ইতিহাস থেকে ওসমানীর নাম মুছে ফেলা যাবে না:শততম জন্মবার্ষিকীর স্মরণসভায় বক্তারা

জেনারেল এমএজি ওসমানীর শততম জন্মবার্ষিকীর স্মরণসভায় বক্তারা বলেছেন, ওসমানী ছিলেন বাংলাদেশের ৫৫ হাজার বর্গমাইলের। অথচ আজ তাকে নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। একদল তাকে স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চায়। তা কখনো সম্ভব নয়। বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনতার সর্বাধিনায়ক আর ওসমানী ছিলেন মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক। জেনারেল ওসমানীকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। গতকাল রাজধানীর জাতীয় যাদুঘরের প্রধান হলে আয়োজিত মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি পরিষদ।

অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জাতীয় অধ্যাপক বিগ্রেডিয়ার (অব.) ডা. আব্দুল মালিক বলেন, জেনারেল এম এ জি ওসমানীর তিনটি গুণ ছিল। তার একটি ছিল- সময়ানুবর্তিতা, আরেকটি হচ্ছে তিনি যেটা বিশ্বাস করতেন সেটাই করতেন, তৃতীয়ত তিনি সব সময় জাতীয় স্বার্থ দেখতেন। ওসমানী দেশের জন্য ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। দেশপ্রেমের জন্য তিনি ছিলেন অসাধারণ মানুষ। এজন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে পদোন্নতি দেয়নি। জেনারেল ওসমানী বঙ্গবন্ধুকে সব সময় সম্মান করে গেছেন। বর্তমান প্রজন্ম যেন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত না থেকে অন্যের জন্যেও কাজ করে যায়। যেটা ওসামানী সাহেবরাও করতেন।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, জেনারেল ওসমানী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক। তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটা ব্যাটালিয়নের প্রধান ছিলেন। জেনারেল ওসমানী এক কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে বেড়ে উঠেছেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর স্বার্থে ছিলেন সব সময় অগ্রগামী। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দিন আহমেদ তাকে সামরিক বাহিনীর প্রধান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা নেননি। আমার মনে হয় তখন যদি তা গ্রহণ করতেন তাহলে হয়তো এমন বড় ট্র্যাজেডি ঘটত না।

অনুষ্ঠানে ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, আজকের ভোটারবিহীন সরকারের সিলেটের ১৯ জন এমপি, তিন জন মন্ত্রী, তিন জন মহিলা এমপি তার একজনও আসেননি। বঙ্গবন্ধু যেদিন বাংলাদেশে এসেছিলেন সেদিন ওসমানী সাহেব প্রথম তাকে রিসিভ করেছিলেন। আমরা যদি আমাদের ইতিহাস না গড়ি তাহলে কে গড়বে। আতাউল গনি ওসমানী বঙ্গবন্ধুর সহযোগী হয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিলেন। তিনি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠন করলে ওসমানী সাহেব আপস না করে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার কোনো শ্রদ্ধার অভাব ছিল না। আর তার নীতিতেও আপস করেননি।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান হাফিজ আহমেদ মজুমদার ওসমানীর স্মৃতিচারণ করে বলেন, ওসমানীর সঙ্গে আমার অনেকদিন মিলিত হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। তিনি যখন যশোর অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন তখন আমার চাচা ছিলেন যশোরের ডিসি। সেই সুবাদে আমি তখন থেকেই তার সান্নিধ্য পেয়েছি। তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল অনেক বড় মাপের। স্বাধীনতার জন্য তার ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। মানুষ তাকে অনেকদিন মনে রাখবেন তার কাজের জন্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওসমানী স্মৃতি পরিষদের প্রেসিডেন্ট মিসেস মাসুদা খাজা। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- মৌলভীবাজার এসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ডা. সিএম দেলোয়ার রানা, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসিরুদ্দিন মিঠু, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ-সম্পাদক সৈয়দ জগলুল পাশা, অনুষ্ঠানে মোনাজাত পরিচালনা করেন জেনারেল ওসমানীর সহচর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আব্দুল্লাহ বিন সাইদ।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!