আরিফুলের বিজয়ে বিষাদ- বিব্রত বিএনপি

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী। দেশের অন্যান্য সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের ভরাডুবির পর সিলেটের বিজয়ে উত্ফুল্ল ছিল বিএনপি। নেতা-কর্মীরা মত্ত ছিলেন বিজয় উৎসবে। ঠিক এরকম সময়ে নিজদলীয় ক্যাডারদের হাতে খুন হয়েছেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক ফয়জুল হক রাজু। রক্তের রং বিজয়ের আনন্দকে করে তুলেছে বিষাদময়। ছাত্রদলের এই আচমকা হত্যাকাণ্ডে বিব্রত সিলেট বিএনপি।

এ ঘটনায় আহতদের দেখতে গতকাল সকালে ফের হাসপাতালে যান আরিফ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন। এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকা ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা কিছুদিন আগে ঘোষিত জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবি তোলেন। এ ছাড়া আরিফ-মিলনকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহত রাজুর চাচা দবির আলী। রাজু হত্যাকাণ্ড নিয়ে তার চাচা দবির আলী বলেন, ‘বিএনপি-ছাত্রদলের প্রতিহিংসার রাজনীতির বলি হয়েছে রাজু। যারা তাকে হত্যা করেছে, তাদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হোক। আমরা যেন ন্যায়বিচার পাই।’ রাজু হত্যাকাণ্ডে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছে বিএনপি। সিটি নির্বাচনে বিজয়ের আনন্দের রেশের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছে। এ ঘটনা দলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা। এ বিষয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সালেহ আহমদ খসরু বলেন, ‘এটি একটি মর্মস্পর্শী ঘটনা। এই ঘটনায় শুধু বিএনপি নেতারাই নয়, নগরবাসীও বিব্রত। ছাত্রদলের মধ্যে যে বিভ্রান্তি জন্ম নিয়েছে, এর মধ্যে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এই ঘটনা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। বিএনপিকে দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

নবনির্বাচিত সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দাবি করেন, ‘রাজু আমার জন্য নির্বাচনে কাজ করেছে। যারা আমার নির্বাচনকে সহ্য করতে পারেনি, তারাই প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এই হত্যার সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

এদিকে নিহত ফয়জুল হক রাজুর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বেলা ২টার দিকে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর লাশ নিয়ে হাসপাতাল এলাকায় বিক্ষোভ করেন বিদ্রোহী ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। পরে বিকাল ৩টার দিকে লাশ তার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের রাজনগর থানার শাহপুর গ্রামে রওনা দেন রাজুর স্বজনরা। বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রাজুকে দাফন করা হয়।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!