ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের প্রস্থান বা বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনা সংক্ষেপ

এম. আজাদ,প্যারিস।
BreXit কি ? 

British Exit বা যুক্তরাজ্যের প্রস্থান এর সংক্ষিপ্ত নাম হচ্ছে BreXit। এই শব্দটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন(EU) থেকে যুক্তরাজ্যের (UK) প্রস্থান আলোচনায় ব্যাপক ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

EU কি ?

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (EU) হচ্ছে ইউরোপের ২৮ টি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইউনিয়ন যা একে অপরের সাথে বাণিজ্য করে এবং তাদের নাগরিকদের সহজভাবে যাতায়াত,বসবাস এবং কাজ করার অনুমতি প্রদান করে।
যুক্তরাজ্য ১৯৭৩ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (EU) এর > ইউরোপিয়ান অর্থনৈতিক ইউনিয়ন (EEC) তে যোগদান করে।

Uk < EU থেকে বেরিয়ে আসতে চায় কেন ?

বিগত ২৩ জানুয়ারি ২০১৬ সালে ব্রিটেনে একটি গণভোট অনুষ্টিত হয় যাতে বলা হয়েছিল যে – UK ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন(EU) এ থাকবে নাকি বেরিয়ে আসবে ?
সেই গণভোটে (বেরিয়ে আসার পক্ষে ৫২% এবং থাকার পক্ষে ৪৮%) প্রস্থান এর পক্ষ বিজয়ী হয়।এরপর চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২৯শে মার্চ ২০১৯ যুক্তরাজ্য সময় রাত ১১টায় UK আনুষ্ঠানিকভাবে EU থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এই পর্যন্ত কার্যক্রমের কি কি অগ্রগতি হয়েছে ?

গণভোট ছিল কেবলমাত্র সূচনা এরপর থেকে যুক্তরাজ্য(UK) ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন(EU) এর বিভিন্ন দেশ এর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
দুই পক্ষের মধ্যে মূলত আলোচনা হচ্ছে “বিচ্ছেদ” এর চুক্তি নিয়ে, কিভাবে UK বেরিয়ে আসবে এবং বেরিয়ে আসার পরবর্তী করণীয় প্রসঙ্গে। এই চুক্তির নাম দেয়া হয় Withdrawl agreement (প্রত্যাহার চুক্তি)

কোন কোন বিষয়গুলোতে ঐকমত হয়েছে ?

এই প্রত্যাহার চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ যেসকল বিষয় নিয়ে আসা হয় :

– অংশীদারিত্ব ভাঙ্গার জন্য যুক্তরাজ্যে(UK) ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন(EU) কে ৩৯£ বিলিয়ন পাউন্ড প্রদান করতে হবে।
– যুক্তরাজ্যে(UK) ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন(EU) এর নাগরিক যারা দুই এলাকায় ই বসবাস করে আসছেন বা করবেন তার নতুন নীতিমালা।
– ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন(EU) থেকে বেরিয়ে আসার পর Northern Ireland ও Republic of Ireland এর সীমানা সুরক্ষা কিরখম থাকবে।

ব্যবসা বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা বহাল রাখার জন্য যুক্তরাজ্যে(UK) ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন(EU) এর মধ্যে the transition period নামে আরেকটি চুক্তি সম্পন্ন হয়। এতে করে যদি ২৯ মার্চ ২০১৯ সবকিছু ঠিক ভাবে সমন্ন হয় তাহলে এই the transition period এর ব্যাপ্তিকাল থাকবে ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ সাল পর্যন্ত।
Uk ও EU এর মধ্যে দীর্গমেয়াদি যে সম্পর্ক থাকবে তা নিয়ে আরেকটি ছোট চুক্তি রাজনৈতিক ঘোষণা যা political declaration নাম পরিচিত তা অনুমোদিত হয়। সত্যিকার অর্থে উভয়পক্ষই এই political declaration কে ক্ষণস্থায়ী হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছেন।

পরবর্তীতে কি হচ্ছে ?

এখন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন(EU) এর ২৭ টি দেশ Withdrawl agreement (প্রত্যাহার চুক্তি) ও political declaration (রাজনৈতিক ঘোষণা) এই দুটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর প্রদান করেন এবং UK প্রধানমন্ত্রী Theresa May নিজ দেশের পার্লামেন্টে এই যুক্তির পক্ষে সমর্থন আদায় করবেন।

UK পার্লামেন্ট কি এই চুক্তিপত্র অনুমোদন করবে ?

তিনি এই চুক্তির কিছু পরিবর্ধন EU পার্লামেন্ট থেকে নিয়ে এসে নতুন করে আবার UK পার্লামেন্টে নিয়ে আসার অঙ্গীকার করেন আর এ কারণে নিজ রাজনৈতিক দলের রোষানলে পড়েন এবং Mrs May দলীয় অনাস্থা ভোটে ৩১৭ ভোটার মধ্যে ২০০ ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রীত্ব পদে ঠিকে থাকার যোগ্যতা বহাল রাখেন।

এই চুক্তির উপর পরবর্তী ভোট আগামী ১৫ই জানুয়ারি ২০১৯ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যদি পার্লামেন্ট চুক্তি বাতিল করে তাহলে কি হবে ?

এই বিষয়টি এখনো পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে যে যুক্তরাজ্য(UK) কোন চুক্তি ছাড়াই (without a deal) ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন(EU) থেকে বেরিয়ে আসবে অন্যথায় UK প্রধানমন্ত্রীর হাতে আরো ৩ দিন অতিরিক্ত সময় থাকবে এই চুক্তির কিছু পরিবর্ধন EU পার্লামেন্ট থেকে নিয়ে এসে UK পার্লামেন্টে আবারো সমর্থন আদায় করার জন্য।

সত্যি কি ২৯শে মার্চ ২০১৯ UK বেরিয়ে আসতে পারবে ?

এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে এই চুক্তি পার্লামেন্টে অনুমোদিত হবে না।
১১ ডিসেম্বর ২০১৮ যে ভোট হওয়ার কথা ছিল কিন্তু UK প্রধানমন্ত্রী Theresa May চুক্তির পক্ষে সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হবেন না দেখে ভোট এর তারিখ বিলম্বিত করেন।

আইনে লিখা রয়েছে যে, যুক্তরাজ্য(UK) আগামী ২৯শে মার্চ ২০১৯ রাত ১১ ঘটিকার সময় EU থেকে প্রস্থান করবে।
কিন্তু যদি পার্লামেন্টে চুক্তি বাতিল হয়ে যায় এবং “No deal” (চুক্তি ছাড়া) অবস্থার সৃষ্টি হয় তাহলে আসলে কি হবে এ ব্যাপারে কোন রখম সঠিক কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়নি।

No deal মানে হচ্ছে যুক্তরাজ্য(UK) Withdrawl agreement (প্রত্যাহার চুক্তি) সাক্ষর করতে সক্ষম হয়নি।

মানে হল transition period এর মেয়াদ ছিল ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ সেটা অনিদৃষ্ঠ কালের জন্য অব্যাহত থাকবে এবং UK তাৎক্ষণিকভাবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন(EU) এর আইন প্রয়োগ বন্ধ করে দেবে।
UK সরকার আপাতত “No deal BREXIT” মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে।

(অভিবাসন নিয়ে থাকছে পরবর্তীতে )

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!