এখন কেমন আছেন মাহমুদুর রহমান?

রোববার কুষ্টিয়ায় বর্বরোচিত হামলার শিকার আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ডান চোখ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। রক্ত জমে গেছে ও ফুলে গেছে। মাথার ডান দিকে কানের উপরের আঘাত গুরুতর। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব মুহাম্মদ আবদুল্লাহ এ তথ্য জানান। উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার ওই ঘটনার সময় তিনি মাহমুদুর রহমানের সাথেই ছিরেন।

আবদুল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে জানান, গতরাতে অপারেশন থিয়েটারে মাথার ডান পাশে এবং ডান চোয়ালের কাটা স্থানে সেলাই দেয়া হয়েছে। আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা বাড়ছে। আঘাতের স্থানগুলিতে প্রচণ্ড ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছেন। সিটি স্ক্যানসহ অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চিকিৎসা চলছে। আরো বেশ কয়েক দিন হাসপাতালে থাকতে হবে। দুদিন পর মাথার ড্রেসিং পরিবর্তনে সময় বুঝা যাবে কত দিন লাগবে চিকিৎসায়।

আরো পড়ুন :

কুষ্টিয়ায় ছাত্রলীগের হামলায় রক্তাক্ত মাহমুদুর রহমান
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা 

আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কুষ্টিয়া আদালত চত্ব¡রে ছাত্রলীগের নৃশংস হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন। পুলিশি প্রহরায় এজলাস থেকে বের হওয়ার পর পুলিশের উপস্থিতিতেই প্রকাশ্যে তার গাড়িতে হামলা চালনো হয়। এ সময় কোর্ট চত্বরে থাকা পুলিশ অন্যদের মতো দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ ছিল। ৩০ মিনিটের তাণ্ডবে মাহমুদুর রহমানের শরীরের সর্বত্র আঘাতে ক্ষতের চিহ্ন ফুটে ওঠে। এত আঘাতের পরেও বলিষ্ঠ ও মানসিকভাবে সবল থেকে তিনি পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। মাহমুদুর রহমানের ওপর বর্বোরচিত হামলার পর পুলিশ তাকে আদালত এলাকার একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করে যশোরের উদ্দেশে যেতে সহযোগিতা করে। ঘটনার সময় পুরো আদালত চত্বরে ত্রাস ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছাত্রলীগের ছোড়া ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজন মারাত্মক আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।

রক্তাক্ত মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। আমি তাদের মোকাবেলা করে টিকে রয়েছি। তিনি বলেন, আমি দেশের জন্য লড়াই করে মরবো। বাংলাদেশ ও ইসলামের জন্য জীবন দেবো। আমি মৃত্যুর মুখোমুখি। কুষ্টিয়ার কোর্ট ইন্সপেক্টর ও ম্যাজিস্ট্রেট আমাকে আদালত থেকে বের করে গুণ্ডাদের হাতে লেলিয়ে দিয়েছে।
কুষ্টিয়া আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস কাবে বাংলাদেশ ডেমোক্র্যাটিক কাউন্সিল আয়োজিত আলোচনা সভায় আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও নাতনি টিউলিপ সিদ্দিকীকে নিয়ে বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্য ইউটিউবে দেখে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার গত বছরের ১০ ডিসেম্বর মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদি হয়ে মানহানি মামলা করেন। সেই মামলায় গতকাল মাহমুদুর রহমান আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক এম এম মুর্শেদ তা মঞ্জুর করে স্থায়ী জামিন দেন।

এ দিকে জামিন মঞ্জুর করায় অসন্তোষ প্রকাশ করে ছাত্রলীগ নেতারা। জামিন লাভের পর দুপুর ১২টা থেকে বিুব্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আদালত চত্বরে মাহমুদুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে তার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে মাহমুদুর রহমান আদালতের বিচারককে বিষয়টি জানালে তিনি এজলাসে বসে থাকার অনুমতি দেন। এ সময় তিনি এবং তার সঙ্গীরা বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে নিরাপত্তা দিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান; কিন্তু কেউ তার অনুরোধে সাড়া দেননি। এ ঘটনার ৪ ঘণ্টা পরে বিকেল সোয়া ৪টায় এজলাসে বসে থাকা মাহামুদুুর রহমানকে কুষ্টিয়া কোর্ট ইন্সপেক্টর বলেন আপনার জন্য নিরাপত্তা স্কট রেডি আপনি নিরাপদে যেতে পারবেন দ্রুত রুম থেকে বের হন। তিনি এ সময় কোর্ট ইনন্সপেক্টরকে বলেন, আমার গাড়ির চাবি তারা নিয়ে গেছে আপনি আমাকে কিভাবে নিরাপত্তা দিয়ে পাঠাবেন? তিনি বলেন, আপনি দ্রুত চলুন এ ছাড়া ভালো আর কোনো ব্যবস্থা হবে না। তিনি কোর্ট ইন্সপেক্টরের কথা বিশ্বাস করে এজলাস থেকে হেঁটে গেটের বাইরে বের হন। সেখানে থাকা একটি সাদা কারে তাকে উঠতে বললে মাহামুদুর রহমান তার সঙ্গীদের সাথে নিয়ে কারে উঠে বসার সাথে সাথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পেছন থেকে কারের ওপর ইট ও সেন্ডেল ছুড়তে থাকে। এ পরিস্থিতিতে কারটি একটু এগিয়ে জজ কোর্টের গেটের সম্মুখে পৌঁছানো মাত্র গাড়ির ওপর আক্রমণ শুরু হয়। কয়েক মিনিট গাড়ির ওপর হামলা চলে।

এ সময় বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবী তার কারটি ঘিরে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। জজ আদালত ছাড়িয়ে কুষ্টিয়া বার অফিসের সামনে পৌঁছলে সেখানে কয়েকজন আইনজীবী কারটির গতিরোধ করেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই কারের ওপর বৃষ্টির মতো ইট ছুড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে কয়েকজন লাঠি নিয়ে কারের পেছন এবং সামনের দিকে হামলা চালায়। এ সময় ওই কারে থাকা বিএফইউজে মহাসচিব এম আবদুল্লাহ ও ঢাকার একজন আইনজীবী বিপন্ন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন। আক্রমণের ভয়াবহতা এমন ছিল যে, কেউ তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারছিল না। এ সময় মৃত্যুর মুখে পড়া মাহামুদুর রহমান সঙ্গীদের নিয়ে পাশের একটি কক্ষে আশ্রয় নেন।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পরক্ষণে এ রুমের জানালা এবং দরজায় ইট দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এ সময় আদালত চত্বরে থাকা পুলিশ নিজেদের জীবন বাঁচাতে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছিল। ১৫ মিনিট একপেশি আক্রমণ শেষে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন ওই রুমে গিয়ে জানালা দিয়ে মাহামুদুর রহমানকে বেরিয়ে আসতে বলেন। এ সময় মাহামুদুর রহমান ওসিকে বলেন, কোর্ট ইন্সপেক্টর আমাকে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছাত্রলীগের গুণ্ডাদের হাতে দিয়ে পালিয়েছে, আবার আপনি কি সেফটি দেবেন? পরে তিনি সদর ওসির কথায় ওই রুম থেকে বের হয়ে এলে তাকে জজ কোর্টের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাহামুদুর রহমানকে কোনো চিকিৎসা এমনকি বসার জায়গা না দিয়ে নানা ওজুহাতে সময় ক্ষেপণ করছিলেন।

এ সময় মাহমুদুর রহমানের শরীরের বিভিন্ন অংশ দিয়ে অনর্গল রক্ত বের হচ্ছিল। ছাত্রলীগের এই বর্বর হামলার পরও তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি। বরং তিনি পুলিশ এবং জনতার উদ্দেশে সমুচ্চস্বরে বলেন, আমাকে হত্যার জন্য আজ ছাত্রলীগের গুণ্ডাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। আমি ৬৫ বছর বয়সেও এখন রক্তাক্ত অবস্থায় মনোবল দৃঢ় করে দাঁড়িয়ে আছি। কুষ্টিয়ার পুলিশ এবং প্রশাসন আমাকে কোনো নিরাপত্তা দেয়নি। এ সময় কয়েকজন আইনজীবী মাহমুদুর রহমানের সাথে অসদাচারণ করেন। বেশ কিছু সময় পর স্থানীয় এক সাংবাদিকের আহ্বানে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সে তিনি বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে যশোর বিমানবন্দরের উদ্দেশে কুষ্টিয়া আদালত এলাকা ত্যাগ করেন।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ কুষ্টিয়ার সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু জানান, মানহানির একটি মামলায় জামিন নিতে গতকাল রোববার কুষ্টিয়া সদর জুডিশিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মাহমুদুর রহমান। উভয় পক্ষের শুনানির পর বিচারক এম এম মোর্শেদ জামিন আদেশ দেন। দুপুর ১২টায় তিনি আদালত থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে আদালত ভবনের প্রতিটি প্রবেশ দ্বার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আটকে দেয়। এ সময় আদালতে মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী কুষ্টিয়া বারের সিনিয়র আইনজীবী প্রিন্সিপাল আমিরুল ইসলাম, বিএফইউজে মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীসহ অনেকে তার সাথে ছিলেন।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!