‘ইসলামী রাজনীতির ব্যবচ্ছেদ’ গ্রন্থ পর্যালোচনা

ফরিদ আহমদ রেজা
‘যে জাতি গুণের কদর করতে জানে না সেখানে গুণী জন্মায় না’ – ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ
ইসলামী রাজনীতির ব্যবচ্ছেদ: এহসানুল হক জসীম, পৃষ্ঠা ৩৫৩

বাংলাদেশের ইসলামি রাজনীতি নিয়ে অনেকে পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনা করলেও তা নিয়ে ‎সামগ্রিক পর্যালোচনা খুব একটা চোখে পড়ে না। ইতোপূর্বে ডক্টর তারেক ফজল বাংলাদেশে ‎ইসলামী রাজনীতির উপর একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ আমাদের উপহার দিয়েছেন।

এক বছরের ‎বেশী সময় হবে, প্রিয়ভাজন এহসানুল হক জসীম’র ‘ইসলামী রাজনীতির ব্যবচ্ছেদ’ বইটির খবর ‎ফেইসবুকের মাধ্যমে আমি জানতে পারি। তখন থেকেই আমার মধ্যে বইখানা পড়ার আগ্রহ জন্মে। দেশের অনেকের ‎কাছে বইটি চেয়েছি, কেউ কেউ পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত আমার এক ভাগিনা ‎সায়ীদ শাহীন রকমারী থেকে বইখানা কিনে আমার কাছে পাঠিয়েছেন।

নানা কারণে এহসানুল হক জসীমের বইটি গুরুত্বপূর্ণ। বইটি লেখকের এমফিল গবেষণা ‎অভিসন্দর্ভের পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত গ্রন্থরূপ। পাঁচ অধ্যয়ে বিভক্ত বইটিতে রাজনীতি, ইসলামী ‎রাজনীতি, রাষ্ট্র, ইসলামী রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র এসব বিষয়ের ‎উপর আলোচনার সাথে সাথে বাংলাদেশ ও বিশ্বের ইসলামী রাজনীতির বর্তমান অবস্থা আলোচিত ‎হয়েছে। বইটিতে বিশ্লেষিত হয়েছে ইসলামি দলগুলোর সীমাদ্ধতা ও ব্যর্থতার স্বরূপ। ‎বর্তমান সময়ে দেশে-বিদেশে ইসলামী রাজনীতির পক্ষ-বিপক্ষের অভাব নেই। কে কোন পক্ষে ‎থাকবেন সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু মতামত গ্রহণের পূর্বে বিষয়টা আমাদের বুঝা দরকার। ‎অন্ধভাবে কারো পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

ধন্যবাদ এহসানুল হক জসীমকে এ রকম একটি চমৎকার বই আমাদের উপহার দেয়ার জন্য। যারা ‎বই লেখেন এবং প্রকাশ করেন তাদের সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।

লেখক তাঁর ভূমিকায় বলেছেন, ‎‎‘বইটি লিখতে গিয়ে কাটাতে হয়েছে বহু বিনিদ্র রজনী।’ আর্থিক ক্ষয়-ক্ষতি এবং মানসিক চাপের ‎কথা তিনি না বললেও আমরা বুঝি। ‎আমরা অনেক সময় কারো বইয়ের খবর পাওয়ার পর লেখকের পক্ষ থেকে সৌজন্য কপির জন্যে ‎অপেক্ষা করি। নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে বন্ধু বা শুভানুধ্যায়ীর বই কিনতে চাই না। এ ‎অভ্যাস পরিত্যাগ করা দরকার। শুধু মৌখিক প্রশংসা না করে বই কিনে লেখককে উৎসাহ দেয়া ‎দরকার। ‎

পত্রপত্রিকা, ম্যাগাজিন এবং বই-পত্রের কাটতি দেখে কোনো দেশের শিক্ষিত সমাজের ‎মানসিকতার ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যায়। ইউরোপে বই এবং পত্রিকা লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হয়। ‎আমাদের পাশের দেশ ভারতেও বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত বইয়ের কাটতি প্রচুর। প্রমথ চৌধুরী এবং ‎মুজতবা আলী বাঙালির বইপড়া নিয়ে অনেক কথা বলেছেন, সে দিকে আমি যাচ্ছি না। আমাদের ‎সে অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ‎

শুধু কয়েকটি পাশ দিলেই শিক্ষিত হওয়া যায় না। পাশ দেয়ার পর যারা নিজের উদ্যোগে পড়ালেখা ‎অব্যাহত রেখে নিজেকে আরো সমৃদ্ধ ও উন্নত করার সাধনা অব্যাহত রাখেন তারাই প্রকৃত অর্থে ‎শিক্ষিত।

আমি বইটির বহুল প্রচার কামনা করি।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!