জামাতের উপর নির্যাতনের অন্তরালে : একটি বাস্তবধর্মী বিশ্লেষণ :মুনিম সিদ্দিকী

প্রায় শুনে থাকি, জামায়াত ঘরণার লোকজন বলে চলছেন, বিএনপির সাথে জোট বাঁধার জন্য জামাতের নেতাদের ফাঁসী হয়েছে। তাদের প্রতি জেল জুলুম করা হচ্ছে।

আসলে তত্ত্বটি আংশিক সত্য কিন্তু পুরা সত্য নয়। জামায়াতের নেতাদের ফাঁসী, তাদের দলের কর্মীদের জেল জুলুম চলমান বিশ্বের, বিশ্বকে “রাজনৈতিক ইসলাম” বিমুক্তির রাজনীতির অবিচ্ছেদ অংশ।

এসব ইসলাম বনাম এন্টি ইসলামী কনফেডারেট এর মধ্যের সংঘাত। এই কনফেডারেট শুরু হয়েছিল রাসুল সা: এর সময়ে, খন্দকের যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে, আর সেসময় কনফেডারেটে ছিল, মক্কার মুশরিক, মদিনার ইহুদী, মক্কা মদিনার আশে পাশের বেদুঈন মুশরিক গোত্র আর মুসলিমদের মধ্যে বর্ণচোরা মুনাফিকগণ।

আর আজকের কনফেডারেটে আছে, ধনতান্ত্রিক বিশ্বের দেশসমুহ, যার নেতৃত্ব মার্কিন আর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী। তেমন আছে সমাজতান্ত্রিক নাস্তিক্যবাদী দেশ রাশিয়া আর চীন, তেমন আছে হিন্দুত্ববাদী ভারত, তেমন আছে বুদ্ধবাদী দেশসমুহ, ইহুদীবাদীদেশ ইসরাইল, খৃস্টানবাদী দেশ, আর ইসলামী বিশ্বের বিভিষণ ধর্মান্তরিত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী গোষ্ঠি।

এই এন্টি মুসলিম কনফেডারেটের একমাত্র এজেন্ডা বিশ্বের বুকে যেখানে “রাজনৈতিক ইসলাম”র বিন্দুমাত্র ফুলিঙ্গ দেখার সম্ভাবনা থাকবে, সেখানেই আক্রমণ চালিয়ে “ইসলামী রাজনীতি”র ভ্রুণকে ধ্বংস করে দেয়া।

তারা চায়না বিশ্বে আর একবার ইসলাম বিশ্বশক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করুক। কারণ একবার ইসলাম মদিনার মত ক্ষুদ্র নগরে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে দ্রুততার সাথে অর্ধেক পৃথিবী দখলে নিয়ে যায়। অর্ধেক পৃথিবী সাত শত বছর শাসন করে। তারা বিশ্বাস করে আবার ইসলাম সুযোগ পেলে সারা পৃথিবী দখল করে বসবে। তখন তাদের যাপিত মূল্যবোধকে বিসর্জন দিয়ে ইসলামী মূল্যবোধকে গ্রহণ করতে বাধ্য করা হবে।

যেভাবে আলজেরিয়ার রাজনীতিতে ইসলামী রাজনীতি দমন করা হয়েছে, যে ভাবে ফিলিস্তিনে হামাসদেরকে দমন করা হয়েছে, যে ভাবে মিসরে ব্রাদারহুদ আর মুরসীকে দমন করা হয়েছে, এইসব দেশে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে ইসলামী দলসমূহকে সরকার গঠন করতে দেয়া হয়নি।  ঠিক সেই ভাবেই বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতি করেন, সেই দলকে দমন করা হচ্ছে, তাদের নেতাদেরকে ফাঁসী দেয়া হয়েছে। তাদের কর্মীদেরকে জেলে দেয়া হচ্ছে।

এন্টি ইসলামী কনফেডারেটরা নিজদেরকে সভ্য জাতি, মানবাধীকারবাদী বলে জাহির করার জন্য যখন ইচ্ছা যাকে তাকে ধরে হত্যা নির্যাতন করতে পারেনা। প্রতিন্দ্বদ্বী দলের নেতাদেরকে হত্যা বা দলকে ধ্বংসকে আইনানুগ কাভার দিয়ে বিশ্বকে ধোকা দেবার জন্য কোন না কোন প্লট বানাতে হয়। আর এমন প্লট বানানো হয়, যাতে স্থানীয় মানুষেরজনের স্বার্থ, রাগ অনুরাগ, পূর্বের তিক্ততার জের, প্রতিবেশী দেশের স্বার্থ ইত্যাদির সমাবেশ থাকে। যাতে এইসব দমন আর হত্যার একটি আইনানুগ চরিত্র দাঁড় করানো যায়।

আমাদের প্রতিবেশী ভারত একটি হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র, মুসলিমরা খণ্ড বিখন্ডে বিভক্ত,পরস্পরের মধ্যে হানাহানিতে রত জাতিকে একত্র করে অখণ্ড ভারত সৃষ্টি করেছিল, ৭০০ বছর শাসন করে ভারতকে সাজিয়েছে, উন্নত করেছে ভারতের মানুষের জীবন মান, তারপরও এই রাষ্ট্রের ব্রাহ্মণ্যবাদী শক্তি ইসলামকে একটি আগ্রাসী ধর্ম মনে করে, ইসলামের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। মুসলিমদের ৭০০ বছর শাসনকালকে তারা গ্লানিময় মনে করে। সব সময় মুসলিম আর ইসলামের ক্ষতি করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ১৯৪৭ সালে অখণ্ড ভারতকে খণ্ডিত করার জন্য ইসলামকে তারা দায়ী করে।

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র কায়েমের প্রথম দিন থেকে একদিকে তারা মুসলিম রাষ্ট্রকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রচেষ্টা শুরু করে।অন্যদিকে উপমহাদেশের আঞ্চলিক শক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা শুরু করে। ভারত আয়তনে পাকিস্তানের চেয়ে বিশাল হলেও ভারতের পূর্ব পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তানের অবস্থান থাকায় বিশ্ব শক্তিদের কাছে পাকিস্তানের মত সমান গুরুত্ব পাওয়াকে তারা মেনে নিতে পারেনি। তাই যখন ই পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চল, পুর্বাঞ্চলে ১৯৭১ সালে আত্মঘাতী গণহত্যা চালিয়ে বসে, ভারতের কাছে ছিল সে ঘটনা পাকিস্তানকে ঘায়েল করার অপূর্ব মোক্ষম সুযোগ। এই সুযোগ হয়তো হাজার বছরে পাওয়া যাবেনা । ভারত এই সুযোগ কাজে লাগায়।

বাংলাদেশকে তো সিকিম হায়দরাবাদ, জুনাগড় আর কাশ্মীরের মত হজম করতে পারবেনা, তার বদলে তারা স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ আর ট্রেনিং দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সার্বিক সহযোগীতা করে, পরিশেষে সরাসরি সামরিক আক্রমণে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক নতুন দেশ সৃষ্টি মাধ্যমে পাকিস্তানকে খন্ডিত করার মিশন সফল করে।

ভারত নিশ্চয় তার অর্থবিত্ত তার অস্ত্র তার সেনাবাহিনীর জীবনদান বিনা উদ্দেশ্যে করেনি। তারা বাংলাদেশকে গিলতে না পারলে, বাংলাদেশকে এমন একটি রাষ্ট্র হিসাবে রাখার পরিকল্পনা করে যা একান্ত তাদের তাবেদার রাষ্ট্র হিসাবে থাকবে। এরজন্য মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তারা বেশ কিছু শর্ত প্রবাসী সরকারকে চাপ দিয়ে চুক্তি করে নিয়েছিল । তাদের প্রধান শর্তের মধ্যে ছিল, বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতিকে সাংবিধানিক ভাবে বেআইনি ঘোষণা করে রাখতে হবে। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক চরিত্র ধর্মনিরপেক্ষ হতে হবে।

তাদের বৈষয়িক উদ্দেশ্য ছিল, বাংলাদেশ তাদেরই একমাত্র বাজার হয়ে থাকবে। ভারতের মুল ভূখন্ডের সাথে ভারতে উত্তর পূর্ব অংশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজিকরণ করতে বাংলাদেশের ভুখন্ড শর্তহীন ভাবে ব্যবহার করবে।
বাংলাদেশের নিজস্ব কোন সেনাবাহিনী থাকবেনা, বাংলাদেশের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি থাকবেনা। মুসলিম দেশ সমুহের সাথে সখ্যতা থাকবেনা।

বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবেনা, যার ফলে ভারতের এই খাতে বছরে কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

বাংলাদেশ থেকে যেন আর কোন হিন্দু ভারতে বাস করতে না আসে, ভারত ভাগের কারণে ভারতে চলে আসা হিন্দু জনসংখ্যা যেন বাংলাদেশে ফিরে যায়, তাদের ফেলে আসা জায়গাজমি ফেরত পায়। বাংলাদেশের হিন্দুরা যেন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা লাভ করে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরপর যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে এলেন তখন থেকে ভারত বুঝতে পারে যে, তারা যে কারণে বাংলাদেশ স্বাধীন করতে সাহায্য করেছিল, তা সফল হচ্ছেনা। বঙ্গবন্ধুর হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পূর্ণরূপে এবাউটার্ণ মারে। ভারতে আশা পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিল হয়ে যায়, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি তথা ইসলামী রাজনীতি চালু হয়ে যায়, মুসলিম বিশ্বের দেশসমূহের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক চালু হয়ে যায়। সংবিধানে বিসমিল্লাহ চালু, বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদ থেকে বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদ, আল্লাহর উপর আস্থা সন্নিবেশ করা হয়। বাংলাদেশ পুরাপুরি লাহোর প্রস্তাবের বাস্তবায়িত দেশে রূপান্তরিত হয়।

বাংলাদেশে ভারত বিরুধীদল ক্ষমতায় চলে আসে, পাকিস্তান চীনের সাথে তাদের সম্পর্ক পুনঃ স্থাপিত হয়। ভারত এইসব পরিবর্তনকে মেনে নিতে পারনি, বাংলাদেশের ভিতরে ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মত ঘটনা ঘটে, ভারতের বিদ্রোহী গোষ্ঠিকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হয়। আর এর জন্য ভারত বাংলাদেশের ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামকে দায়ী মনে করে। তারা বাংলাদেশ থেকে ভারত বিরুধীতার বীজ বিনাশ করতে জামায়াতকে রাজনৈতিক নির্মূল করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের পরপর যখন ভারতে আটক ১৯১ জন পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী সেনাকে ক্ষমা করে ছেড়ে দেন, তখন যাদের প্রিয়জন নিহত হয়েছিলেন, তারা সে সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেননি, যখনই বলার সুযোগ পেয়েছেন তখনই তারা বিচারের কথা তোলেছেন।

এই দাবিকে জাহানারা ইমাম পুনঃ প্রজ্জলিত করেন। বঙ্গবন্ধুর এই ক্ষমা আওয়ামীলীগকে দায়মুক্ত করতে পারেনি, এইটি একটি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়, আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক মিত্র এই জামায়াত নিধনের এই মোক্ষম সুযোগ কাজে লাগাতে তারাও শেখ হাসিনার সরকারকে চেপে ধরে।

ভারত জামায়াত নিধনের মোক্ষম বিষয় পেয়ে যায়, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ণে শেখ হাসিনা সরকারকে বাধ্য করতে ভারত ভারচুয়াল জগতে ব্লগকে আর্থিক সহায়তা দিতে থাকে। তারা অঢেল অর্থ বিনিময় করে ভার্চুয়াল পলিটিক্স এক্সপার্ট নিয়োগ করে, এরা ব্লগে ব্লগে তরুণ জেনারেশনকে জামায়াতের বিরুদ্ধে মোটিভেট করতে থাকে।

বাংলাদেশে জামায়াতের জন্য ৭১ ভুমিকা একটি গলার ফাঁস। তারা সেই ফাঁস দিয়ে জামায়াতকে ধ্বংস করতে তরুণ প্রজন্মকে উদ্দীপিত করতে সক্ষম হয়। ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া লোহার ভেরীকে আবার উত্তপ্ত করা হয়। তারা আওয়ামীলীগের কাছে লাগাতার জামায়াতের বিচার দাবি করে। বিশাল সংখ্যক তরুণ ভোটার, জনগণের বিরাট এক অংশ তাদের দাবীকে বাস্তবায়ন করার জন্য আওয়ামীলীগের কাছ থেকে নির্বাচনের আগে অঙ্গিকার আদায় করে নেয়।

শেষপর্যন্ত ব্লগারদের অনঢ় অবস্থান, ভারতের অভিলাষ, আন্তর্জাতিক কনফেডারেটরের মৌন সম্মতি ও এইদেশের প্রিয়জন হারানো মানুষদের সন্তুষ্ট করতে আর বাম, নাস্তিকপন্থীদের চাপে, বঙ্গবন্ধুকে বিচার না করার দায়মুক্ত করতে মানবতাবিরুধী বিচার শেখ হাসিনা চালু করেন। যার মাধ্যমে জামায়াতের নেতাদের ফাঁসী দেয়া হয়, জামায়াতকে বে আইনি দল ঘোষণা করা হয়, তাদের নেতা কর্মীদেরকে জেলে দেয়া হয়।

জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের দুর্ভাগ্য, তারা ৭১ বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের বিপক্ষে ছিল!

 কিন্তু তারা ছিলেন ঐসময়ের পার্শ্ব খলনায়ক। আসল খলনায়ক ছিল পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ১৯১ জন অফিসার। তাদের সহ খলনায়ক ছিল মুসলিমলীগের নেতাকর্মী,গুণ্ডা পাণ্ডা এবং কিছু সন্ত্রাসী।

আজ যদি পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের আর মুসলিমলীগের মানবতাবিরুধী অপরাধীদের বিচার করা হতো তাহলে হয়তো জামায়াতের সেই সময়ের হবু নেতারা রক্ষা পেয়ে যেতে পারতো।

পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী ১৯১ জন অফিসার পাকিস্তানে চলে গেল, তারা বিচার থেকে বেঁচে গেলো, মুসলিমলীগের মানবতাবিরুধী নেতারা বুড়া ছিলেন, তারা স্বাধীনতার পর জেল থেকে মুক্ত হয়ে রাজনীতি থেকে দূরে চলে যান। এবং স্বাভাবিক মরে গিয়ে মানবতাবিরুধী শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়ে যান, যারা মুসলিমলীগের যুবক কর্মী বা মুসলিমলীগ নেতার ছানাপোনা ছিলেন তারা কেউ আওয়ামীলীগে, কেউ বিএনপিতে কেউ জাতিয়পার্টিতে মিশে গিয়ে জান রক্ষা করেছেন।
কিন্তু জামায়াতিরা দু:সাহস দেখিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আভির্ভুত হয়ে যায়। শুধু আভির্ভুত নয় ভোটের রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। এরা আওয়ামীলীগের ক্ষমতায় থাকার পথে কাঁটা হয়ে যায়। যার কারণেই তাদেরকে সাইজ করতে তাদের নেতাদেরকে ফাঁসীর দড়িতে দণ্ডিত হতে হয়েছে।

নিশ্চয় জামায়াতের বন্ধুরা এতক্ষণে বুঝতে পারছেন একক শক্তির দ্বারা মানবতাবিরুধী বিচার সম্পন্ন হয়নি, এখানে বহুপক্ষের স্বার্থ কাজ করেছে,বহু পক্ষ তাদেরকে নির্মুল করতে সামিল হয়েছিল।

তাই যারা বলেন বিএনপির সাথে জোট বাঁধার জন্য জামায়াতের নেতাদের ফাঁসী হয়েছে, তাদের নেতাদের জেল জুলুম হচ্ছে তারা তা সঠিক বলছেননা।

জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মীদের মনে রাখতে হবে যে, বিএনপির সঙ্গ ছাড়লেও আওয়ামীলীগ জামায়াতকে কোলে তোলে নিয়ে চুমা দিবেনা। আওয়ামীলীগ কোন দিন চাইবেনা জামাতের সাথে জোট গঠন করতে, আওয়ামীলীগ আশা করেনা জামায়াতে ভোট তাদের বাক্সে পড়বে। কারণ জামায়াতের সাথে জোট গঠণ করলে তবলীগপন্থী, হেফাজতপন্থী আর পীরপন্থী ইসলামীদলগুলোর ভোট হারাবে আওয়ামীলীগ, সাথে সাথে সব বামপন্থী দলেরও ভোট হারাবে আওয়ামীলীগ।

আওয়ামীলীগ যা চায় তা হচ্ছে, আওয়ামীলীগ মনে করে তারা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ নামক দেশ সৃষ্টি করেছে, জামায়াত এই দেশ প্রতিষ্ঠায় সশস্ত্র বিরুধীতা করেছে, তাদের হাতে অনেক স্বাধীনতাকামী নিহত হয়েছিলেন। কাজেই বাংলাদেশে তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।তারা তাদের আদর্শিক রাষ্ট্র পাকিস্তানে চলে যাক। বাংলাদেশে বাস করতে হলে তাদের কাছে জামায়াতকে চিরদিন হাটু গেড়ে নতজানু হয়ে থাকতে হবে। ভোটের রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হবার দু:সাহস দেখাতে পারবেনা। কিন্তু ৭৫ এর পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে জামায়াত অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ভোটের রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হয়েগেছে, এরজন্য জামায়াতের ঠুটি চেপে ধরে বাধ্য করার যা যা করার সে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, জামায়াত ভোট আওয়ামীলীগকে না দিলে না দিবে কিন্তু জামায়াতের ভোট যেন বিএনপি না পায়। বিএনপি যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে।

আওয়ামীলীগের মিত্র বামপন্থী,নাস্তিক, হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠ চায়, বিএনপির ভোট যেন জামায়াত না পায়, কারণ বাম আর নাস্তিকরা চায়না বিএনপির ভোট লাভ করে জামায়াত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বলয়ে চলে আসে। কারণ বাম আর নাস্তিক হিন্দুবাদী গোষ্ঠি ভারতের বিটীম হিসাবে ১৯৪৭ সাল থেকে জাতির মনমগজ থেকে ইসলামী চিন্তা চেতনা বিমুক্ত করণের মিশনে কাজ করে চলছে, তাদের ভয় ইসলামী রাজনীতি করে এমন দল সমুহ, বিএনপির মিত্র থাকলে তারা তাদের আদর্শ প্রচার করতে রাষ্ট্রিয় শক্তি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে। যার ফলে তাদের মিশন, এই দেশের তরুণ মুসলিমদের মন মানসিকতা বদল করে ইসলামের প্রতি উদাসীন করার তাদের প্রচেষ্টার পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়বে। কাজেই বাংলার জমিন থেকে রাজনৈতিক ইসলামপন্থীদের উপড়ে ফেলাই বাম, নাস্তিক আর হিন্দুত্ববাদীগোষ্ঠীর প্রধান এজেন্ডা।

বি:দ্রঃ উৎস : https://www.facebook.com/munim.siddiqui/posts/10160846958905106

(প্রবন্ধে উল্লেখিত মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব )

 

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!