আল্লাহ মা-দেরকে কেনো আরেকটা হাত দেয়নি চোখের পানি মুছার জন্য?!?

পরিচিত, অপরিচিত অনেকেই জানতে চেয়েছেন স্লিপ এপনিয়া কীভাবে হলো, কেনো হয়।

সাধারনতঃ কম বেশী সব মানুষেরই হালকা পাতলা স্লিপ এপনিয়া থাকে।
সোজা ভাষায় স্লিপ এপনিয়াকে এক লাইনে বুঝাতে গেলে বলা যায়, রাতে ঘুমের মধ্যে আপনার ব্রেইনে যে একশ পার্সেন্ট অক্সিজেন ঢুকার কথা, তা বিভিন্ন ডিগ্রীতে না ঢুকা।
নব্বই পার্সেন্ট পর্যন্ত যদি ঢুকে, তাহলে সেই স্লিপ এপনিয়াকে এক্সেপ্ট করা যায়।
কিন্তু নব্বই পার্সেন্ট এর চেয়ে কমে গেলে তখন এটা মেডিক্যাল কন্ডিশান।
আমার স্লিপ এপনিয়াতে আমার ব্রেইনে ৬৯ পার্সেন্ট এর বেশী অক্সিজেন ঢুকে না।

ডাক্তার আমাকে সিভিয়ারিটিটা বুঝাতে আরেকটা কীসের যেন নাম্বার বলেছিলেন, যেটা সবার পাঁচ-এ থাকে। এটা যদি পাঁচ থেকে উঠতে উঠতে ত্রিশ এর ভিতর যায় তখন “সিভিয়ার” স্লিপ এপনিয়া।
ওটাই আমার ৪৯!
তার মানে আমারটা “এক্সট্রিমলি সিভিয়ার” স্লিপ এপনিয়া।

এর অন্যতম কারন আমার নাকের ভিতরের ন্যাচরাল গঠন। আল্লাহ আমার নাকের ভিতরে এমনভাবে চিকন করে দিয়েছেন যে আল্টিমেটলি হয়তো এটা হতোই।
কিন্তু যা হয়তো বুড়াকালে গিয়ে হতো, তা এখনই এত “এক্সট্রিমলি” “সিভিয়ার” স্টেইজে চলে আসার কারনটা বলা টা দরকার।

দরকার,
কারন, পার্সোনাল ইজ অলওয়েজ পলিটিক্যাল।
আজকে আমি একজন মাইগ্রেন্ট ফার্ষ্ট জেনারেশন মা হিসেবে যা ফেইস করে এসেছি এবং করছি, আমার মত লাখ লাখ মা আছে, হয়তো কোটি কোটি, শুধু যে আমাদের বাংলাদেশীরা যারা বিদেশে থাকে তারাই না, অন্য সমাজ অন্য কালচারের মাইগ্রেন্ট মা-রাও কম বেশী একই অবস্থার ভিতর দিয়েই যায়।
আমাকে এবং আমাদেরকে সমাজ এবং রাষ্ট্র কীভাবে কনস্ট্যান্টলি ইগনোর করছে, the way they are failing us,
এবং এর রেজাল্ট এ সমাজ এবং রাষ্ট্র নিজেই কীভাবে সাফার করছে,
তা যতদিন সমাজ এবং রাষ্ট্র রিয়েলাইজ করবে না,
ততদিন “সুস্থ এবং সুন্দর সমাজ গড়া”র যে স্বপ্ন তা স্বপ্নই থেকে যাবে।

আমার ব্যক্তিগত ধারণা,
এসব কিছুরই শুরু যখন আমার বড় মেয়ে প্রথম পেটে আসে।
সেসময় ডাক্তার প্রেগন্যান্ট হওয়ার কারনে আমার নোজ এন্ড চেষ্ট কনজেশ্চান অনেকটা মাইল্ড নিওমোনিয়ার মত হয়ে যাওয়ার পরও এন্টিবায়োটিক দেয়নি। যেহেতু আমি প্রেগন্যান্ট।
এর রেজাল্ট ছিলো শুয়ে ঘুমাতে পারতাম না।
মোটামুটি মেয়ে পেটে থাকার নয় মাসই বসে বসে পিঠের নীচে বালিশ ঠেস দিয়ে ঘুমাতে হতো।
শুলেই নাক বন্ধ হয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতো।

এরপর মেয়ে হওয়ার পর আরেক কেয়ামত!
মেয়ে প্রথম দিন থেকেই রাতে চল্লিশ মিনিট পর পর ঘুম থেকে উঠে! সারা রাত এই অবস্থা!
এমনিতেই ব্রেষ্ট ফীডিং বেবীরা রাতে বেশ কয়েকবার উঠে, কিন্তু ওরটা ছিলো এক্সট্রীম।
এই ডাক্তার সেই ডাক্তার দেখাই, কিন্তু সবারই একই কথা- প্রতিটা বেবীর ন্যাচরাল ফীডিং আর স্লিপিং এর প্যাটার্ন ইউনিক। সে চল্লিশ মিনিট পর পর উঠুক বা সারারাত একদম না ঘুমাক, টোটাল চব্বিশ ঘন্টায় সে যদি আঠারো থেকে বাইশ ঘন্টা সব মিলিয়ে ঘুমায়, তাহলে এখানে কিছু করার নেই।

মেয়ে তো দিনে ঘুমায়!
কিন্তু দিনে তো আমি পিএইচডি করি!
সেই দুইবছর প্রত্যেকটা দিন, এভরি সিংগল ডে, আমি সব মিলিয়ে দুই থেকে আড়াই ঘন্টাও ঘুমাতে পারতাম না।
কারন মেয়েদের বাবার তখন সি-এ পড়ালেখা, দুইটা চাকরি, আর নিজের বিজনিস দাঁড় করানোর চেষ্টা।
আমি একলা বলতে পুরাই একলা।
মেয়ে আর আমার পিএইচডি- এই দু’টোকে সামলাতে সামলাতে খালি ভাবতাম, জীবন কি এর চেয়েও কঠিন হতে পারে কখনো?!

কী সহজে লিখে ফেলেছি,
আর আপনিও কী সহজে পড়ে ফেলেছেন,
দুইবছর প্রত্যেকটা রাত চল্লিশ মিনিট পর পর ঘুম ভেংগে উঠার কথা!
আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ করছি,
দুই বছর না,
দুই মাস না,
দুই সপ্তাহ না,
স্রেফ দুই দিন,
হ্যা, স্রেফ দুই দিন দিনে না ঘুমিয়ে দুই রাত আপনি মোবাইলে এলার্ম সেট করে ঠিক চল্লিশ মিনিট পর পর ঘুম থেকে উঠে দেখুন,
তৃতীয় দিনে গিয়ে আমার এই স্ট্যাটাস পড়বেন।
তাহলে হয়তো খুব হালকা পাতলা বুঝতে পারবেন আমি কী বলতে চাচ্ছি।

আমার এখনো মনে আছে,
ঠিক মিরাকলের মত যেদিন মেয়ের দু’বছর হলো, ঠিক সেদিন রাতে সে তার জীবনে প্রথম না জেগে চারঘন্টা একটানা ঘুমালো!
পরদিন সকালে আমি খুশীতে পাগলের মত যাকে পেয়েছিলাম তাকেই বলেছিলাম, জানেন, আজকে আমি চারঘন্টা একটানা ঘুমিয়েছি রাতে!!!

কিন্তু তখন মেয়ে রাতে তিন/চারঘন্টা করে ঘুমাতে শুরু করলেও আমার পিএইডি’র লাষ্ট সেমিষ্টার!
সুপারভাইজার আগেই বলে দিয়েছিলো স্ট্যাটিষ্টিক্স এ বলে, প্রচুর পিএইচডি’র লাষ্ট পয়েন্টে এসেই হয় অনেকেই ফাইনালি কুইট করে, অথবা ডীভোর্স হয়ে যায়!!
উনার নিজের এক পিএইচডি স্টূডেন্ট’র দরজার বাইরে ঐ মেয়ের জামাই লিখে দিয়েছিলো বড় করে, “Dog inside! don’t enter! it will bark and bite!”
মেয়ে তখন চল্লিশ মিনিট ঘুমায় নাকি চারঘন্টা ঘুমায় তাতে কিছুই আসে যায় না তখন,
আমি পড়ার টেবিলে ল্যাপটপেই মাথা রেখে খালি পাওয়ার ন্যাপ নেই,
সেই পাওয়ার ন্যাপেই বাকী চব্বিশ ঘন্টা নিজেকে ঠেলে নিয়ে যাই!
ল্যাপটপের পাশেই মেয়ের ন্যাপি,
মেয়েকে খাওয়ানোও-ও সেই ল্যাপটপের উপরে বসিয়েই!
থিসিস তখন লিখে শেষ করতেই হবে, কারন স্কলারশীপ আর এক্সটেন্ট করবে না ইউনিভার্সিটি।

পিএইচডি শেষ হলো,
ভাবলাম যাক আস্তে আস্তে এখন তিনবছরে ঘুমের যে প্যাটার্ন পুরাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তাকে সাইজে আনা যাবে।
কিন্তু তখনই ছোটটা পেটে এলো।
এবং আল্লাহ’র কী লীলা খেলা,
মেয়ে যে পেটে এসেছে সেটাই বুঝেছি নাকের সিরিয়াস অবস্থা দেখে!!
একদম প্রথম দিন থেকেই সিরিয়াস সাইনাস ইনফেকশান!

একবার তো আর না পারতে রাত আড়াইটা বাঁজে একলা একলাই গাড়ী ড্রাইভ করে হসপিটালে গিয়ে হুমকি দিলাম, আমার নাক ঠিক করে দাও নাহলে আমি সুইসাইড করবো!
ওরা আমাকে হসপিটালে আটকে রাখলো,
দুনিয়ার স্পেশালিষ্ট দেখানো হলো,
যে লাউ সেই কদু!
লাভের লাভ হলো নতুন রোগ খুঁজে পেলো ওরা- অদ্ভুত নাম, “হাশিমোটো”- এক ধরনের থায়রয়েড কন্ডিশান।

নয়মাসই নাক ব্লক,
মুখ দিয়ে কনস্ট্যান্ট ঘন থুতু বের হয়,
সারা রাত মুখ হাঁ করে বসে বসে নিঃশ্বাস নিতে নিতে ঘুমাই,
হাতে এক হাতে টয়লেট টীস্যু রোল, কারন টিস্যু বক্স দশ মিনিটেই শেষ হয়ে যায়, আরেক হাতে পলিথিন সে টিস্যু ফেলার জন্য,
আর নয়মাসই অনবরতঃ বমি!
কখনো কখনো মনে হতো ফ্লোরে হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে বাথরুমে যাই বমি করতে,
শরীর আর চলে না!

এর মধ্যেই বড় মেয়ে তো আছেই,
ইউনিভার্সিটির চাকরি তো আছেই,
সমাজ-সংসার সবকিছু তো আছেই…

দেশ থেকে যারা আসতে পারতো একটু হেল্প করতে তারা এলো না (এজন্যে জীবনেও আমি তাদেরকে মাফ করবো না, মরলেও না)
আর যারা আসতে পারতো না কোনো ভাবেই তারা দেশ থেকে আমার কষ্টে হাউ মাউ করে কাঁদলেও আমার কী!
একটা তো মানূষ আমার পাশে ছিলো না আমাকে একটা গ্লাস পানি এনে দিবে বমি করার পরে মুখ কুলি করার জন্য।

জীবন যতকিছুই হোক থেমে থাকে না।
আমারো থেমে থাকেনি।
মেয়েদের বাবার তখন সিএ’র লাষ্ট সেমিষ্টারের সব কঠিন কঠিন পরীক্ষা। আর বিজনিসের অসম্ভব ক্রুশিয়াল একটা সময়। বিজনিস থেকে তখন একটা ঘন্টা নষ্ট করা মানেই এক সপ্তাহ পিছিয়ে যাওয়া।
কোনো রকমে শুধু মেয়ে হওয়ার দিন-টা সে বিজনিস থেকে ছুটি নিলো।

ঐ যে থেমে থাকে না কিছুই।
ছোটু হওয়ার পরদিন বাসায় ফিরে সারা বাসা ভ্যাকুয়াম করলাম।
হাঁ!
কী ভেবেছিলাম আমি নিজেকে?!
সুপার উইমেন?!
যদি জানতাম এই সুপার উইম্যান হওয়ার পরিনতি মাত্র চার বছর পরেই কী হবে,
তাহলে বাসা ভর্তি তখন যদি বড্ডার হাগু মুতুতেও ভরে থাকতো
তাহলেও আমি ছুঁয়েও দেখতাম না কিছু।
বিছানায় শুয়ে থাকতাম এটলিষ্ট চল্লিশ দিন।
জামাই বাচ্চা এবার বাঁচুক বা মরুক, যা ইচ্ছা তা হোক।

আমরা যারা মডার্ন(!) সময়ে বসবাস করি,
কত সহজেই আমাদের আগের জেনারেশনদের লিভিং উজডম/ এক্সপেরিয়েন্সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেই!
গ্রামে বাচ্চা হওয়ার পর মা-কে চল্লিশ দিন আঁতুড় ঘর থেকে বের হতে না দেয়াকে বলি কুসংস্কার!
অথচ একজন মা’র বডি হীল হওয়ার জন্য সে চল্লিশ দিনের রেষ্ট-যে কী ভয়াবহ, ভয়ানক, অসম্ভব দরকার,
তা আমার মত ভিক্টিম না হওয়া পর্যন্ত বুঝার কোনো উপায় নেই।

তবে চল্লিশ দিনের মধ্যেই দেশ থেকে পরিবার এসেছিলো।
কিন্তু না, আমাকে বা বাচ্চাকে হেল্প করতে না, পারিবারিক পার্টি দিতে।
দুইমাস ধরে চলেছিলো সে পার্টি।
বাসা ভর্তি গিজগিজ করেছিলো মানুষ, কিন্তু আমি এখনো এর উত্তর খুঁজে পাই না,
কী করে একটা মানুষও একদিনও আমাকে বলেনি ‘দাও ছোটটাকে দাও, বড়টাকেও দাও, দুইটাকে একটু রাখি ঘন্টাখানে, তুমিতো রাতেও ঘুমাতে পারো না, এখন অন্তত একটা ঘন্টা ঘুমাও’- কীভাবে সম্ভব যে বাসা ভর্তি এতগুলো মানুষ, কিন্তু একজন আল্লাহ’র বান্দাও আমাকে একটা দিনও ভুলেও এ ধরনের কোনো কথা বলেননি?!?!
মানুষ তো অমানুষ হওয়ার ও সীমা থাকে!

সবার সিম্প্যাথি তখন বাচ্চার বাবার দিকে!
ইশ, বিদেশের জীবনে দু’টো ছোট ছোট বাচ্চা, ছেলেটার বউ পিএইচডি করেছে, এখন ইউনিভার্সিটীতে চাকরি করে,
ইশ ছেলেটার কী কষ্ট!
তার বাসায় না আছে প্রপার খাওয়া দাওয়া, সারাদিন তো সে নিজের বিজনিস-এই খাটছে!
এরমধ্যে সে সিএ-ও করেছে!
আহারে না খেতে না খেতে, রেষ্ট না নিতে না নিতে ছেলেটার কী অবস্থা!!

আমি তখন দুই বাচ্চার একটাকে ঘুম পাড়িয়ে, আরেকটা বুকের দুধ খাওয়াতে খাওয়াতে মধ্য রাতে একলাই খাটে বসে বসে শব্দ ছাড়া হাউ মাউ করে কাঁদি!
বাচ্চাদের বাবাকে তো বাসা ভর্তি মানুষেরও টেইক কেয়ার করতে হয়!
সে কীভাবে আমার পাশে এসে বসবে এক বেলা?!
ঐ এক বেলা তো তাকে বেসিনে জমে থাকা থালা বাসন ধুঁতে হয়, বাসার মানুষদেরকে নিয়ে এখানে সেখানে বেড়াতে হয়,
এগুলোও তো তার পারিবারিক দায়িত্ব,
তার তখন সময় কোথায় আমাকে দেখে?!
আমি তো আছি তো, ভালই তো আছি, রাঁধতে হচ্ছে না, এর চেয়ে ভাল আর কী থাকবে এই মেয়ে?!

সারাজীবনে মরে গেলেও ভুলবো না,
বাচ্চা হওয়ার রক্ত বেরুনো শরীর থেকে বন্ধ হওয়ার আগেই ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টসদের ক্লাস নিতে নিতে এক হাতে ছোটু’র স্ট্রলার দুলিয়েছি যেন ছোটু স্ট্রলারে ঘুমিয়ে পড়ে,
আরেক হাতে বোর্ডে লিখতে লিখতে অবাক হয়ে ভেবেছি, আল্লাহ আমার মত মা-দেরকে কেনো আরেকটা এক্সট্রা হাত দেয়নি চোখের পানি মুছার জন্য?!?
এই যে একহাতে দুলাচ্ছি ছোটুর স্ট্রলার, দুলুনি বন্ধ হলেই তো সে উঠে যাবে ঘুম থেকে!
আরেক হাতে লিখা থামিয়ে আমি যদি এখন চোখের পানি মুছি,
তাহলে তো স্টূডেন্টসরা বুঝে যাবে আমি আওয়াজ ছাড়া কাঁদছি!!
আল্লাহ’র উপর অদ্ভুত অভিমান হতো তখন অদ্ভুত জিনিষ নিয়ে! যেমন, আরেকটা এক্সট্রা হাত না দেয়ার জন্য!
অথবা ঘুম কেনো আসতো সারাক্ষন তার জন্য!

ছোটুর নয়মাস বয়সে শেষ পর্যন্ত আর পারা গেলো না।
একাডেমিক লাইফ থেকে রিজাইন দিলাম পুরোপুরি।
কেউ জানেনা, যেদিন রিজাইন লেটার লিখেছি, সেদিনই আমি আসলে মরে গিয়েছিলাম।

মেয়ে প্রায়ই বলে,
মা তুমি একদম হাসো না! অনেক কম হাসো!

সে কথা শুনেও আমি কাঁদি!
যে আমি বিশ বছরে গিয়ে আম্মুর এগেইন্সটে অনেক বড় অভিযোগ ছিলো আম্মু কখনোই হাসে না,
আমার সাত/আট বছরের মেয়ে এখনই সে হুবুহু একই অভিযোগ করে!

যখনই সে বলে, মা তুমি কেনো এত রাগী মা? সারাক্ষন খালি বকো, – বুকটা কাঁচের মত চুরচুর করে ভেংগে যায় প্রতিবার। আমি স্পষ্ট সে কাঁচ ভাংগার আওয়াজ শুনি বুকের ভিতর থেকে।
আর প্রতিবারই সে কাঁচের আঘাতে বুকের ভিতর রক্ত ঝরে।
ব্যাথায় আমি আরো কাঁদি।
মেয়েদেরকে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদি।
আম্মুর বিরুদ্ধে যখন অভিযোগ করতাম, নিজে নিজেই কতবার প্রতিজ্ঞা করেছি, আমি পৃথিবীর সবচে’ হাসিখুশী মা হবো।
সেই আমি এখন ‘রাগী’ মা! ‘একদম হাসে না’ মা!
এমন আয়রনী, এমন ট্রাজেডী লাইফে আর কী হতে পারে!

কথা হলো,
এমন আয়রনী, এমন ট্রাজেডী যদি ভাবেন আমার একার; ভুল করবেন।
এই কাহিনী অলমোষ্ট বেশীরভাগ ফার্ষ্ট জেনারেশন মাইগ্রেন্ট মা-এর কাহিনী।
এর অন্যতম আরেকটা কারন কী জানেন?

কারন, আমাদের মত মা-দের চারপাশের প্রত্যেকটা মানুষ- তা নিজের মা, নিজের শ্বাশুড়ী, নিজের জামাই, নিজের বাবা, নিজের আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব- প্রত্যেকটা মানুষ আমাদের অবস্থাকে, আমাদের সিচুয়েশানকে সারাক্ষন “কম্পেয়ার” করতে করতে আমাদেরকে ডিমোরালাইজড করে ফেলে।
ব্যাখ্যা করে বলি।
বাচ্চা ঘুমাচ্ছে না?
কেনো আমাদের বাচ্চারাওতো ঘুমায়নি, এই নিয়ে আমরা কমপ্লেইন করেছি?!
জামাই সময় দিতে পারছে না?
তাতে কী? আমাদের জামাই রাতো যখন শরীরের দরকার তখন শুধু বিছানায় আসতো রাতের অন্ধকারে, এ ছাড়াতো ওদের চেহারাও দেখতাম না আমরা দিনের আলোয়! আমরা সার্ভাইভ করিনি?
শরীরের কষ্ট?
হা হা হা, এটা কোনো অভিযোগ হলো?! তোমার আগে পৃথিবীর সব মেয়েরাই বাচ্চা জন্ম দিয়েছে, তারাও এই কষ্টের ভিতর দিয়েই গিয়েছে, এটা নিয়ে এত অভিযোগের কী আছে?!
আর পারছো না?!
সে তো পারবেই না। তুমি আর তোমার মত মেয়েরা সারাক্ষন খালি অভিযোগই করতে পারবে। দেখো অমুকের বউ কীভাবে পারে? তমুকের বউ কীভাবে পারে? তুমিই খালি পারো না!

অথচ এই মানুষগুলোর কেউ, কেউ, একজনও, আল্লাহর ওয়াস্তে একজনও কখনোই আপনার দিকে তাকিয়ে দেখবে না- আপনি আর আপনার আগের জেনারেশন এক অবস্থায় নেই।
পৃথিবীতে এই পর্যন্ত
এই একবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত
পৃথিবীর কোনো ইতিহাসে
কোনো সমাজে
কোনো গোত্রে
কোনো গুহার ভিতরেও
এমন কোনো পারিবারিক সিস্টেম ছিলো না যেখানে মেয়েরা একলাই বাচ্চা জন্ম দিতো, একলাই বাচ্চা পালতো। (আমি রেয়ার ইন্ডিভিজুয়াল কেইস এর কথা বলছিনা)।
এমন কোনো সামাজিক সিস্টেম ছিলো না যেখানে একটা মেয়ের বাচ্চা হবে, অন্য এক/দুই/তিন এমনকি পুরো গ্রাম/গোত্র’র মেয়েরা কোনো না কোনো ভাবে তাতে ইনভল্ভ থাকবে না, উপস্থিত থাকবে না!

কিন্তু যত উর্বানাইজেশান হয়েছে, আমরা শহুরে হয়েছি, তত তা চেইঞ্জ হতে শুরু করেছে।
আমাদের মা’দের সময়ে তাও নানীরা থাকতো, ইন জেনারেল কথা বলছি, পাড়া প্রতিবেশী থাকতো, কেউ না কেউ থাকতো।
কিন্তু আমাদের সময়ে,
হঠাৎ যেন সব টু-মাচ নিউক্লিয়ার হয়ে গেলো!
বিশেষ করে আমরা যারা বিদেশে মা হয়েছি,
এমন অবস্থায় আমরা বাচ্চা জন্ম দিয়েছি যখন বিদেশী ভাষায় চিৎকার করতে হয়েছে যেন রুমে উপস্থিত মিডওয়াফরা বুঝতে পারে আমি কেনো চিৎকার করছি!
আর বিদেশের ম্যাটারনিটী স্ট্রাকচার নিয়ে লিখতে গেলে আমাকে আলাদা বই লিখতে হবে।
কারন বিদেশে যে সোশাল স্ট্রাকচারাল চেইঞ্জ তাও নতুন। অনেক নতুন।
তারা নিজেরাও এখনো জানেনা আসলে একজন মা’র জন্য কোনটা ভাল, কোনটা এলাউ করবে, কোনটা এলাউ করবে না।
একজন মাত্র সন্তান জন্ম দেয়া মা-কে তারা ঘুমুতে দেয় না। -বিশ্বাস হয়?
ঐ মা’র সাথে তারা রাত আট-টার পরে জামাই কেও থাকতে এলাউ করে না।
সেই মা, আর তার সদ্য জন্ম নেয়া বাচ্চা।
এবার বাচ্চা কাঁদুক, হাগুক, যা ইচ্ছা তা করুক, ঐ মা-কেই তা পরিষ্কার করতে হবে। বাচ্চার কান্না থামাতে হবে। বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে। তাকে ঘুম পাড়াতে হবে।
আপনি যত কলিংবেল চাপ দিবেন, ওরা ইচ্ছা করে দেরী করে আসবে। অনেক সময় আসবে না।
কারন ওরা আপনাকে স্বাবলম্বী করতে চায়।
আপনি বাচ্চা হওয়ার ইমিডিয়েট পরেই ত্রিশ মিনিটের ভিতরেই আপনাকে বলবে ‘যাও শাওয়ার নিয়ে আসো’!
এ যেন আমি এখন বাচ্চা বিয়াইনি,
ডিসকো নেচে এসেছি!

বাচ্চা আজকে হয়েছে, সকালে হলে বিকেলে বলবে ‘বাসায় চলে যেতে পারো। এখানে থেকে তোমার আর লাভ নেই’।
বিকেলে হলে তারপরদিন সকালে বলে ‘যাও! যাও! আর কত থাকবা?’
কারন ওদের তো বেড খালি করতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ায় নার্স আর হসপিটাল ফেসিলিটিজ এর যে চরম সংকট- বিশ্বাস হয়?!
হবে না বিশ্বাস আপনাদের।
একমাত্র আমাদের মত মা যদি হতেন,
বিদেশে একলা একলাই বাচ্চা জন্ম দেয়া মা,
তাহলেই বুঝতেন অস্ট্রেলিয়াতে থাকি বলেই আমরা যে তুলার বিছানায় থাকি তা না, আমাদেরকেও যে কীসের ভিতর দিয়ে যেতে হয়, তা আমরাই খালি জানি।

চল্লিশ দিনের আঁতুড় ঘর আমাদের কাছে স্বপ্ন।
কেউ আমাদের বাচ্চাদেরকে একটা মিনিটের জন্য ধরবে আর আমি টয়লেট করতে যাবো, – স্বপ্ন।
কেউ বাচ্চাকে একটা রাত রাখবে আর আমি ঘুমাবো- স্বপ্ন
কেউ একটা বেলা রান্না করে দিবে, আমি শরীর থেকে মাত্র বের হওয়া এই বাচ্চাকে নিয়ে এক বেলা ফ্রেশ রান্না খাবো অন্য কারো- স্বপ্ন।
আর গোসল করবো একদিন মন ভরে সময় নিয়ে- হাহাহাহাহা!

কতদিন, ক-ত-দি-ন আমি দিনের পর দিন গোসল করিনি!!
রাতে গোসল করলেই নাকের সাইনাস ইনফেকশান শুরু হয়ে যায়, তাই রাতে বাচ্চাকে ঘুম পাড়িয়ে গোসল করার অপশনও আমার ছিলো না।
আমার কোমড় সমান লম্বা চুল,
যে চুল দেখে মেয়েদের বাবা হাঁ করে তাকিয়ে থেকেছিলো, ভাগ্যিস তুমি হিজাব পড়ো, নাহলে কত ছেলে এই চুল দেখে পাগল হয়ে যেতো!!
যে চুল নিয়ে নিজের গর্ব ছিলো,
আম্মু যে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে বলতো ‘তোর চুলের জন্য আলাদা অর্ডার দিয়ে রাবার বানাতে হবে, তোর চুল ধরে না এই রাবারে!’
যে চুল নিয়ে বান্ধবীরা বলতো তোকে আল্লাহ এতকিছু দিয়েছেন, এরউপর এত ঘন লম্বা চুলও দিয়েছেন! ফেয়ার না!
হল-এ থাকার সময় এক জুনিয়র বলেছিলো ‘আপু আপনি যদি হিজাব না পড়তেন তাহলে আপনাকে টিভিতে এড করার জন্য অফার দিতো অনেকে’!
-কেনো চুলের এত হিষ্ট্রী টানছি?
কারন ছোটূ হওয়ার পর নিজের বাঁচার তাগিদেই
যখন কোনো রকমে ডুবছি ভাসছি আবার ডুবছি ভাসছি
যখন দিনের পর দিন গোসল করতে পারি না
যখন দুই মেয়েকে নিয়ে পুরো খেই হারিয়ে ফেলেছি
টয়লেটে গেলেই বড়টাও কাঁদে ছোটটাও কাঁদে আর দ্রুত টয়লেট করতে করতে আমিও কাঁদি,
দিনের পর দিন গোসল না করায় চুলের বিশ্রী গন্ধে, চুলকানিতে নিজেই অস্থির হয়ে
এমনই এক সময়ে
একদিন চুল কেটে ফেললাম।
পার্লারের মহিলাটা কিছুতেই কাঁটবে না।
আমাকে শেষ পর্যন্ত ধমক দিতে হলো ‘আমি আপনাকে টাকা দিচ্ছি, আপনি চুল কাঁটবেন, সমস্যা কোথায় আপনার?’
মহিলাটা পারলে কেঁদেই দিচ্ছিলো চুল কাটার সময়।

আপনার কাছে কাহিনীটা কেমন লাগলো?
আমার কাছে নিজের এই কাহিনী অসম্ভব কষ্টের।
আমার একাডেমিক লাইফ স্যাক্রিফাইস করতে যতটা কষ্ট হয়েছিলো, এই চুল কাটতেও তার চেয়ে কম কষ্ট হয়নি।
কারন জানতাম, এইই শেষ।
আর কখনোই কেউ আর আমার ঘন চুলে মুখ ঢুকিয়ে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে নিতে বলতে পারবে না, উফ! চুলে কী শ্যাম্পু দিয়েছো?! এত চমৎকার ঘ্রান!

আচ্ছা আপনার কী মনে হয় এই যে আমাদের মত মেয়েরা এভাবে হারিয়ে যায়,
এভাবে একটা একটা স্যাক্রিফাইস
ছোট বড় স্যাক্রিফাইস
টিনি টাইনি বিট স্যাক্রিফাইস থেকে শুরু করে জায়ান্ট স্যাক্রিফাইস থেকে শুরু করে কনস্ট্যান্ট স্যাক্রিফাইস করতে করতে
এই যে আমার মত মেয়েরা, যারা বিদেশে ফার্ষ্ট জেনারেশন মা হয়,
আমরা যারা এভাবে হারিয়ে যাই,
আপনার কী মনে হয়?
কী ভাবেন আপনি?
কখনো কি আদৌ ভাবেন?

আপনারা যারা পলিটিক্স নিয়ে ব্যস্ত,
রাষ্ট্র নিয়ে ব্যস্ত,
কখনো কি ভাবেন রাষ্ট্রে যে মেইন ক্ষুদ্রতম ইউনিট পরিবার, এই পরিবারে মেয়েগুলো কেমন আছে?
এই মেয়েগুলো যদি ভাল না থাকে, তাহলে কি আপনাদের সন্তানেরা ভাল থাকবে?
তাহলে কীভাবে আশা করেন পরিবারগুলো ভাল থাকবে?
আর যদি পরিবার ভাল না থাকে, তাহলে রাষ্ট্র ভাল থাকে কী করে?!?

সেদিন একজন খুব ফ্রাষ্ট্রেটেড তিন বাচ্চার মা’র কথা শুনছিলাম।
এক পর্যায়ে সে বলছিলো ‘আমি যে কখনো মা ছিলাম না, এটাই আমি মনে করতে পারিনা! মনে হয় যেন সারা জীবন ধরে আমি শুধু মা!’
কথাটা শুনে আমার এত কষ্ট লেগেছিলো আমি ঐ রুম থেকে অন্য রুমে চলে গিয়েছিলাম নিজের কান্না লুকাতে।
একটা মেয়ের এই কথায় যে কী হাহাকার থাকে
কতটা কষ্ট থাকে
সে শুধু যাকে সাপে কাঁমড়েছে সেইই বুঝবে সাপের কাঁমড়ের ব্যথায় কী বিষ।

গত সপ্তাহে মেয়ের স্কুলের একটা ইভেন্টে সামহাউ মেয়েদের বাবা আর দুইজন ভাই কথা বলছিলেন।
কথা হচ্ছিলো বিভিন্ন ব্যাংক আর দেশের ফাইনানশিয়াল মার্কেট নিয়ে।
ওরা তিনজন কথার ভিতরে যে স্পেসিফিক ফিল্ড-রিলেটেড শব্দগুলো ব্যবহার করছিলো,
আমি বার বার ট্রেইস হারিয়ে ফেলছিলাম বুঝতে গিয়ে।
অনেক দিন পর,
অনেক অনেক দিন পর অসম্ভব মন খারাপ হয়েছিলো আমার।
যে আমি একসময় মেয়ে ফ্রেন্ডদের সাথে মিশতাম না খালি কাপড় চোপড় আর ফ্যাশন আর ছেলেদেরকে নিয়ে ফালতু কথাবার্তা বলে তাই,
ছেলেদের মধ্য থেকেও বেঁছে বেঁছে কিছু ছেলের ফ্রেন্ড হতাম যাদের সাথে আড্ডা দিলে আড্ডায় আমি কী বলছি বা তারা কী বলছে একজনের কথা আরেকজনের মাথার এন্টেনার উপর দিয়ে চলে যাবে না, এমন ছেলেদের সাথে;
সেই আমি এখন তিনজন ছেলের কথা বুঝতে বার বার স্ট্রাগল করছিলাম।
স্ট্রাগল না করাটাই কী অস্বাভাবিক না?
লাষ্ট কবে আমি একটা প্রপার আর্টিক্যাল পড়েছি পেপার পত্রিকায়?!
কবে?
কোন বছর?
কত যুগ আগে??

তুমি কী মিস করো সবচে’ বেশী?- কেউ যদি জিজ্ঞেস করে,
তাহলে ‘ঘুম’ এর পরেই বলবো পলিটীক্যাল আর ছেলেদের সাথে আড্ডা।
ওদের ক্যাজুয়াল আড্ডাতেও যে ইনফরমেশন এক্সচেইঞ্জ হয়, এই এক্সচেইঞ্জ, এই কথাবার্তাগুলো আমি অসম্ভব অসম্ভব অসম্ভব মিস করি।

এবং আমি জানি, আমার মত প্রচুর মেয়ে আছে যাদের অন্যতম ফ্রাষ্ট্রেশান তাদের এডাল্ট লাইফের এডাল্ট ইন্টারাকশানের অভাব।
এই মিস করাকে কীভাবে ব্যখ্যা করবেন আপনি?
কীভাবে বুঝবেন এই ফ্রাষ্ট্রেশানগুলো আমাদের বুকের ভিতরে কোথায় গিয়ে কাঁমড়ায়?
কতটা কষ্টে আমরা ভাংগি?
ভাংগতে ভাংগতে হারাই?
কীভাবে বুঝবেন?

তাই ‘স্লিপ এপনিয়া’ কীভাবে হলো, কীভাবে এই “এক্সট্রিমলি সিভিয়ার” পর্যায়ে এসে পৌঁছালাম, এর উত্তর দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।
কারন আমি এবং আমার মত বিদেশে ফার্ষ্ট জেনারেশন মাইগ্রেন্ট মা-রা, আমরা কীভাবে বাঁচি, কীভাবে হারাই, কীভাবে হারায়েও নিজেকে খুঁজি, – এটা যদি না বুঝেন,
তাহলে বুঝবেন না কেনো আমার স্লিপ এপনিয়া এমন এক্সট্রিম পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে।

আমি জানি অনেকেই বলবেন, এই মেয়ে নিজের সমস্যা খালি সমাজ আর রাষ্টের কাঁধে চাপায়।
আমি এ ধরনের মানুষদেরকে আশাও করিনা তারা আমি কী লিখেছি, কেনো লিখেছি তা বুঝবে।
আমি স্রেফ একটা কারনেই এত পার্সোনাল স্ট্যাটাস লিখি-
যারা সমাজকে নিয়ে কাজ করেন, আপনি ছেলে হোন বা মেয়ে, যারা দেশ এবং দুনিয়ায় পজিটিভ চেইঞ্জ আনতে আগ্রহী,
একটা বিষয় আপনাকে বুঝতে হবে-
every single personal story is a political story.
এই কাহিনীগুলোকে সাইড কাটিয়ে আপনি পলিটিক্স-এ ফিক্স করতে পারবেন না। সমাজকে ফিক্স করতে পারবেন না।
কোনো রাষ্ট্রের মেইন যে ফাউন্ডেশান/ বেইস, সেই পরিবারগুলোকে ফিক্স না করে আপনি রাষ্ট্রকে ফিক্স করতে পারবেন না।
Think about it.
আমাদের মত মেয়েরা যারা হারায়, হারাচ্ছি,
এর দায়ভার কার- এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার দায়ভার আপনার কাঁধে।
(Farzana Mahbuba FB wall)

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!