ইমরানের সাহসী পদক্ষেপে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে পাকিস্তান

Pakistan's Prime Minister Imran Khan, speaks to the nation in his first televised address in Islamabad, Pakistan August 19, 2018. Press Information Department (PID)/Handout via REUTERS

ক্রিকেটের ব্যাট হাতে বিশ্বজয়ী তিনি। তার নেতৃত্বেই বিশ্বজয়ের স্বপ্নপূরণ হয়েছিল পাকিস্তানের। ২২ গজের ক্রিকেটের মাঠ ছেড়ে ২২ বছর আগে যুক্ত হয়ে ছিলেন দেশের রাজনীতির মাঠে। সেখানেও সফল। দেশের ২২তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন ইমরান খান।

প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে এখন তিনি দেশকে কতটা সাফল্য এনে দিতে পারবেন, দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি কতটা স্বপ্নচূড়ায় পৌঁছাতে পারবেন- সেদিকেই দৃষ্টি বিশ্ববাসীর। তবে এরই মধ্যে সেক্ষেত্রেও বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলছেন পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তান ক্রিকেটের বরপুত্রখ্যাত ইমরান খান দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দিচ্ছেন দেশবাসীকে। চার-ছক্কার নিচে যেন কথাই বলছে না তার রাজনৈতিক ব্যাট। এ যেন তলানিতে থাকা পাকিস্তান এগিয়ে যাওয়ার নতুন তীর খুঁজে পেয়েছেন। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন দেশটির জনগণ।

রাজনীতির মাঠে আবার ব্যাট? নিশ্চয়! তার দলের মার্কা যেমন ক্রিকেট ব্যাট তেমনি আরও এক অদৃশ্য ব্যাট আছে ইমরানের। সেই ব্যাট হলো তার ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেম। ১৯৯২-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে বিশ্ব ক্রিকেটে যেভাবে নতুন পরিচয় দান করেছিলেন খাদের কিনারে থাকা পাকিস্তানকে, তেমনি দুর্নীতি আর বিলাস-ব্যাসনে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হালের পাকিস্তানকে বদলে দিয়ে নতুন পাকিস্তানের বার্তা দিলেন ইমরান খান।

৭০ বছরের পাকিস্তানের ইতিহাসে গণতন্ত্র কোনোভাবেই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। সব সময় সামরিক জান্তা দেশটির রাজনীতি-সমাজ ও অর্থনীতিতে জেঁকে বসেছে। কখনো দৃশ্যপটে কখনো দৃশ্যপটের নেপথ্যে থেকে সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করেছে পাকিস্তানকে।

প্রায় পালা করে ক্ষমতায় এসেছে আধা গণতন্ত্র ও সামরিক সরকার। এর ফলে পাকিস্তান রাষ্ট্রটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্বের নানা দ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে। রাষ্ট্রটি অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের।

২০০৮ থেকে ২০১৩ সালের একটি মেয়াদ বাদে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোনো দল পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি পাকিস্তানে। হয় সামরিক অভ্যুত্থানে সরে যেতে হয়েছে নির্বাচিত সরকারকে। না হয় বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটিয়েছে সামরিক বাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে দেশটিতে সামরিক বাহিনীর এ প্রভাব-প্রতিপত্তি রাষ্ট্রীয় চরিত্রই পাল্টে দিয়েছে পাকিস্তানের। ফলে পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচিত কোনো সরকার বা সরকারপ্রধান সামরিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারবেন না-এমনটা ধরেই নেয় বিশ্ব সম্প্রদায়। এমনকি পাকিস্তানের জনগণও এ সংস্কৃতিতে অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকার গঠন করে। বিতর্ক আছে এই নির্বাচন ও ইমরানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পেছনেও সেনাবাহিনীর প্রভাব কাঠানো নিয়ে। তাই একই পথ বা পদ্ধতির ভেতরে থেকেই কাজ করবেন ইমরান- এমনটাই মনে করছেন অনেকে।

কিন্তু কেউ কেউ আশায় বুক বাঁধছেন এ কারণে যে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে দুর্নীতিগ্রস্ততা, অসততা এবং জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের নজির ছাড়া রাজনৈতিক দল ও তাদের প্রধান নেতারা কোনো নজির স্থাপন করতে পারেননি। ফলে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা ও দলের প্রতি জনগণের অবিশ্বাস ও অনাস্থা জন্ম নিয়েছে। ইমরান খান রাজনীতিতে সেই আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছেন। খেলার মাঠ থেকে রাজনীতির মাঠ পর্যন্ত সাফল্যের সাক্ষর রাখা ইমরানকে গত ২২ বছর কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হয়েছে।

১৯৯৬-এ যখন মাত্র কয়েকজনকে নিয়ে ‘পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টি’ (পিটিআই) গঠন করেছিলেন ইমরান। তখন প্লেবয়, সেনাবাহিনীর পুতুল, রাজনীতির জোকার-এরকম কত নামেই না ডাকা হয়েছিল ইমরান খানকে। হাসাহাসি হয়েছিল সর্বত্র। কিন্তু কোনো অপবাদই ইমরানের উদ্যম কেড়ে নিতে পারেনি। তার ধৈর্য আজ তাকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মসনদে বসিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণের পর পরই জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ইমরান খান নতুন পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখালেন দেশের জনগণকে। আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত পাকিস্তানকে খাদের কিনার থেকে তুলে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। বিলাস-ব্যাসন নয়, কৃচ্ছ্র সাধনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ভিত মজবুত করার পথই বেছে নিলেন তিনি। আর সে কাজটি তিনি শুরু করেছেন নিজেকে দিয়েই।

গত ১৮ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে দিকগুলো ঘুরেফিরে উঠে আসছে তা হলো- ছোট আকারের মন্ত্রিসভা, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ব্যয় সংকোচন, সংসদ সদস্যদের ব্যয়-বিলাস সংকোচন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি।

মাত্র ২১ সদস্যের মন্ত্রিসভা
ইমরান খান আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন তার সরকারের মন্ত্রিসভার আকার হবে অত্যন্ত ছোট। মূলত, রাষ্ট্রীয় কাজের ব্যয় কমাতেই এ পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কথামতো মাত্র ১৬ মন্ত্রী ও পাঁচ উপদেষ্টা নিয়ে গঠন করেছেন তার মন্ত্রিসভা। গত ২০ আগস্ট এ মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেছে।

থাকবেন মাত্র ৩ কক্ষবিশিষ্ট বাসায় 
প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে বরাদ্দকৃত বিলাসবহুল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে থাকবেন না বলেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইমরান খান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পরিবর্তে সামরিক সচিবের জন্য নির্ধারিত বাসভবনে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি অবশ্য থাকতে চেয়েছিলেন বানিগালায় অবস্থিত নিজের বাড়িতেই। কিন্তু সেখানে থাকলে জীবননাশের হুমকি আছে বলে তাকে সতর্ক করেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। তাই তিনি বাধ্য হয়ে সামরিক সচিবের তিন কক্ষবিশিষ্ট বাসায় থাকবেন।

তার ভাষণে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের জন্য হেলিকপ্টার আছে, বিমান আছে। আমাদের বড় বড় গভর্নর হাউস আছে এবং সবগুলোই বিলাসবহুল। একদিকে আমাদের জনগণের জন্য খরচ করার মতো অর্থ নেই। অন্যদিকে আমাদের ঔপনিবেশিক মনিবরা যেভাবে জীবন কাটাতেন, সেরকম করে একশ্রেণির মানুষ বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছে।’

তিনি সরকারের উচ্চপদে আসীন থাকা ব্যক্তিদের খরচের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘দেখুন আমরা কীভাবে জীবনযাপন করি। দেখুন, প্রধানমন্ত্রীরা বিদেশ সফরে কত খরচ করে? তারা ৬৫০ মিলিয়ন রুপি কোথায় খরচ করেন? স্পিকার তার জন্য বরাদ্দকৃত ১৬০ মিলিয়ন রুপি কোথায় খরচ করেন?’

৫২৪ থেকে মাত্র দুজন কর্মী রাখবেন নিজের জন্য 
কৃচ্ছ্র সাধনের অংশ হিসেবেই ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ৫২৪ কর্মচারীর প্রায় সবাইকে ছাঁটাই করছেন। ঘোষণা দিয়েছেন এত কর্মী তার প্রয়োজন পড়বে না। তিনি মাত্র দুজন কর্মচারী রাখবেন তার কাছে। একজন প্রধানমন্ত্রীর জন্য এত কর্মী রাখার বিষয়টিকে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীনদের ঔপনিবেশিক মানসিকতার পরিচায়ক বলেই মন্তব্য করেছেন। তাদের সমালোচনাও করেছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৫২৪ কর্মীকে রাখা হয়। ইমরান মাত্র দুজন কর্মীকে রাখবেন। এর ফলে বাকিদের চাকরি ছাড়তে হবে।

নিলামে তুলবেন বুলেট প্রুফ গাড়ি
ইমরান খান জানিয়েছেন, পাকিস্তান বর্তমান আর্থিক সংকটে আছে। ২৮ লাখ কোটি টাকা দেনার বোঝা রয়েছে দেশটির। তাই তিনি অর্থের অপচয় রোধ করতে চান। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ৫২৪ জন পরিচারক, ৮০টা গাড়ি রয়েছে; যার মধ্যে বুলেটপ্রুফ গাড়ি রয়েছে ৩৩টি। তিনি জানিয়েছেন মাত্র দুটো বুলেটপ্রুফ গাড়ি রাখবেন। বাকি গাড়িগুলো নিলামে তুলবেন এবং নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেবেন। তিনি বলেন, আমার কোনো ব্যবসা নেই। আমার জীবনযাত্রাও সাদামাটা। তিনি পাকিস্তানকে একটি ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে চান।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা
পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই ইমরান খান দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম পাকিস্তান টিভি এবং রেডিও পাকিস্তানকে পুরোপুরি সম্পাদকীয় স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। এ খবর জানিয়েছেন পাকিস্তানের নতুন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ফাওয়াদ হোসেন চৌধুরী।

তিনি জানান, পাকিস্তান টিভির উপরে রাজনৈতিক সেন্সরশিপ বন্ধ করতে চান ইমরান খান। পিটিভি ও রেডিও পাকিস্তানের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তিন মাসের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন ইমরান খান। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর ‘সরকারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি’ হিসেবে দেখা হবে না বলে জানান মন্ত্রী ফাওয়াদ হোসেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইস্যুতেও স্পষ্ট কথা বলেছেন ইমরান খান। ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ও মার্কিনীদের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে পাকিস্তানের আচরণ কেমন হবে- তাও বলতে ভুল করেনটি দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী।

‘ওয়াশিংটনের উচিত ইসলামাবাদকে বন্ধু মনে করা ভৃত্য নয়’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, তার দেশ মার্কিন নীতি মেনে চলতে বাধ্য নয় এবং ওয়াশিংটনের উচিত ইসলামাবাদকে বন্ধু মনে করা ভৃত্য নয়।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইসলামাবাদে আমেরিকার ব্যাপারে তার সরকারের নীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

ইমরান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আফগানিস্তান থেকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে পাকিস্তানের সহযোগিতার মুখাপেক্ষী আমেরিকা। এ অবস্থায় পাকিস্তানকে নিজের ভৃত্য মনে করলে ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের সহযোগিতা পাবে না।

সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে আমেরিকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন, আফগানিস্তান যুদ্ধে পাকিস্তানের প্রায় ৮ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হলেও আমেরিকা ইসলামাবাদকে মাত্র ২ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও টেলিফোন করে ইমরান খানের সঙ্গে কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পর পাক প্রধানমন্ত্রী এ বক্তব্য দিলেন। ফোনালাপে ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন পম্পেও।

মার্কিন সরকার সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনা সদস্যদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়ার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ইসলামাবাদের প্রতি আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যেও কাজ করছে ওয়াশিংটন।

ভারতের কেরালার বানভাসিদের সাহায্যে প্রস্তুত পাকিস্তান 
এদিকে ভারতের কেরালার বানভাসী মানুষদের সাহায্য করতে চান পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

বৃহস্পতিবার এক টুইট বার্তায় ইমরান বলেন, পাকিস্তানের মানুষদের পক্ষ থেকে কেরালার মানুষদের জন্য আমরা প্রার্থনা করছি। বন্যা বিধ্বস্ত মানুষরা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন।

পাক প্রধানমন্ত্রী আরও লিখেছেন, বন্যাদুর্গত মানুষদের জন্য যেকোনো ধরনের মানবিক সাহায্য করতে প্রস্তুত পাকিস্তান।

চলতি বছর কেরালায় নজিরবিহীন বন্যায় ইতোমধ্যেই মৃত্যুর সংখ্যা ৪শোতে পৌঁছেছে। ১৪ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। টানা বৃষ্টি ও বন্যায় রাজ্যের ৮টি জেলা প্রায় ভেসে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখন পর্যন্ত ২০ হাজার কোটি টাকা। এরকম এক অবস্থায় কেরালা সরকার কেন্দ্রের কাছ থেকে ২ হাজার ৬শ কোটি টাকা সাহায্য চেয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র ৬শ কোটি টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এদিকে, বিদেশ থেকে সাহায্য নেওয়ার ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের। এমনটাই সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফ থেকে। সম্প্রতি একটি জল্পনা তৈরি হয়েছিল, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার কেরালাকে ৭০০ কোটি টাকা সাহায্য দিতে চায়। ওই কথা ওঠার পরই সরকার জানিয়ে দেয় কোনো বিদেশি সাহায্য নেবে না ভারত।

ফলে ইমরান খান সাহায্য করতে চাইলেও তা নেবে না ভারত। অর্থাৎ কেরালার মানুষের জন্য ইমরানের বার্তায় কোনো খুশির খবরই নয়। তবে বৈরি সম্পর্কের প্রতিবেশী দেশটির প্রতি ইমরান খানের বন্ধুত্বপূর্ণ এই মানসিকতা দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গতি পাবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ আগস্ট পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ইমরান খান। তার পরেই তিনি ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ভারত এক কদম বাড়ালে পাকিস্তান দুই কদম এগোবে। তবে ভারতকে সাহায্য করলে তার কতটা রাজনৈতিক ফয়দা হবে তানিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

শীর্ষনিউজ/এইচএস

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!