ইরানের ভয় দেখিয়ে সৌদিতে বোমা বেচার ধান্দা

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়িক ফায়দা লোটার ধান্দা করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের হামলার ভয় দেখিয়ে সৌদি আরবের কাছে বোমা বিক্রি করার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্পের প্রশাসন।

গতকাল বুধবার ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস মারফি এক টুইটবার্তায় এ কথা বলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্সমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, টুইটে ক্রিস মারফি লেখেন, ইরান হামলা চালাতে পারে—এমন ভয় দেখিয়ে সৌদি আরবের কাছে বোমা বেচতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। ইয়েমেনে সৌদি হামলায় বেসামরিক মানুষের ব্যাপক মৃত্যুতে কয়েক মাস ধরেই এ ধরনের বোমা বিক্রি বন্ধ রেখেছে কংগ্রেস।

ডেমোক্রেটিক এই সিনেটর এক টুইটবার্তায় সবাইকে সতর্ক করে বলেন, ‘যত দূর শুনেছি, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করতে চাইছেন ট্রাম্প। এতে কংগ্রেসকে আপত্তির সুযোগ না দিয়ে ইয়েমেনের কাছ থেকে ফেরত আসা অস্ত্রের বিশাল এক চালান সৌদি আরবে বিক্রি করা হতে পারে। এ সপ্তাহেই এমনটা ঘটতে পারে।’

কংগ্রেসের সহযোগীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অস্ত্র লেনদেনের ক্ষেত্রে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের বেশ কিছু বিধান রয়েছে। প্রেসিডেন্ট চাইলে দেশের জরুরি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেসের অনুমোদন না নিয়েই অস্ত্র বিক্রির অনুমতি দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা পুঁজি করে সৌদি আরবে আরও বেশি করে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে পারেন। সৌদিকে আরব অঞ্চলের নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র মনে করছে মার্কিনরা। সৌদি আরবে অস্ত্র ব্যবসা বাড়িয়ে ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি বাড়াতে চাইছেন ট্রাম্প।

এর আগে অভিবাসীদের ক্রমাগত আগমনকে ট্রাম্প দেশের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তখন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ করে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তুলে দেন তিনি। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা সবাই এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করলেও তাতে কান দেননি ট্রাম্প। এর ফলে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ট্রাম্পের পদত্যাগের দাবি ওঠে।

তবে সৌদি আরবে ঠিক কী ধরনের সরঞ্জাম বিক্রি করা হবে বা কবে এই লেনদেন ঘটবে—এ ব্যাপারে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ধরনের কোনো উদ্যোগ যে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বাধার সম্মুখীন হবে তা বলাই বাহুল্য। ট্রাম্পের অনুসারী রিপাবলিকানরা থেকে শুরু করে মার্ফির মতো ডেমোক্র্যাটরা সিনেটেও প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি মুষ্টিমেয় রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভেটো দিয়েছেন। ইয়েমেনের বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধে সৌদি-নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটকে সমর্থন না দেওয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ট্রাম্পের বিরোধিতা করেন তাঁরা। তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন উভয় দলের আইনপ্রণেতারা।

কংগ্রেসে ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী লিন্ডসে গ্রাহাম সিএনএনকে বলেন, কংগ্রেসকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে ট্রাম্প প্রশাসনকে তিনি আর সমর্থন দেবেন না। এ ব্যাপার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র:প্রথম আলো

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!