এরশাদ প্রত্যেকটা মুভ নিয়েও আমাকে অবহিত রাখতেন:ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দুবে

প্রয়াত জেনারেল এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এদিন টুইট করেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে বিশেষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার অবদান ও বাংলাদেশে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য’ তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
মূলত একজন সামরিক শাসক হওয়া সত্ত্বেও ভারতীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে এরশাদের যে বেশ নিবিড় সম্পর্ক ছিল, দিল্লিতেও পর্যবেক্ষকরা তা একবাক্যে স্বীকার করেন – এবং তিনি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরেও সেই ঘনিষ্ঠতায় ভাঁটা পড়েনি।
ভারতের কোচবিহারে মি এরশাদের পারিবারিক শিকড় ও পরে সে দেশের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে তার সামরিক প্রশিক্ষণও হয়তো এই সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে।
১৯৮২ সালের মার্চ মাসে যে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করেন, তখন ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত মুচকুন্দ দুবে।
পরে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হয়ে অবসর নেওয়া মি দুবে এদিন বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, একজন সামরিক শাসক হওয়া সত্ত্বেও ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্ক বরাবরই যথেষ্ঠ ভাল ছিল – পরবর্তী প্রায় নবছরে যেটা বারবার দেখা গেছে।
মি দুবে জানাচ্ছেন, “শুরু থেকেই আমার সঙ্গে ওনার বেশ ঘনিষ্ঠতা ছিল। নিজের প্রত্যেকটা মুভ নিয়েও আমাকে সে সময় অবহিত রাখতেন তিনি – এমন কী ক্ষমতা দখলের আগেও জানিয়েছিলেন।”
“আর সে সময় আমাদের এ ছাড়া কোনও উপায়ও ছিল না, ঘটনাপ্রবাহ থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল তিনিই ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছেন। আর কে গণতান্ত্রিক, কে স্বৈরতন্ত্রী – ওগুলো তখন বিচার করার মতো অবস্থাও ছিল না।”
“এরশাদ সামরিক শাসক বলে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলব, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ঠিক ওভাবে চলেও না।”
“বাস্তবতা হল, তার আমলে সাঙ্ঘাতিক কোনও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি না-হলেও বড় কোনও সঙ্কটও কিন্তু হয়নি। আমি বলব, এরশাদ একটা ভিন্ন ধরনের সরকার চালিয়েছিলেন – যার সঙ্গে লম্বা সময় পর্যন্ত ভারত স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখতে পেরেছে।”
এরশাদের আগে জেনারেল জিয়াউর রহমানের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, সেটা এরশাদের সময় অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!