ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত: আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্দোলন

সীমাহীন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত
ঐক্যফ্রন্টের আলোচনা। ছবি: যুগান্তর

একই সঙ্গে তারা পুনর্নির্বাচনের জন্য আইনি লড়াইয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে। পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আগামী ৩ জানুয়ারি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সব বিরোধী দলের প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করবেন এবং সেখান থেকেই তারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে সোমবার রাতে জোটের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে এবারের নির্বাচনে জয়ী বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত প্রার্থীর শপথ নেয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপি চায় শপথ না নিতে, কিন্তু গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দু’জন চান শপথ নিতে। এ অবস্থায় বিষয়টি অমীমাংসিত রাখা হয়।

বৈঠক থেকে ড. কামাল হোসেন একটি বিবৃতি দেন। এতে তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ হল, তা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন এবং হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কীভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, তা এ দেশের মানুষসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার। কথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সরকারকে বিজয়ী দেখালেও প্রকারান্তরে হেরেছে বাংলাদেশ ও তার ১৭ কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে কবর রচিত হয়েছে আমাদের বহু আকাক্সিক্ষত গণতন্ত্রের। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কথিত নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দশ মাস ধরে কারাগারে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এক যুগ ধরে। তিন মামলায় সাজার রায় মাথায় নিয়ে তারেকের ফেরার কোনো আশা বিএনপির কর্মীরা দেখছেন না। এ অবস্থায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে স্থায়ী কমিটির নেতাদের নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই কার্যত দল চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু নির্বাচনে মাত্র পাঁচটি আসন পাওয়া বিএনপির সামনে এখন প্রধান বিরোধী দল হওয়ারও আশা নেই। ভোটে হেরে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতেই মূলত এ বৈঠকে বসে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। এর আগে বিএনপির শীর্ষ নেতারা গুলশানে বৈঠক করেন। পরে একই জায়গায় অনুষ্ঠিত হয় ২০ দলীয় জোটের নেতাদের নিয়ে বৈঠক। এরপর রাতে ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে তার চেম্বারে বৈঠক করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে সরকারের এত অত্যাচার, নির্যাতনের পরও নির্বাচনে গেলাম কেন। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, আমরা মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম, আমরা সরকার পরিবর্তনে বিশ্বাসী, তাই নির্বাচনে গেছি। শপথ নেবেন কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তো একাদশ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। নতুন নির্বাচনের দাবি করেছি। ফলে সংসদে যোগ দেয়ার প্রশ্নই আসে না।(যুগান্তর রিপোর্ট )

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!