংখ্যালঘুদের গুরুত্ব ও মর্যাদা গুরুতরভাবে প্রভাবিত করছে। এ কারণে মিয়ানমারের রাখাইন মুসলমানসহ মুসলিম সমাজে বিদ্যমান দারিদ্র্য এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক পশ্চাদপদতার বিষয়ে ওআইসির অগ্রাধিকার রয়েছে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক ইস্যুগুলোর সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবের মাধ্যমে সিএফএম সমাধানের চেষ্টা করছে। এই সিদ্ধান্তগুলো এখন চূড়ান্ত করার অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি মাসে জেদ্দায় অনুষ্ঠিত স্থায়ী ফিন্যান্স কমিটি, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক বিষয়ক কমিশন (আইসিইসিএস) এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠকে মুসলিম উম্মাহর চলমান সমস্যা নিয়ে সমাধান এবং পন্থা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এই ইস্যুগুলো সমাধানের জন্য চারটি বৃহৎ পরিসরে খসড়া প্রস্তাব নিয়েছি- শান্তি, সংঘাতের সমাধান, মধ্যস্থতা এবং নিরাপত্তা, ওআইসি অর্থনৈতিক এবং উন্নয়ন বিষয়, সংখ্যালঘু এবং মানবিক বিষয় এবং ওআইসি’র সংস্কার। মানবিক ও মানবাধিকারের দিক থেকে রোহিঙ্গা সমস্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর দক্ষতা, গতিশীলতার জন্য ওআইসি’র এবং এর পদ্ধতির ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভ্রাতৃপ্রতিম কয়েকটি দেশসহ তাদের চিন্তাভাবনা এবং প্রস্তাবনা নিয়ে ওআইসি সংস্কারের জন্য কঠোর প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম করছে।

আর পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর বর্মীদের বর্বর নির্যাতন প্রশ্নে এবারই প্রথম একটি সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস করতে যাচ্ছে ৫৭ রাষ্ট্রের ওই জোট। সমপ্রতি জেদ্দায় মুসলিম বিশ্বের ওই জোটের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে প্রস্তাবের খসড়ার বিষয়ে একমত হয়েছে সব সদস্য রাষ্ট্র। কোনো ব্যতিক্রম না হলে ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হবে। সচিব এ-ও জানান, ওআইসির সংস্কার প্রশ্নে অনেক দিন ধরে আলোচনা চলছে। ঢাকা সম্মেলনে এটি মুখ্য আলোচ্য হওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।

বিস চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আবদুর রহমান। উদ্বোধনী সেশনে ওআইসির ইতিহাস বিষয়ে বক্তৃতা করেন ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

ওয়ার্কিং সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আকমল হোসেন, ওআইসির মানবাধিকার কমিশনের সদস্য রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ মহসিন, মো. তৌহিদ হোসেন পূর্ব নির্ধারিত বিষয়ের ওপর বক্তৃতা করেন।

উন্মুক্ত সেশনে প্রশ্ন, আলোচনা, মতামত ব্যক্ত করেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী, প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রদূত আমছা আমিন, ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট সালেহ আহমেদ প্রমুখ। দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাবেক ও বর্তমান সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, তরুণ গবেষক ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ   আওয়ার ইসলাম

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!