ইতালিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশী নার্সের মৃত্যু, কোয়ারেন্টাইনে শিশু কন্যা

ইতালিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া বাংলাদেশী নার্স নাজমুন নাহার
বিশ্বে ছড়িয়ে পরা করোনা ভাইরাস মহামারীতে যখন সবাই আতংকিত , তখন মানবতার সেবায় নিজেদের বিলিয়ে দিয়ে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে গিয়ে বিশ্বে মারা গেছেন অসংখ্য স্বাস্থ্য কর্মী ।

ইতালির হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে মারা যান নাজমুন নাহার নামের ৪৫ বছরের এক বাংলাদেশী নার্স ।

তিনি ইতালিতে মহামারী করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে নিজেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন । তার দেশের বাড়ি ঢাকা বিভাগের গাজীপুর জেলায়।

গত ১৭ জুন (বুধবার) ইতালির মিলানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যান তিনি। ( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

জানা গেছে, তিনিই প্রথম কোনো বাংলাদেশি নারী যিনি ইতালিতে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এই নিয়ে মোট ১৪ জন বাংলাদেশি ইতালিতে করোনায় প্রাণ হারালেন।

তিনি বাংলাদেশের প্রিন্স মুসাবিন শমসেরের বেক্কেো কোম্পানি এবং ইতালির আদেক্কো কোম্পানির মাধ্যমে ইতালিতে নার্স হিসেবে আসেন ।

২০০৪ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ইতালিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নার্স নিয়োগ হয়। তাদের মধ্যে নাজমুন নাহার একজন ছিলেন।

মৃতের স্বামী বর্তমানে বাংলাদেশে আটকা পড়ে আছেন। আগামী ২৩ জুন একটি চ্যার্টার্ড বিমানে তার ইতালি ফেরার কথা রয়েছে।

ইতালিতে মহামারী শুরুর আগে তারা দেশে এসেছিলেন। নাজমুন নাহার ফিরে গিয়ে কাজে যোগ দেন। স্বামী পরে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও আর যাওয়া হয়নি।

নাজমুন নাহারের ৩ বছরের শিশু কন্যা তাদের ইতালির বাসায় কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। তাকে সরকারি ভাবে দেখাশোনা করা হচ্ছে।
ইতালির ভারেজ রিজনাল হাসপাতালে মৃতের লাশ সংরক্ষিত আছে।

তার অকাল মৃত্যুতে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

ফ্রান্স বাংলা/

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!