আধুনিকতা ও ইসলাম এবং আমাদের পশ্চাদপদ দৃষ্টিভঙ্গি

মাওলানা বদরুল বিন হারুন
ইসলাম সব কালেই ছিলো আধুনিক।ইসলাম যদি মানুষের পরিপূর্ণ জীবন বিধান হয়,তাহলে ইসলাম আধুনিক না হয়ে উপায় নেই।এইখানেই আমাদের আলেমগনের অনেকেই নারাজ।আধুনিক বলতে তারা মনে করেন আপনাকে পেন্ট সার্ট টাই পরতে হবে।আর তা করা যাবেনা।অথবা সার্ট পেন্ট পরলে আপনি ইসলামের ইমামতি করার অধিকার বঞ্চিত হবেন।তাই বাংলাদেশে কেউ আধুনিকতার কথা বলে ইসলাম চর্চার অধিকার মানে অনাধিকার চর্চা।
বাংলাদেশে ছাড়া বিশ্ব পরিবেশে অগণিত ইমাম,মুজতাহিদ,মুফাসসির স্কলার রয়েগেছেন যারা সম্পুর্ন আধুনিক।কিন্ত বাংলাদেশের মাটিতে এতোটা খাটি ইসলাম যে তাকে আমরা পাঞ্জাবি আলখাল্লার মধ্যে মুড়িয়ে রাখছি।ধরা যাবে না ছুয়া যাবে না ভাব।আধুনিক শিক্ষিতরা এর চর্চা শুরু করলেই একদল আলেম জলে ওঠেন।তারা তাদের এই ঠিকাদারিতে অন্য কেহ ভাগ বসানোর অপচেষ্টা করছে বলে মনে করছেন।

আধুনিকতা যদি হয় সভ্যতা,আবিষ্কার,যুগের চাহিদা,শিক্ষকা দীক্ষা,উন্নতি তাহলে কোরান হবে এর পথ প্রদর্শক,আর তার প্রশিক্ষকগন হবে সব চেয়ে আধুনিক।
প্রত্যেক নবী রাসুল ছিলেন তাদের যুগের সব চেয়ে আধুনিক।বলতে গেলে তাদের কার্যক্রম ছিলো অত্যাধুনিক।তাদের পোষাক ও ছিলো রুচিশীলতার প্রতিক।

মুসা আ এর পোষাক আজকের দিনে হতো আমাদের জন্য ভিন্ন।ইসা আ এর খাদ্যাভ্যাস আর আমাদের মধ্যে ফারাক ছিলো।মোট কথা প্রত্যেক যুগের নবী রাসুলগনের পোষাক,খাদ্যাভ্যাস,জীবন জীবিকা ভিন্ন হলেও তাদের ধর্মীয় লক্ষ্য উদ্দেশ্য ছিলো এক ও অভিন্ন।

অত এব।আমাদের সমাজের পোষাককে যদি ধর্মীয় লক্ষ্য উদ্দেশ্য বানিয়ে ফেলি।একেই ইসলামের প্রতিক বানাই।তাহলে ধর্মের মূল বিষয়কে পাশ কাটিয়ে অপ্রাসঙ্গিককে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলা হবে।আর এখানেই আজ সব সমস্যা।

ইসলাম ও সকল ধর্ম ছিলো সর্বাধুনিক।আর তার অনুসারীগণ ছিলেন আধুনিক।ইসলাম সার্বজনীন ও সর্বাধুনিক।চিন্তা চেতনায়।বিজ্ঞান মনষ্ক।তার প্রশিক্ষকগন ও হবেন আধুনিক ও বিজ্ঞান মনষ্ক।

ইসলামকে কোন অবস্থাতেই হারাম হালালের ফ্রেমে আবদ্ধ রাখা সঠিক নয়।ইসলাম হবে বিশ্বমানতার সমস্যার সমাধান।আর তাতে আজ উন্নত বিশ্বের সর্বোচ্চ আধুনিকতা না থাকলে কিভাবে ইসলামকে আমরা বিশ্বজনীন বলতে পারি?

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!